Form and Content in literary criticism

Every phenomenon or things has a certain content and is manifested in a certain form. Content is the totality of the components

সম্পাদকের কলমে

সম্পাদকের কলমে

Form and Content in literary criticism

Every phenomenon or things has a certain content and is manifested in a certain form. Content is the totality of the components

ফ্যাসিবাদ এবং হিটলারকে আদর্শ মনে করে আর.এস.এস। এটা কি সত্যি?

প্রথম পর্ব

অটলবিহারি বাজপেয়ী ও লালকৃষ্ণ আদবানির আ মতো স্বয়ংসেবকদের কেন্দ্রের জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট সরকারের (১৯৯৮-২০০৪) চালকের আসনে বসা এবং আরএ এরএসএসের পোড় খাওয়া সদস্য নরেন্দ্র মোদি ২০১৪ সালে ভার ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর, ভারতের গণতান্ত্রিক-ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রব্যবস্থার সর্বনাশ করা এবং সংখ্যালঘুদের ওপর আঘাত। অ হানার রে প্রিয় পুরোনো খেলাকে ত্বরান্বিত করে তুলেছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক স্বয়ংসেবক সংঘ সংগ (আরএসএস)। ২০০২ সালে আরএসএসের ৭৫তম প্রতিষ্ঠা দিবস দিবস উদ্যাপনের প্রাক্কালে নাগপুরে একটি সমাবেশে ভাষণ দিতে গিয়ে। য়ে আরএসএসের সরসংঘচালক বা সর্বোচ্চ নেতা কে.এস সুদর্শন দেশের মুসলিম ও খ্রিস্টানদের নিজেদের দেশপ্রেমের প্রমাণ দিতে বলেন। স্বাধীনতার পর জাতীয়তাবিরোধী কার্যকলাপের জন্য অন্তত দু’বার যে সংগঠনকে নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার, তারা তারা দেশপ্রেমের নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃত্ব হিসেবে জাহির করবে নিজেদের, এটা খুবই খারাপ ব্যাপার। আমরা কি আরএসএস কর্তাদের আরও এক একবার মনে করিয়ে দেব যে, মহাত্মা জন্য ১৯৪৮ সালে তাঁদের চরম গান্ধীর হত্যাকাণ্ডে যুক্ত থাকার জন্য সাম্প্রদায়িক সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল এবং। ১৯৯২ সালে অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ধ্বংস কর করার জন্য। আবারও এরও নিষিদ্ধ। করা হয়েছিল তাঁদের সংগঠনকে? আরএসএসকে কি এটাও বলা দরকার যে, বাবরি মসজিদ ধ্বংসের মতো দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা কেবলমাত্র পাকিস্তানের আইএসআই-এর মতো ভারতের শত্রুদের রণনৈতিক লক্ষ্যপূরণের কাজেই সাহায্য করেছে, যারা এমন এক ভারতকে দেখতে চায়, যা দ্বন্দ্বে দীর্ণ এবং নিজের সঙ্গেই যুদ্ধে লিপ্ত।

দেশের মানুষকে এখনই আরএসএসের ইতিহাস (দেশপ্রেমের ও দেশের প্রতি আনুগত্যের) খুঁটিয়ে পর্যালোচনা করে দেখতে হবে। দুর্ভাগ্যের বিষয় হল, যে আরএসএস সংখ্যালঘুদের কাছ থেকে দেশের প্রতি দ্বিধাহীন ও অবিচল আনুগত্য দাবি করতে ভালোবাসে, তাদের নিজেদেরই ভারতের সংবিধান বা জাতীয় পতাকার প্রতি কোনও আনুগত্য নেই। বস্তুতপক্ষে হিটলার বা মুসোলিনির মতো একনায়কদের অর্চনা করার দীর্ঘ ঐতিহ্য আছে আরএসএসের। এই সংগঠন ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা সংগ্রামের খোলাখুলি নিন্দা করেই ক্ষান্ত হয়নি, ভগৎ সিং আর তাঁর সাথীদের মতো মহান শহিদদের ব্যঙ্গও করেছে, যাঁরা মাতৃভূমির মুক্তির জন্য জীবন বিসর্জন দিয়েছিলেন। প্রকৃত সত্য জানার জন্য। কেবলমাত্র আরএসএসের বিভিন্ন প্রকাশনা, বিশেষত এম.এস গোলওয়ালকরের (গুরুজি নামে পরিচিত) লেখাপত্র খুঁটিয়ে দেখাই যথেষ্ট, যাঁকে দার্শনিক ও পথপ্রদর্শক হিসেবে অক্ষরে অক্ষরে অনুসরণ করেন আরএসএসের নেতা ও কর্মীরা। এই পুস্তিকায় ভারতীয় রাষ্ট্রব্যবস্থার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে আরএসএসের সরকারি দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণভাবে উপস্থাপিত করার চেষ্টা করেছি আমরা, যাতে করে আমাদের বিরুদ্ধে ভুল ব্যাখ্যা করার অভিযোগ না আনা যায়।

