Form and Content in literary criticism

Every phenomenon or things has a certain content and is manifested in a certain form. Content is the totality of the components

সম্পাদকের কলমে

সম্পাদকের কলমে

Form and Content in literary criticism

Every phenomenon or things has a certain content and is manifested in a certain form. Content is the totality of the components

 ধর্ম-ঈশ্বর-ভাবনা ও বিচ্ছিন্নতাবোধ। -পঙ্কজ  ধর চৌধুরী।

ধর্মের স্বরূপ কি? মানবজাতির শৈশব অবস্থার কিছু মানসিক দুর্বলতা এবং তার থেকে উৎপন্ন বিশ্বাসই হচ্ছে ধর্ম। ধর্ম হচ্ছে পুরোহিত আর শাসক শ্রেণীর তৈরি ধোঁকাবাজি, যার সাহায্যে তারা তাদের পোষা ভেড়াগুলিকে নিজ কব্জার মধ্যে আটকে রাখতেন। মানুষের বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে আজ পর্যন্ত ধর্মের বিভিন্ন অংশের পরিবর্তন হয়েছে, নাম পাল্টেছে। কিন্তু আসল জিনিস পাল্টায়নি। শত শত অন্ধবিশ্বাস পোষণ আর মানুষের মানসিক দাসত্ব সমার্থক। কেবল ভাষা পাল্টেছে। ভূত-প্রেতওয়ালা ওঝাদের দেখলে আজকালকার শিক্ষিত বিশেষ করে বিজ্ঞান পড়া পণ্ডিতরাও নাক সিঁটকায়। কিন্তু সেই একই রং যখন নতুন সাজে সজ্জিত হয়ে বিয়োসফিক ইত্যাদি শব্দের সঙ্গে বিজ্ঞানের স্ট্যাম্প জুড়ে পরিবেশন করা হয় (যা থেকে আমাদের দেশের বিজ্ঞানের ম্যাগাজিনগুলোও মুক্ত নয়। উদাহরণস্বরূপ ‘উৎসমানুষ’ বিজ্ঞান পত্রিকা, তখন অনেক বাথ্য বাঘা চিন্তা বোধ বৃদ্ধিসম্পন্ন শিক্ষিত পণ্ডিত বিচার-বিবেচনাবুদ্ধি হারিয়ে ফেলেন।

মানুষের বুদ্ধির বিকাশ যখন একটি সাধারণ শিশুর মত ছিল তখন সে কন্যা, অপরিচিত স্থান, অন্ধকার, বিদ্যুৎ, আগুন-এগুলিকে ভয় পেত। আর এগুলিকেই সে দেবতা বলে কল্পনা করে নিল। পরবর্তীকালে রাজাদের প্রভাবে এগুলো সংসার নির্মাতা এক ঈশ্বরের সৃষ্টি করল। এভাবেই ঈশ্বরের উৎপত্তি। আসলে ঈশ্বর মানুষেরই মানসপুত্র। এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে ঈশ্বর বিশ্বাসের শক্তিতেই কত লোক পেয়েছিল আশা-ভরসা। কিন্তু এই বিশ্বাসের কারণেই মানুষকে সহ্য করতে হয়েছিল কত যাতনা আর লাঞ্ছনা। সভ্যতা-কলা-বিদ্যা এবং সবার ওপর মানুষ এ সবেরই প্রধান শত্রু ছিল ধর্ম। ধর্মের আগুনে পুড়ে ছারখার হয়েছিল হাজার হাজার পাঠাগার, সুন্দর, সুন্দর মূর্তি, চিত্রকলা। হাজার হাজার বিদ্যান মানুষকে গলা টিপে মেরেছে ধর্ম। মানুষের উন্নতির ধারাকে শত শত বছর ধরে আটকে রেখেছে ওই ধর্ম। হাজার হাজার নির্দোষ নারী-পুরুষ-শিশুকে হত্যা করেছে ধর্ম।

