Form and Content in literary criticism

Every phenomenon or things has a certain content and is manifested in a certain form. Content is the totality of the components

সম্পাদকের কলমে

সম্পাদকের কলমে

Form and Content in literary criticism

Every phenomenon or things has a certain content and is manifested in a certain form. Content is the totality of the components

অযোধ্যা মামলার আইনী মীমাংসা

অযোধ্যা মামলার আইনী মীমাংসা: একটি পর্যালোচনা

যেভাবেই হোক শেষ পর্যন্ত যবনিকা নামল। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ভারতের রাজনীতির কেন্দ্রীয় ইস্যু রাম মন্দির বনাম বাবরি মসজিদ মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষিত হল গত ৯ই নভেম্বর। জনজীবনের মৌলিক সমস্যাগুলিকে পাশ কাটিয়ে বিবাদিত জমির মালিকানা হক নিয়ে টিভির পর্দায় রাজনৈতিক প্রবক্তাদের জোরালো দাবী ও তর্ক-বিতর্কের লোকরঞ্জনের শো যেমন একদিকে জনতাকে শিহরিত করার প্রয়াস চালিয়ে গেছে, ঠিক তেমনি একাংশ ইলেক্ট্রনিক চ্যানেলের নিউজ এঙ্কারদের উত্তেজনার তোড়ে প্যানেল ডিসকাশনের ডায়াসে বেক স্টেজ থেকে খোদ প্রভু শ্রী রামের আবির্ভাব এবং নিজ জন্মস্থানকে খুঁজে বেড়ানোর করণ দৃশ্য অবশ্যই ধর্মীয় ভাবাবেগ সম্পন্ন সাধারণ জনতাকে আবেগপ্রবণ করেছে। নিউজ চ্যানেলে এহেন দৃশ্য একদিকে যেমন দেশের সংবাদ জগতের মানোন্নয়নকে (১) সূচীত করে, তেমনি নিশ্চিতই জনমানসে ইস্যুটিকে জিইয়ে রাখার অদম্য প্রয়াসেরও সাক্ষ্য বহন করে। রাজনৈতিক বক্তৃতা ও প্যানেল ডিসকাশনে যাই হোক, মামলার নিষ্পত্তি হয় আদালতি প্রক্রিয়ায়। বর্তমান এই মামলার বয়স সুপ্রীম কোটে নয় বছর হলেও উৎপত্তি থেকে দেখতে গেলে তিন শতকের আইনী ইতিহাস বহন করছে এই মামলা। সর্বোচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতি সহ পাঁচজন বিচারপতির বেঞ্চ সর্বসম্মতিতে ৪১ দিনের শুনানি শেষে ১০৪৫ পৃষ্ঠার রায় ঘোষণা করে। এই মামলার রায়ে বিবাদিত জমির পুরোটাই (২.৭৭ একর) রাম লাল্লার (বালক রাম) তরফে হিন্দু পক্ষকে মালিকানা অধিকার দেওয়া হয় এবং রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারকে নির্দেশ জারি করা হয় এই এরপর ১৮৮৫ সাল। জনৈক মহান্ত রঘুবর দাস একটি মালিকানা স্বত্বের মামলা নিয়ে হাজির হয় ফৈজাবাদের স্থানে মন্দির নির্মান ও তার পরিচালনার জন্য একটি ট্রাস্ট বা ঐ ধরণের কোনো সংস্থা গঠন করে দেওয়ার জন্য। এই সংস্থায় অন্য এক বিবাদমান পক্ষ নির্মোহি আখাড়া কেও সদস্য রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বিপরীত পক্ষ অর্থাৎ সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ডকে মসজিদ নির্মানের জন্য সুবিধা মত অন্যত্র ৫ একর জমি দেওয়ার জন্য। মনে রাখা দরকার এই ধর্মীয় ইস্যুকে উসকে দিয়েই এই দেশে ধাপে ধাপে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ইতিহাস রচনা করা হয়েছিল। ভারতীয় বিচার ব্যবস্থার ইতিহাসে সম্ভবত সবচেয়ে দীর্ঘায়িত এই মামলার ফেলে আসা দিনগুলো সংক্ষেপে স্মরণ করা প্রয়োজন