আজ আরএসএস সম্বন্ধে খুঁটিয়ে ও গুরুত্ব দিয়ে জানা দরকার, কেননা এটি এখন আর কোনও প্রান্তিক সংগঠন নয়, কারণ বর্তমানের বিজেপি নেতারা প্রকাশ্যেই আরএসএসের প্রতি তাঁদের

আনুগত্যের কথা ঘোষণা করেছেন। দেশের সামনে তাঁরা এমনটাও বলেছেন যে নেহরুর কাছে গান্ধীজি যা ছিলেন, তাঁদের কাছে আরএসএস-ও তা-ই! এই তুলনা অত্যন্ত দুরভিসন্ধিমূলক ও অসৎ, কেননা তত্ত্বগতভাবে গান্ধীজি কখনোই গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ ও যুক্তরাষ্ট্রীয় ভারতবর্ষের প্রতি আনুগত্যহীন ছিলেন না। আমাদের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার পক্ষে পরিস্থিতি কতটা সংকটজনক তা মোদি-র একটি বিবৃতি থেকেই বোঝা যায়, যেখানে নিজেকে ‘হিন্দু জাতীয়তাবাদী’ হিসেবে অভিহিত করেন তিনি। ২০১৩ সালের ১২ জুলাই গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিশিষ্ট ইউরোপীয় সংবাদসংস্থা ‘রয়টার্স’-এর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এই কথা বলেছিলেন তিনি। লক্ষণীয় বিষয় হল, যে হিন্দুত্ববাদী অপরাধীরা ‘জাতির জনক’ গান্ধীজিকে হত্যা করেছিল, তারাও নিজেদের ‘হিন্দু জাতীয়তাবাদী’-ই বলত। এই বিবৃতি থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের অধীনে একটি সাংবিধানিক পদে থাকা সত্ত্বেও, আরএসএসের অনুগত কর্মী হিসেবে নিজেকে ভারতীয় জাতীয়তাবাদী বলতে পছন্দ করেন না মোদি। তাছাড়া, মোদি যদি ‘হিন্দু জাতীয়তাবাদী’ হন, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই ‘মুসলিম জাতীয়তাবাদী’, ‘শিখ জাতীয়তাবাদী’, ‘খ্রিস্টান জাতীয়তাবাদী’ ইত্যাদিও থাকবে, যা ভারতীয় জাতীয়তাবাদের পুরো ধারণাটাকেই ভেঙে চুরমার করে দেবে।

এই বইয়ের উদ্দেশ্য হল আরএসএসের প্রকৃত স্বরূপ ও উদ্দেশ্যের সঙ্গে পাঠকদের পরিচিত করে তোলা, অন্যথায় আমাদের দেশকে রক্ষা করার কাজে অনেক দেরি হয়ে যাবে।

এই বইতে প্রদত্ত যাবতীয় উদ্ধৃতি গৃহীত হয়েছে আরএসএসের বিভিন্ন প্রকাশনা থেকে এবং বর্তমান লেখক সেগুলি ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন।

“পৃথিবীকে কাঁপিয়ে দিয়েছে জার্মানরা। জাতিগর্বের চরম প্রকাশ দেখা গেছে সেখানে। জার্মানি আরও দেখিয়ে দিয়েছে মূলগত পার্থক্যবিশিষ্ট বিভিন্ন জাতি ও সংস্কৃতির পক্ষে একটি একীভূত সমগ্র হিসেবে একাত্মীভূত হওয়া কতখানি অসম্ভব। এ এমন এক শিক্ষা যা আমাদের হিন্দুস্থানের পক্ষে শেখা ও তা কাজে লাগিয়ে লাভবান হওয়া উচিত।“