ধর্মের আগুনে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানী গ্যালিলিও গালিলিকে। ধর্মের বর্বরতাকে মানবজাতি কোনদিন ভুলে যেতে পারে না।

অনেকেই বলার চেষ্টা করেন-ধর্ম আর ঈশ্বর আগেকার মত ভয়ঙ্কর নেই। সত্যিই কি ধর্মের বিষদাঁত ভেঙে দেওয়াসম্ভব হয়েছে? আমাদের দেশেও তো ধর্মান্ধ মানুষগুলি খুন-খারাপি-দাঙ্গা করেই চলেছে এখনও। এ সবের মূল কারণ হচ্ছে আধিপত্য ও ধনসম্পদের প্রতি লোড। দুনিয়ার এগিয়ে চলার গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের চলতে। হবে। ধর্ম ও ঈশ্বর আমাদের গতিকে রুখবার চেষ্টা করে। আমরা যদি চলার পথে থমকে দাঁড়াই, তবে কি সংসারের গতির চাকা আমাদের জন্য অপেক্ষা করবে? আর্থিক সমস্যার সমাধানের যথাসাধ্য বিরোধিতা করে ধর্ম। যাঁরা সমাজের কল্যাণ চান তাঁরা সাম্যবাদকে সমর্থন করেন। যাঁরা ব্যক্তিপাত আর্থিক স্বার্থকে অক্ষুন্ন রাখার পক্ষপাতী তাঁরা পুঁজিবাদকে সমর্থন করেন। পুঁজিবাদ নানা রকম ষড়যন্ত্র করে চলেছে সাম্যবাদের বিরুদ্ধে। ভয় আর প্রলোভন দেখিয়ে তারা বহু দুর্বল চরিত্রের পণ্ডিতদের, বিজ্ঞানীদের তাদের পক্ষে নিয়ে যাচ্ছে। যে সমস্ত বিদ্যান বা বিজ্ঞানী ধর্ম ও ঈশ্বর বিশ্বাসের পক্ষে প্রচার করে চলেছেন তাঁদের মস্তিকের অবক্ষয় ঘটেছে। সাম্যবাদ চায় সমাজের সমস্ত প্রকার ক্ষমতার অধিকারী হবেন জনগণ। ঈশ্বর চিন্তা আমাদের এই শিক্ষাই দেয় যে, আমরা কোন কিছুই স্বাধীনভাবে করবার অধিকারী নই। দেখা যাচ্ছে ঈশ্বরের অস্তিত্ব আমাদের উন্নতির বাধ্য। মানসিক দাসত্বের এটাই সবচেয়ে বড় শিকল। শোষকশ্রেণীর কাছে এটি একটি অস্ত্র। এই ভরসাতেই বলা হয়ে থাকে ধনী ও গরিব সবই তো তাঁরই সৃষ্টি। তিনি যা কিছুই করেন মঙ্গলের জন্যই করেন। ইংল্যান্ডের আধুনিক ক্ল্যাসিক্যাল অর্থনীতিবিদ জন স্টুয়ার্ট মিলের ভাষায়-‘ধনতন্ত্র বিধাতার লীলা পুঁজিবাদের ভূতারা বলে থাকেন (শ্রেণী সংগ্রামের ভয়ে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে) যাঁরা এ জগতে পান না, তাঁরা পরলোকে পেয়ে থাকেন। এভাবেই তাঁরা গরিব মানুষদের সান্ত্বনা দিয়ে থাকেন। আর নিজেরা এ জগতের সম্পদ ভোগ করতে থাকেন। এভাবে ধর্ম ও ঈশ্বর যতদিন থাকবে, ততদিন শান্তি, স্বাধীনতা, সমতা সম্ভব নয়।

ধনতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় ব্যক্তির বিচ্ছিন্নতার সমস্যার পূর্ণাঙ্গ ব্যাখার প্রয়োজনে ঐতিহাসিক বস্তুবাদের তত্ত্ব উদ্ভুত হয়েছিল। কার্ল মার্কস প্রবর্তিত বিচ্ছিন্নতার তত্ত্বের একটি সুনির্দিষ্ট ঐতিহাসিক ও তাত্ত্বিক পটভূমিকা ছিল। ইতিহাসের দিক থেকে বিচার করলে এই সমস্যার কেন্দ্রবিন্দু ছিল শিল্পবিপ্লব এবং পুঁজিবাদী শোষণ ব্যবস্থার শিকার যে ব্যক্তি তার বিচ্ছিন্নতা।

শিল্পবিপ্লবের কল্যাণে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিদ্যার জগতে যেমন অতি আশ্চর্য উন্নাতি দেখা দিয়েছিল, তেমনি এই ঘটনার ফলে পুঁজিপতিদের কাছে অধিকতর মুনাফা অর্জনের এক অবারিত সুযোগ উপস্থিত হয়েছিল। এর পরিণতি হিসাবে পুঁজিই গোটা সমাজব্যবস্থার চালিকাশক্তিরূপে আবির্ভূত হয়। তারই ফলস্বরূপ দেখা দিল সৃষ্টিলীল শ্রমপ্রক্রিয়া থেকে বাক্তির বিচ্ছিন্নতা।

শ্রমপ্রক্রিয়া থেকে এই বিচ্ছিন্নত্য শিল্পবিপ্লবপরবর্তী ইউরোপে জন্ম দেয় এক খণ্ডিত’ জীবনবোধের। তার প্রতিবাদ হিসাবে সমকালীন ইউরোপের বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে ধ্বনিত হয় বিদ্রোহ; চিন্তার ইতিহাসে যা রোমান্টিক আন্দোলন নামে পরিচিত।

রোমান্টিক আন্দোলনের মূল কথাটি ছিল বিচ্ছিন্নতাবোধকে অতিক্রম করে ব্যক্তিমানসের সামগ্রিকতাকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা। রোমান্টিকদের মতে, যন্ত্রসভ্যতা ও মুনাফাকেন্দ্রিক সমাজব্যবস্থার যুগ্ম শোষণে সমাজে ব্যক্তিমানসের সামগ্রিকতা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে জন্মা দিয়েছিল এক অপূর্ণ, বিচ্ছিন্ন, খণ্ডিত ও ক্ষত-বিক্ষত বাক্তিসত্তার। সে কারণেই বিচ্ছিন্নতাবোধকে অতিক্রম করে ব্যক্তিসত্তার পূর্ণতাকে প্রতিষ্ঠিত করা ঐতিহাসিকভাবে প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে। রোমান্টিক আন্দোলন ছিল এই চিন্তারই প্রতিফলন। দুটি ভিন্ন ধারার মাধ্যমে এই আন্দোলন আত্মপ্রকাশ করে-রুশো প্রবর্তিত নৈরাশাবাদী রোমান্টিকতা ও তাঁর বিপরীতে শেলি, বায়বণ, ওয়ার্ডসওয়ার্থ প্রবর্তিত বিদ্রোহী রোমান্টিকতা।