মোঘল সম্রাট বাবরের দ্বারা এই স্থাপত্যের নির্মান সম্পন্ন হয়েছিল ১৫২৮ খ্রীষ্টাব্দে। রামায়নের পৌরাণিক চরিত্র রাম চন্দ্রের জন্ম অযোধ্যায় হয়েছিল বলে লেখা হলেও ঠিক এই মসজিদের নীচেই যে সেই অকুস্থল, এমন বিশ্বাস কিংবা সেই বিশ্বাসকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ইতিহাস উনিশ শতকের আগে দেখা যায়নি। অর্থাৎ বৃটিশ শাসনাধীন ভারতেই প্রথম মন্দির-মসজিদ নিয়ে হিন্দু মুসলিম দাঙ্গা সংগঠিত হয় ১৮-৫৬-৫৭ সালে। হিন্দু সম্প্রদায় ভুক্ত কিছু লোক জমির অধিকার দাবি করে। এরপর দাঙ্গা বাঁধলে বৃটিশ রাজ বিবাদ নিষ্পত্তির নামে পুরো জমিটিকে ইট ও গ্রীলের সীমানা নির্মান করে দু ভাগে ভাগ করে দেয়। বহির্বিভাগে হিন্দুদের পূজার্চনা করার অনুমতি দেওয়া হয়। এই থেকেই শুরু হয় পরবর্তী ১৬৪ বছরের ইতিহাস রচনা।

সাব জজের আদালতে। আদালত অবশ্য ২৪শে ডিসেম্বর ১৮৮৫ তে মামলা খারিজ করে দেয়। এরপরে কেটে যায় দীর্ঘ ৬৪ বছর। স্বাধীনতার পর ১৯৪৯ সালে ২২ও ২৩শে ডিসেম্বর মধ্যরাতে ঘটানো হয় সেই ঘটনা। ৫০-৬০ ৬৯ লোক মসজিদের ভেতরে জোর করে ঢুকে রাম লাল্লার মূর্তি স্থাপন করে দেয়। এফ আই আর হলে ম্যাজিস্ট্রেটের তরফে ঐ স্থান দখল মুক্ত না করে, উল্টো সরকারের তরফে একজন রিসিভার নিযুক্ত করে ওেয়া হয়, যিনি মামলা চলাকালীন এই স্থাপত্যের দেখাশোনা করবেন। এই ভাবেই প্রথমে বহির্ভাগে এবং পরবর্তীতে ভেতরের অংশও দখলীকৃত হয়ে পড়ে প্রথমে বৃটিশ এবং পরে ভারত সরকারের পরোক্ষ মদতে। এই বছরই এখানে শেষবারের মত নামাজ পড়া হয়। এর পরবর্তীতে ১৯৪৯-৫০ সালে হিন্দুদের তরফে একাধিক মামলা করা হয়। নির্মোহি আখাড়া মামলা করে ১৯৫৯ সালে। সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড আদালতের কাছে মালিকানা স্বত্ব দাবি করে ১৯ শে ডিসেম্বর ১৯৬১ সালে। ২৫শে জানুয়ারী ১৯৮৬ সালে জনৈক উমেশ চন্দ্র একটি আবেদন জানায় বিগ্রহ দর্শনের জন্য যেন স্থানটি উন্মুক্ত কর। হয়। সেই আবেদন মঞ্জুরও হয়ে যায় ১লা ফেব্রুয়ারী ১৯৮৬ সালে। ১৯৮৯ সালে রাম লাল্লার তরফে ‘রাম বিরাজমান’ সংগঠন মালিকানা স্বত্বের আরোও একটি মামলা দায়ের করে। এইখানে বলে রাখা ভাল ভারতের আইনে দেবতার