নিজের ‘হিন্দুরাষ্ট্র’-র ধারণাকে গোলওয়ালকর যে হিটলারের সর্বগ্রাসী ও ফ্যাসিস্ত ধরনের অনুসরণেই নির্দ্বিধায় গড়ে তুলেছিলেন তা স্পষ্ট হয়ে যায় ওই বইয়েরই নিম্নলিখিত কথাগুলি থেকে:

“এইসব প্রাচীন রাষ্ট্রগুলি কীভাবে তাদের সংখ্যালঘু সমস্যার সমাধান করেছে, তা অবশ্যই মনে রাখতে হবে। নিজেদের রাষ্ট্রকাঠামোয় কোনও পৃথক উপাদানকে স্বীকৃতি দিতে রাজি হয়নি তারা। দেশের বৃহত্তম জনসংখ্যা বা ‘রাষ্ট্রীয় জাতি’র মধ্যে একাত্মীভূত হতে হয়েছে বহিরাগত অভিবাসীদের, গ্রহণ করতে হয়েছে তাদের সংস্কৃতি ও ভাষা, অংশীদার হতে হয়েছে তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার, নিজেদের পৃথক অস্তিত্বের কথা সম্পূর্ণভাবে ভুলতে হয়েছে, ভুলতে হয়েছে তাদের বিদেশি উৎসের কথা। তা না করলে নিছক বহিরাগত হিসেবেই থাকতে হবে তাদের, রাষ্ট্রের সমস্ত বিধি-নিয়ম মেনে চলতে হবে, রাষ্ট্রের অধীনস্থ হয়ে থাকতে হবে, কোনও বিশেষ সুরক্ষা পাবে না, কোনও সুবিধা বা অধিকারের তো প্রশ্নই ওঠে না। বহিরাগতদের জন্য মাত্র দুটি পথই খোলা আছে-হয় রাষ্ট্রীয় জাতির সঙ্গে মিশে যেতে হবে এবং তাদের সংস্কৃতি গ্রহণ করতে হবে, অথবা রাষ্ট্রীয় জাতি যতদিন চাইবে, ততদিন তাদের করুণার উপর নির্ভর করে বেঁচে থাকা এবং রাষ্ট্রীয় জাতি যখনই চাইবে, তখনই দেশ ছেড়ে চলে যাওয়া। সংখ্যালঘু সমস্যা সম্বন্ধে এটিই একমাত্র যুক্তিনিষ্ঠ দৃষ্টিভঙ্গি। এটিই একমাত্র যৌক্তিক ও সঠিক সমাধান। নিজেদের রাষ্ট্রকাঠামোয় রাষ্ট্রের মধ্যে রাষ্ট্র সৃষ্টির মতো কর্কটরোগতুল্য বিপদ থেকে জাতিকে নিরাপদ রাখার এটাই একমাত্র উপায়।“

আরএসএস হচ্ছে কে.বি হেডগেওয়ার, ভি.ডি সাভারকর এবং বি.এস মুঞ্জে-র মস্তিষ্কপ্রসূত সংগঠন। এঁরা প্রত্যেকে এবং গোলওয়ালকর, যিনি হেডগেওয়ারের পর আরএসএসের প্রধান (সরসংঘচালক) হন, ফ্যাসিবাদ ও নাৎসিবাদের একনিষ্ঠ ভক্ত ছিলেন। একদিকে আরএসএসের প্রতিষ্ঠাতারা এবং অন্যদিকে ফ্যাসিবাদ ও নাৎসিবাদের মধ্যেকার ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্ক অনুসন্ধানের ব্যাপারে পথিকৃৎসুলভ কাজ করেছেন ভারতীয় রাজনীতি বিষয়ক ইতালীয় গবেষক মারজিয়া কাসোলারি।’ নয়া দিল্লির ‘নেহরু মেমোরিয়াল মিউজিয়াম অ্যান্ড লাইব্রেরি’তে রক্ষিত মুগ্ধে-র ডায়েরিগুলি খুঁটিয়ে দেখে এই দুয়ের মধ্যেকার সম্পর্ক খুঁজে বার করার চেষ্টা করেছেন তিনি। তাঁর মতে,