রাজতন্ত্র ও আধা-সামন্ততান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা ছিল বিকাশশীল বুদ্ধিজীবীদের আশা-আকাংক্ষার পরিপন্থী। তাঁদের আত্মিক চাহিদা ছিল সমাজে খণ্ডিত বাক্তিসত্তাকে প্রকৃত মানবিক মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করা। যেহেতু তা সেই মুহূর্তে সম্ভব ছিল না, সেই হেতু নৈরাশ্যবাদী রোমান্টিকরা বিচ্ছিন্নতার দ্বন্দ্বকে নিরসন করার চেষ্টায় বাস্তব জগৎকে অস্বীকার করে গড়ে তুললেন এক স্বপ্নরাজ্য তাঁদের কাব্য, শিল্প ও সঙ্গীতের মাধ্যমে। নৈরাশ্যবাদী রোমান্টিকরা বিচ্ছিন্নতার অবসান ঘটাতে চাইলেন বাস্তবকে পরিবর্তন করে নয়, কল্পনার শিল্পরাজ্যে অবগাহন করে। এই রোমান্টিকতা ছিল পুঁজিবাদবিরোধী শিল্পবিপ্লব বিরোধী ও আধুনিকতা বিরোধী। এই রোমন্টিকতা ছিল প্রকৃত অর্থে সভ্যতার অগ্রগতির পরিপন্থী। এই রোমান্টিকতার বিচ্ছিন্নতার শিকার ব্যক্তিটি বেদনাহত, যন্ত্রণাদক। এই ব্যক্তিসত্তা ফিরে পেতে চায় তার হারিয়ে যাওয়া অতীতকে। তাই রোমান্টিকতার ধারাটি তীব্র আবেগ, বেদনা ও যাহৃদ বেদনাবোধে আপ্লুত। গোটের অমর সৃষ্টি ‘The Suffering of young Werther’এর নায়ক ডের্থারের মর্মান্তিক আত্মহনন এই ভাবনার শ্রেষ্ঠ প্রতীক।

এই ধারাটির সম্পূর্ণ বিপরীত ধর্মী অবস্থান ছিল বিদ্রোহী রোমান্টিক ভাবাদর্শের। তার মূল কথাটি ছিল বিচ্ছিন্নতাবোধের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ। বিদ্রোহী রোমান্টিকতার মূল কথাটি ছিল বিচ্ছিন্নতাকে অতিক্রম করে নয়, বিচ্ছিন্নতার বন্ধনকে ছিন্ন করেই মানুষ পেতে পারে মুক্তির আস্বাদ। তাঁরা তাঁদের বৈপ্লবিক শিল্পকর্মের মাধ্যমে বিচ্ছিন্নতাকে ধ্বংস করে বিদ্রোহী মানবাত্মাকে সামগ্রিকতার আদর্শে পূর্ণ মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন। এদের দৃষ্টি ছিল ভবিষ্যতের দিকে নিবন্ধ। শেলির ‘Prometheus Unbound’, বায়রণের ‘Prometheus (1818)k, বেটোফেনের ‘নাইনথ সিম্ফনি’ বিদ্রোহী রোমান্টিকতার মূর্ত প্রতীক। এই রোমান্টিকতা ছিল গভীর মানবতাবোধের দ্বারা পরিচালিত।

হেগেলীয় দর্শনে Spirit যেমন (সৃষ্টি করে বিচ্ছিন্নতাকে, তেমনি পরমুহূর্তে তাকে অতিক্রম করে নূতন সত্তাকে সৃষ্টির মাধ্যমে নিজের বিপুল সত্তাকে খুঁজে পায়। ফয়েরবাখের বিচ্ছিন্নতার তত্ত্বের কেন্দ্রবিন্দু বাক্তি, যে একটি জৈবিক সত্তা Spirit) নয়। তাঁর ধারণা অনুযায়ী, ব্যক্তি তার পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ফলে ব্যক্তির মধ্যে জন্ম হয় নৈরাশ্যবোধের। তা থেকেই সৃষ্টি হয় ঈশ্বরকল্পনা। এই ঈশ্বরকল্পনা বাক্তিজীবনকে নিয়ন্ত্রণ করে না। ঈশ্বরবোধ বিচ্ছিন্নতা প্রসূত নৈরাশাবোধের বহিঃপ্রকাশ মাত্র। ফয়েরবাখ-ই প্রথম প্রত্যয়ের সঙ্গে বললেন, ঈশ্বর ব্যক্তিসত্তাকে সৃষ্টি করে না। ব্যক্তির বিচ্ছিন্নতাবোধই ঈশ্বর ধারণার জন্ম দেয়। মানুষের বিচ্ছিন্নতাবোধের অভিব্যক্তি হল ধর্ম প্রবণতা। তাঁর মতে, ধর্মের প্রকৃত অর্থ মানবাত্মার সফল পূর্ণ বিকাশ। ধর্মের প্রকৃত অর্থ নৈতিক মূল্যবোধ।