প্রতিমাকে আইনী স্বত্বা হিসেবে স্বীকার করা হয়েছে। যাইহোক এরপরে আললত ১০ই জুলাই ১৯৮৯ সালে সবকটি মামলাকে একত্রে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়। এর তিন বছর বাদেই ১৯৯২ সালের ৬ই ডিসেম্বর, রচনা করা হয় এই ঘটনা পরম্পরার সবচেয়ে হিংসাত্মক অধ্যায়টি সরকারী হেফাজতে থাকা সত্ত্বেও এই স্থাপত্যটিকে প্রকাশ্যে ধ্বংস করা হয়, বেশ কিছু হিপুত্ববাদী সংগঠনের দ্বারা। এর প্রতিক্রিয়ায় শুধু ভারতও নয়, বাংলাদেশ, পাকিস্থান সহ মধ্যপ্রাচ্যে পর্যন্ত সঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে। সাম্প্রদায়িক লঙ্গায় খুন হন প্রায় দুহাজারেরও বেশী মানুষ। শুধু মুম্বাই শহারে প্রাণহানী হয় ৯০০ লোকের। আনুমানিক ৯ হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি নষ্ট হয়। এ৩৬ প্রায় ১৮ বছর পরে ২০১০ সালে এলাহাবাদ এইিং, অট মামলার রায় দেয়, যেখানে বিবাদমান তিন পড়তে সে উভমি সমানে তিন ভাগে ভাগ করে দেওয়া হয়েছিল। এই রায়ের বিরুদ্ধে সব পথই সর্বোচ্চ আদালতে আবেদন করে এবং সেই মামলার নিস্পত্তি হয় গত ৯ই নভেম্বর সকালে।

বর্তমান এই ১০৪/৫ পৃষ্ঠার রায়ের দিকে একবার দেখে নেওয়া প্রয়োজন এই রায়ে ভূমিকা (Introduction অংশে কোর্ট এই মামলা সংক্রান্ত গোটা ইতিহাদের আনুপূর্ণিক বিবরণ তুলে ধরেছে এ Conclusion-on tille ৭৯৬ নম্বর প্যারার দ্বিতীয় লাইনে কোট যথাসও ভাবেই উল্লেখ করেছে যে “The Court does not decide title on the basis of faith or belife but on the basis of evidence.” অর্থাৎ আস্থা বা বিশ্বাসের উপর নির্ভর করে আদালত বিচার করতে পারে না, আবলত বিচার করবে সাক্ষ্যের উপর দাঁড়িয়ে। অত্যন্তমূল্যবান এবং সঠিক কথা। কিন্তু মামলা মীমাংসার ক্ষেত্রে কতগুলি বিষয় উঠে এসেছে যা কোট দ্বারা লিপিও এই উপরোক্ত বক্তব্যটির সাথে ঠিক কি ভাবে মেলে তা বুঝে উঠা যাচ্ছেনা যেমন ANI সং দেশের প্রথম শ্রেণীর বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, ৯ তারিখ সকালে প্রধান বিচারপতি এই রায় পাঠ করার সময় বলেছিলেন যে “Hindus consider Ayodhya as the birth place of lord Ram They have religious sentiments. Hindus have faith and believe that lord Ram was bom under the doom. The faith of Hindus that lord Ram

was born here is undisputed.” অর্থাৎ “হিন্দুরা বিশ্বাস করে অযোধাই প্রভু রামের জন্মস্থান। তাদের একটি ধর্মীয় আবেগ আছে। হিন্দুদের আস্থা এবং বিন্দাস এই গুম্বুজের নীচেহ প্রভুরাম জান্মেছিলেন। রামের জন্মস্থান নিয়ে হিন্দুদের এই বিশ্বাস অবিতর্কিত।” অতএব স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন থেকেথায়, বিচার যদি সাক্ষ্য প্রমানের ভিত্তিতেই হয়ে থাকে তাহলে এখানে কোন সম্প্রদায়ের কি বিশ্বাস যা আস্থা রয়েছে সে কথা আসছে কেন। এই প্রশ্নটি আপাদত তোলা থাক, পড়ে আলোচনা হবে এবার দেখে নেয়া যাক বিচার প্রতিদওয়াকোর্টের সামনে সাম্প প্রমান কি ছিল এবং এই বিষয়ে কোর্টের বক্তব্যই বা কি লেখা আছে।