(ইতালীয়) ফ্যাসিস্ত সরকারের প্রতিনিধিবৃন্দ, মুসোলিনিও যার অন্তর্গত এবং হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের মধ্যে প্রত্যক্ষ সংযোগের অস্তিত্ব থেকে বোঝা যায় যে, ফ্যাসিবাদের মতাদর্শ ও কার্যকলাপ সম্বন্ধে হিন্দু জাতীয়তাবাদের কেবলমাত্র বিমূর্ত কৌতূহল ছিল না, তার থেকে বেশি কিছুই ছিল। ফ্যাসিবাদ ও মুসোলিনির প্রতি ভারতীয় হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের আগ্রহকে আমাদের কেতাবি আগ্রহ থেকে কোনও বিশেষ ধরনের সরকারের নীতিকে আমরা পছন্দ করতে পারি, কিন্তু জার্মানি বা জাপান বা রাশিয়া বা ইতালিরও যে সেই নীতিটাই গ্রহণ করা উচিত-এমন ফরমান জারি করার আমরা কে? জার্মানির পক্ষে কোনটা সবথেকে উপযুক্ত সেটা পণ্ডিত নেহরুর থেকে হিটলার অবশ্যই অনেক ভালো জানেন। নাৎসিবাদ বা ফ্যাসিবাদের জাদুদণ্ডের ছোঁয়ায় জার্মানি বা ইতালি এত চমৎকারভাবে সামনে উঠেছে এবং এত শক্তিশালী হয়ে উঠেছে, যেমনটা তারা আগে কখনও ছিল না-এই তথ্যটাই প্রমাণ করে যে, তাদের স্বাস্থ্যের পক্ষে ওই রাজনৈতিক ‘মতবাদগুলোই’ সবথেকে উপযুক্ত টনিক হিসেবে প্রয়োজনীয় ছিল।

হিটলারের ইহুদিবিরোধী অভিযানকে সমর্থন করেই চলেন সাভারকর। ১৯৩৮ সালের ১৪ অক্টোবর ভারতে মুসলিম সমস্যার সমাধানেও একই দাওয়াই বাতলান তিনি, কোনও ভূখণ্ডে বসবাসকারী সংখ্যাগুরুদের নিয়েই দেশ গড়ে ওঠে। জার্মানিতে ইহুদিরা কী করছে? তারা সংখ্যালঘু বলে তাদের জার্মানি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।”

জাতীয় পতাকার প্রতি কি আরএসএসের আনুগত্য আছে?

১৯২৫ সালে জন্মলগ্ন থেকেই ব্রিটিশ শাসনবিরোধী ভারতীয় জনগণের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের যে কোনও প্রতীককে ঘৃণা করে এসেছে আরএসএস। এর মধ্যে সবথেকে প্রাসঙ্গিক হচ্ছে ভারতের জাতীয় পতাকা তেরঙ্গার বিষয়টা। ১৯২৯ সালের ডিসেম্বর মাসে লাহোর অধিবেশনে জাতীয় লক্ষ্য হিসেবে ‘পূর্ণ স্বরাজ’কে গ্রহণ করে কংগ্রেস এবং তেরঙ্গা পতাকা উড়িয়ে ও তাকে সম্মান জানিয়ে ১৯৩০ সালের ২৬ জানুয়ারি দিনটিকে ‘স্বাধীনতা দিবস’ হিসেবে পালন করার জন্য আহ্বান জানায় মানুষকে (ততদিনে ঐকমত্যের ভিত্তিতে জাতীয় আন্দোলনের পতাকা হিসেবে স্বীকৃত হয়েছিল তেরঙ্গা)। এর উত্তরে সরসংঘচালক হিসেবে হেডগেওয়ার সমস্ত আরএসএস শাখার কাছে একটি সার্কুলার পাঠিয়ে ‘ভাগোয়া ঝাণ্ডা’ (গেরুয়া পতাকা)কে জাতীয় পতাকা হিসেবে উপাসনা করার নির্দেশ দেন। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল-এমনকী আজও আরএসএসের কোনও কাজে তেরঙ্গা বা জাতীয় পতাকা ব্যবহার করা হয় না। মুরলী মনোহর যোশীর মতো আরএসএস নেতারা তাঁদের ভণ্ড দেশপ্রেম দেখানোর জন্য ১৯৯১ সালে কাশ্মীরে শ্রীনগরের লাল—চলবে

@freemang2001gmail-com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About

ranjan.254@gmail.com Avatar

Featured Posts

Work Experience

Technologies

Creating