মার্কসের বক্তব্য, বিচ্ছিন্নতা কোন বিমূর্ত অতিপ্রাকৃত ঘটনা নয়। বিচ্ছিন্নতার উৎস চলমান বস্তু জগতের মধ্যে নিহিত। বিচ্ছিন্নতার জন্ম হয় সেখানে, যেখানে ব্যক্তি তার নিজের উপলব্ধি থেকে বঞ্চিত হয়। পরিবেশই সেখানে ব্যক্তির নিজের বিকাশের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বস্তুবাদী বিচারে, পরিবেশ ও ব্যক্তির দ্বন্দ্বের ফলশ্রুতি বিচ্ছিন্নতা।

মার্কস বিচ্ছিন্নতাবোধকে দেখেন ধর্মীয় রূপের পরিপ্রেক্ষিতে। মতাদর্শগত ও দার্শনিক স্তরে, রাজনৈতিক স্তরে এবং সমাজের অর্থনৈতিক ভিত্তির মধ্যে। বিচ্ছিন্নতাবোধের অন্যতম প্রতীক ছিল ধর্ম, ধর্মীয় প্রথা ও ঈশ্বরবোধের প্রতি গভীর আস্থা। কিন্তু বাস্তব বিচারে ধর্ম ও ঈশ্বররোধ ব্যক্তির আত্ম-উপলব্ধির বিরোধী। ঈশ্বর ভাবনার অর্থ বিচ্ছিন্নতার অবসান ঘটাতে ব্যর্থ হয়ে পরিবেশের কাছে আত্মসমর্পণ করা। আসল কথা মানুষই মানুষের সমস্যার সমাধান করে, ঈশ্বর নয়। এভাবেই মার্কস হয়ে উঠলেন নিরীশ্বরবাদী। ধর্ম ও ঈশ্বর চিন্তা বিচ্ছিন্নতার বহিঃপ্রকাশ। এই বোধকে বাঁচিয়ে রাখে জীবনবিমুখ বিভিন্ন মতাদর্শ ও দার্শনিক ভাবধারা। তাঁর মতে, বস্তুবাদী দর্শন ও মতাদর্শ শ্রমিকশ্রেণীকে সমস্ত গন্ধন ও বিচ্ছিন্নতা থেকে মুক্তি দিতে পারে। জীবনবিমুখ রাজনীতি ব্যক্তির বিচ্ছিন্নতার উৎস। ব্যক্তি আপাতদৃষ্টিতে স্বাধীন হলেও প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্রের নাগরিক রূপে সে রাষ্ট্রব্যবস্থার দ্বারা পরিচালিত।

এর অর্থ ব্যক্তির সামাজিক সত্তা, তার রাজনৈতিক সত্যার বিরোধী। তার বিরুদ্ধে ব্যক্তি সম্পূর্ণ অসহায়। তাই রাষ্ট্রশক্তির পরিবর্তন ছাড়া ব্যক্তির বিচ্ছিন্নতার ছেদ ঘটান যায় না। সমাজস্বীজনে ব্যক্তির বিচ্ছিন্নতার অর্থনৈতিক কারণ রয়েছে। শ্রমবিভাজন প্রক্রিয়া জন্ম দিল, সম্পত্তির ব্যক্তিগত মালিকানার। ব্যক্তিগত মালিকানার হলে সমাজে অর্থনৈতিক অসাম্যের ভিত্তি পোক্ত হল। ফলে শ্রমপ্রক্রিয়া থেকে শ্রমজীবী মানুষ বিচ্ছিন্ন হল। পুঁজিবাদী সমাজেই শ্রমিকের বিচ্ছিন্নতার চূড়ান্ত রূপ ধারণ করল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About

ranjan.254@gmail.com Avatar

Featured Posts

Work Experience

Technologies

Creating