রায়ের ৭৯৭ নম্বর প্যারায় কোর্ট লিখেছে “On the balance of probabilities, there is clear evidence to indicate that the worship by the Hindus in the outer courtyard continued unimpeded in spite of the setting up of a grill-brick wall in 1857 Their possession of the outer courtyard stands established together with the incidents attaching to their control over it “অর্থাৎ ১৮৫৭ সালে ইট ও গ্রীলের সীমানা নির্মানের পরও স্থাপত্যের বহিরঅংশে হিংস্যুপের পুজার্চনার সাক্ষ্য পাওয়া যায়। এর পাত্ররা পারাতেই ৭১৮ এর একটি লাইনে কোট লিখেছে।

“The Muslims have offered no evidence to indicate that they were in exclusive possession of the inner structure prior to 1857 since the date of the construction in sixteenth century চর্থাৎ ষোড়শ শতকে এই নির্মানের পর থেকে ১৮৫৭ সাল পর্যন্ত এই স্থাপত্যের অভ্যন্তরে মুসলিমদের একচেটিয়া দখলের কোন সাক্ষ্য পেশ করা যায়নি। “অথচ বলাই হচ্ছে যে ১৮৫৬-৫৭ সালের দাঙ্গর পর বৃটিশ রাজ জমিটি দু-ভাগ করে দিয়েছিল, যেখানে বাইরের অংশটি ছিল হিন্দুদের আর ভিতরের অংশটি ছিল মুসলিমদের। অন্যদিকে মামলাকারীরা এমনকি আদালতও একাধিক জায়াগায় খোদ বলছে যে এই স্থাপত্যটি হচ্ছে মসজিদ। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই যে প্রশ্নটি দাঁড়ায় সেটা হচ্ছে যদি একে মসজিদ বলে মেনে নেওয়া হয় তাহলে নামাজ পড়ার কিংবা দখলে থাকার। সাক্ষ্যের কথা আসছে কোথা থেকে? এই বিষয়ে নালসার ইউনিভার্সিটি অব ল-এর উপাচার্য এবং সংবিধান বিশেষজ্ঞ ফৈজান মৃস্থাফা The Wire চ্যানেলে সাংবাদিক করণ থাপারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘মসজিদ মানেই ধরে নেওয়া হয় যে সেখানে নামাজ পড়া হয়। আর যদি তা না হয় তাহলে সেটাকে অপ্রচলিত বা পরিত্যক্ত মসজিদ বলে ঘোষণা করা উচিত ছিল, যা কোর্ট করেনি। যেমন অনেক পরিত্যক্ত মসজিদ পাঞ্জাবে রায়েছে। উপরন্তু ৭৯৮ নম্বর প্যারায় কোর্ট এও বলেছে যে এটি ৪৫০ বছরের পুরোনো মসজিদ। উপাচার্য মুস্তাফার মতে এখানে আদালতের একটি স্ববিরোধীতা রয়ে গেছে। দাঙ্গার পর বৃটিশরা রেলিং নির্মাণ করেছিল, এটাইতো প্রমাণ করে যে মুসলিমরা এখানে আগে থেকেই নামাজ পড়ত

৭৯৮ নম্বর প্যারার শেষের দু’লাইনে আদালত লিখেছে “During the pendency of the suits, the entire structure of the mosque was brought down in a calculated act of destroying a place of public worship. The Muslims have been wrongly deprived of a mosque which had been constructed well over 450 years ago.” অর্থাৎ বিচারাধীন অবস্থায় পরিকল্পিত ভাবে মসজিদের সম্পূর্ণ কাঠামোটিকে ফধ্বংস করা হয়েছে, যেখানে মানুষ প্রার্থনা করত মুসলমানদের অন্যায় ভাবে একটি মসজিদ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে খা ৪৫০ বছররেও আগে নির্মিত।” এই প্রসঙ্গে NDTV এর সাংবাদিক রবীশ কুমার প্রশ্ন তোলেন, যে কাজটিকে আদালত অপরাধ বলে মনে করেছে, সেই কাজের ফালেই জমিটি আজ ফাঁকা হয়েছে এবং হিন্দুদের দেওয়া সম্ভব হয়েছে। যদি এই অপরাধটি সংগঠিত না হত তাহলে আদালত কী বিচার করত? এই প্রসঙ্গে মনে করিয়ে দেওয়া প্রয়োজন এই স্থাপত্যকে ভারতীয় রাজনীতির যে সব তাবড় নেতারা নেতৃত্ব দিয়ে মিছিল নিয়ে গিয়ে ধ্বংস করেছিল তাদের বিচার কিন্তু এখনো হয়নি।

খনন কার্যের পর মন্দিরের তলায় যে সব ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে সে সবের পরীক্ষা করে যে রিপোর্ট জমা করেছিল ASI (Archeological Survey of India) তার উপর আদলত সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে। বৃটিশ আমল থেকে মোট ৫ বার এইখানে খনন কার্য করা হয় শ্রবা গবেষণা

চালানো হয়। কিন্তু মাটির নীচে থেকে পাওয়া নমুনা পরীক্ষা করে ASI কোথাও হলফ করে বলেনি যে এখানে মন্দিরের প্রমাণ পাওয়া গেছে। অথবা আরোও নির্দিস্ট করে বলতে গেলে রামের জন্মস্থানের প্রমাণ পেয়েছে বলে ASI এর কোনো রিপোর্টেই নেই। এই প্রসঙ্গে ২০১০ সালে হাই কোর্টের রায়ের পর ত্রিপুরা যুক্তিবাদ বিকাশ মঞ্চের মুখপত্র এই অন্বেষণেতেই লেখা হয়েছিল “বাবরের আমলে বিভিন্ন স্থাপত্য নির্মাণে ব্যবহৃত শ্রমিকদের একটি বড় অংশ ছিল হিন্দু। ফলে মুসলিম স্থাপত্যে হিন্দু কারুকার্য থাকা খুবই স্বাভাবিক… যেমন ১১৯২ এ নির্মিত জনপুরের আতালা মসজিদ, দিল্লীর বেগমপুর মসজিদ, কুতুব মসজিন্দ… উল্টোদিকে আবার হিন্দু স্থাপত্যে মুসলিম শিল্পেরও প্রমাণ রয়েছে। যেমনজয়পুরের হাওয়া মহল” এছাড়া হিন্দু স্থাপতা হিসেবে যে পীলার বা থাম ভিত্তিক নিদর্শনের কথা বলা হচ্ছে, তার পাশাপাশি খনন অর্থে নাকি প্রাণীর হাড় এবং চুন ও সুরকার অংশও পাওয়া গেছে, যা আবার মুসলিম স্থাপত্যের সাক্ষ্য বহন করে। অর্থাৎ, হলফ করে কোনো কিছুই বলা যায় না। অতএব এই রায়কে কি বৈজ্ঞানিক তথ্য প্রমাণের উপর প্রতিষ্ঠিত বলে দাবি করা যায়। নাকি দীর্ঘদিন যাবত ভারতে চলে আসা মেজরিটির পলিটিক্সকেই স্বীকৃতি দেওয়া হল ? আর সে জন্যেই কি আস্থার ভিত্তিতে বিচার হয়না লিখেও সেই আস্থা ও বিশ্বাসের কথাই বলতে হল ঘোষণা কালে?

এই নির্দিষ্ট জায়গাটিতে আদতেই মন্দির ভেঙে মসজিদ হয়েছিল কিনা জানা নেই। কিন্তু এটা ঘটনা যে ইতিহাসের পাতা ঘাটলে একরাজা কর্তৃক অন্য রাজার রাজত্ব জয় করে অথবা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে মন্দির মসজিদ বৌদ্ধ মাঠ সবই ভাঙার নজির আছে। ১২ শতকে কাশ্মীরের শিব ভক্ত হিন্দু রাজা ভালোকার বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বিদের উপর অকথ্য নির্যাতনের নজির রয়েছে। ১০ শতকে রাষ্ট্রকোটের রাজা ইন্দ্র (তৃতীয়) তার শত্রু বাজা প্রতিহরের পৃষ্ঠপোষকতায় থানা কালপ্রিয়া মন্দির ধ্বংস করেছিল। হিন্দু মারাঠা সৈন। টিপু সুলতানের সাথে জয়ী হতে না পেরে যখন ফিরে আসছিল তখন টিপু সুলতানের রাজ্যে শ্রীরঙ্গপটনম মন্দির ধবংস করে ছিল। এছাড়া সুলতান মামুদের সোমনাথ মন্দির আক্রমণের ইতিহাস কেন জানে ইতিহাসের পাতায় ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য ঘটনার মধ্যে এই সামানা কিছু উদাহরণের দিকে তাকালেই দেখা যায় যে শুধু ভিন দেশী ধর্মের শাসকেরাই ধর্মস্থান আক্রমণ করেনি, স্বধর্মের শাসকেরাও একই কাজ চালিয়েছে। প্রচুর পরিমাণ সম্পদের ভাণ্ডার এই সমস্ত ধর্ম প্রতিষ্ঠানগুলো একদিকে যেমন লুঠ করার উদ্দেশ্যে আক্রমণ করা হত তেমনি অন্যদিকে মন্দির-মসজিদ এসব ছিল রাজ-রাজাদের গৌরব ও সমৃদ্ধির প্রতীক। তাই সে সব কিছু ধ্বংস করার অর্থ ছিল তাদের শৌষ-বীর্য- অহংকারকে পদদলিত করা। এছাড়া রাজার ধর্মে প্রজাকে ধর্মান্তরিত করার জন্যও এসব করা হয়েছে বহুবার। কারণ, ধর্ম হচ্ছে একটি অনুশাসন যা মেনে চলতে হয়, আর সে ক্ষেত্রে রাজনৈতিক আক্রমণের অঙ্গ হিসেবেই ধর্মস্থান আক্রমণও লুঠ করার অসংখ্য ইতিহাস রয়েছে।

যাই হোক, এই বর্তমান প্রসঙ্গে প্রমাণ থাকুক বা না থাকুক, সমস্ত প্রশ্ন মীমাংসা হোক বা না হোক, শেষ কথা হচ্ছে বিবাদিত জমির মালিকানা হিন্দুত্ববাদীদের হাতে এসেছে। আদালতের এই রায় প্রকাশ হতেই ভারতের প্রায় সকল রাজনৈতিক দলই সন্তোষ প্রকাশ করেছে। বিজেপি বলছে তাদের জয় হয়েছে আর কংগ্রেস সিপিএম প্রেস বিবৃতিতে বলছে বিজেপির ধর্মীয় রাজনীতি করার পথ বন্ধ হল। কারোরই তেমন কোনো মৌলিক বিরোধীতা নেই, কেবল AIMIN ছাড়া (কারণ তাদের রাজনীতির মূল বিষয়ই হচ্ছে সংখ্যালঘুর সেন্টিমেন্ট)। এই সবের সোজা সাপ্টা অর্থ হচ্ছে, ডান-বাম মধ্যমন্ত্রী নির্বিশেষে সকলেই সংখ্যাগরিষ্ঠের রাজনীতির আধিপত্য ঘোষিত ভাবে স্বীকার করে নিয়েছে।

ধর্ম এবং রাজনীতির যা সম্বন্ধ, তাই আছে এখনো। বৃটিশ শাসনকাল থেকেই দেশের শাসক শ্রেণী প্রয়োজন মত এবং পরিমাণ মত ধর্মীয় উন্মাদনা এবং দাঙ্গা বাধিয়েছে সময় সময়ে শাসনতন্ত্রের স্বার্থে। সেই উত্তরাধিকার বহন করেছে স্বাধীন দেশের শাসকেরাও। এমনিতে চিরকালই ধর্ম ভোট রাজনীতির অঙ্গ হলেও কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে ১৯৯২ সালের বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পরই। এই কাজটি যে পরিকল্পনা মাফিক করা হয়েছিল তাও আদালত উল্লেখ করেছে তার রায়ের ৭৯৮ নম্বর প্যারায়। এই রাম মন্দির-বাবরি মসজিদকে ইস্যু করে কতই না ভোটরঙ্গ সাঙ্গ হল, তার হিসেব কে রাখে। ঘোষিত ভাবে হিন্দুত্ববাদীরা যেমন মসজিদ ভেঙে মন্দির নির্মাণের প্রতিশ্রুতিতে রাজনীতি কারেছেন, তেমনি তথাকথিত সেকুলারবাদীরাও বিরোধীতার নামে এই বিবাদকে সেন্ট্রাল ইস্যু বানিয়ে রেখেছে যথেষ্ট নিপুণতার সাথে। রাজনীতিতে ধর্মের স্থানিক ও ক্ষণিকের ভোট ব্যাঙ্কের ভূমিকা ছেড়ে দিলেও বৃহৎ পরিসরে শাসক শ্রেণীর কাছে এর ভূমিকা অপরিসীম। দীর্ঘকাল ধারে ঝুলিয়ে রাখা এই নির্দিষ্ট বিবাদের আইনী মীমাংসা বর্তমানে সেরে ফেলার আরেকটি কারণ এটাও যে এখন আর আগের মতো সাধারণ মানুষকে দিয়ে অতি সহজে দাঙ্গা হাঙ্গামা করানো যাচ্ছেনা, এটাই ইদানীং কালের অভিজ্ঞতা। খাওয়া বাঁচার দৈনন্দিন সংগ্রামে থাকা মানুষের কাছে এই মন্দির-মসজিদ বিতর্ক যে অর্থহীন তা যেমন প্রমাণ হয়েছে ২০১০ এর হাইকোর্টের রায়ে পর তেমনি আবারো প্রমান হল সুপ্রিমকোর্টের রায়ের পর। মিডিয়া, প্রশাসনিক তৎপরতা নানান কিছু দেখিয়ে যতই গুরুগম্ভীর পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হোক না কেন, সাধারণ মানুষ এই বিষয়ে তাদের উৎসাহহীনতাই প্রমাণ করেছে।

ধর্মের এই কৃত্রিম বিভেদকে কাজে লাগিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অনৈকা তৈরী করার প্রয়াস করা হয়, বিভক্ত করে শাসন করার ইংরেজদের নীতিকে সুচারু রূপে লাগু করা হয়। জনতার মৌলিক সমস্যার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের পথে বিভেদ সৃষ্টির কাজে ব্যবহার করা হয় এই ধর্মকে, যা বারে বারে পরীক্ষিত সত্য। এই ধর্ম নাগরিকের জাগতিক দুঃখ যন্ত্রনার কারণ যে এই সামাজ ব্যবস্থা থেকেই উদ্ভুত সেই দিক থেকে দৃষ্টি সরিয়ে দেওয়ার কাজ করে। ইহলোকের বঞ্চিত সুখ স্বাচ্ছন্দ্য কল্পিত পরলোকে পূরণ করার গ্যারান্টি দেয় ধর্ম। অতএব এই ব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ধর্মের লালন পালনেও যেকোনো ত্রুটি হবে না, তা বেশ বলা যায়।

@freemang2001gmail-com

2 Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About

ranjan.254@gmail.com Avatar

Featured Posts

Work Experience

Technologies

Creating