Form and Content in literary criticism

Every phenomenon or things has a certain content and is manifested in a certain form. Content is the totality of the components

সম্পাদকের কলমে

সম্পাদকের কলমে

Form and Content in literary criticism

Every phenomenon or things has a certain content and is manifested in a certain form. Content is the totality of the components

মনুবাদী শাসকের মুখে সপাটে চড় হরমনপ্রীতদের জয়ে

নভি মুম্বাইয়ের ডিওয়াই পাটিল অ্যাকাডেমি স্টেডিয়ামে রবিবার রাতে ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস রচনা করলেন ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের সদস্যরা। যে রাজ্যের বুকে দাঁড়িয়ে তৈরি হলো ইতিহাস, সেই রাজ্যের নাগপুরেই আরএসএসের সদর দপ্তর।
সেই আরএসএস যারা মনুবাদে বিশ্বাসী। মনু সংহিতায় বলা আছে

“বাল্যে পিতুর্বশে তিষ্ঠেৎ পাণিগ্রাহস্য যৌবনে।
পুত্রাণাং ভর্তরি প্রেতে ন ভজেৎ স্ত্রী স্বতন্ত্রতাম।” (৫/১৪৮)


নারী বাল্যে পিতার, যৌবনে স্বামীর এবং বার্ধক্যে পুত্রদের অধীন; কখনও স্বাধীনভাবে থাকবেন না। এখানেই শেষ নয়। মনুবাদে বিশ্বাসী মানুষ মনে করেন মহিলাদের জন্ম শুধমাত্র ঘরের কাজ করার জন্য। রান্না ঘরেই তারা আবদ্ধ থাকবে। এই সব ধারনাকে ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে হরমনপ্রীত কৌর, রিচা ঘোষরা।
জয় শাহের হাত থেকে যখন ট্রফি নিচ্ছিলেন হরমনপ্রীত, তারপর তাদের উচ্ছ্বাস যেন দেখিয়ে দিচ্ছিল বার বার যে, আজ কোন অর্ধেক আকাশ নয় গোটা বিশ্ব আমাদের। যারা মহিলাদের দমিয়ে রাখতে চায় তাদের আজ মাথা নিচু করার দিন।
ঝুলন গোস্বামী, মিতালী রাজরা লড়াই করেছিলেন। তবে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হতে পারেননি। সেই কাজ গতকাল করেছে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের বর্তমান সদস্যরা। আর তাই ট্রফি হাতে ঝুলনের চোখের জল এখনও ভুলতে পারছেন না অনেকে।
সাধারণত একটা বিশ্বকাপ ফাইনালে দল উঠলে একটা জিনিস লক্ষ করা যায়। তা হচ্ছে পাড়ায় পাড়ায় বড় জাতীয় পতাকা এবং খেলোয়াড়দের ছবি দেওয়া পোস্টার। ক্রিকেটে ভারত, ফুটবলে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা যে দলই ফাইনাল বা সেমি ফাইনালে উঠেছে তার জন্য গলা ফাটিয়েছে কলকাতা। হয়েছে বিভিন্ন ধর্মীয় উপাচার। কিন্তু গতকালের ফাইনালটা ছিল একটু আলাদা। সেমি ফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পর যেন শুরু হলো সব আচলোনা। তার আগে সেই ভাবে কোন আলোচনা ছিল না। আসলে বিশ্বাসই তো ছিল না যে ‘মেয়েরা পারে’।
রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলিরা যে কাজ এখনও করে উঠতে পারেনি। সেই কাজটা করে দেখিয়ে দিল ভারতের মহিলা ক্রিকেট দলের সদস্যরা। কাজটা কখনও সহজ ছিল না। এই দেশে মহিলাদের এখনও কোন চোখে দেখা হয় তা আমরা ভালো ভাবে জানি। রাতের বেলায় মহিলারা কোন কাজ করতে পারবে না এমন নিদান এখনও এই দেশে চলে। পশ্চিমবঙ্গের মহিলা মুখ্যমন্ত্রী এই নিদান দিয়েছেন। রাত ১০টার পর মহিলাদের বাইরে বেরনো উচিত নয়। কিন্তু কী দেখা গেলো রবিবার। ঘড়ির কাঁটা যখন প্রায় মধ্যরাত তখন নাগপুর থেকে অদূরে নতুন ইতিহাস লিখছেন মহিলারা। নাগপুরের প্রিয় ছাত্রী হিসাবে সেই ইতিহাস রচনা দেখছেন মমতা।
আমাদের দেশে এখনও মহিলা ক্রিকেটের উন্নতির জন্য কোন ভালো অ্যাকাডেমি নেই, নেই ভালো কোচিং। সরকারি ইচ্ছার কথা বাদ দিলাম। কিন্তু এই সবের মধ্যে দাঁড়িয়ে সাধারণ ঘর থেকে উঠে আসে মেয়েরা ক্রিকেটের বিশ্বমঞ্চের যেই লড়াই দেখালো তা কুর্নিশ কুড়িয়েছে গোটা বিশ্বের।
একটা সময় যেই মহিলা ক্রিকেটকে পাত্তা দেওয়া হতো না। সেই ধারণা বদলে গিয়েছে। ফাইনালেও দেখা গিয়েছে গোটা স্টেডিয়াম ভর্তি দর্শক। টিভির পর্দায় একবারও মনে হয়নি যে এটা আইসিসি বিশ্বকাপ (পুরুষ) থেকে কম কিছু।
দেশের মান রেখেছে দেশের মেয়েরা। ১৯৮৩ সালের জয় ভারতীয় ক্রিকেটের মোড় ঘুরিয়ে ছিল। এই জয় মহিলা ক্রিকেটের মোড় ঘোরায় কি না সেটাই এখন দেখার।
তবে গতকালের খেলা শুধু মেয়েরা নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করেছে তা নয়। একজন পুরুষও নিজের যোগ্যতা গতকাল প্রমাণ করেছেন। তিনি ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের কোচ। অমল মুজুমদার। ভারতীয় দলে কোনদিন সুযোগ পাননি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ধারাবিহক সাফল্যের পরও। ২০২৩ সালে মহিলা দলের দায়িত্ব নিয়ে নিজের বৃত্ত সম্পূর্ণ করলেন তিনি।

আরো খবর পড়ুন

মহিলা ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয় ভারতের

ইতিহাস। ভারতের মাটিতে লেখা হলো ক্রিকেটের নতুন ইতিহাস। প্রথমবার মহিলাদের ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয়ী হলো ভারত। দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে এদিন জয়ী হয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট দলের মহিলা সদস্যরা। 

স্বপ্ননগরীতে স্বপ্নপূরণ হলো তবে তবে।২৫ বছরের অপেক্ষাকর শেষে ঘরে এলো প্রথম ট্রফি।
৪১ ওভারে  দক্ষিণ আফ্রিকার ক্যাপ্টেন লারা উল্ভার্ট এর অতি গুরুত্ব পূর্ণ উইকেট নেন আমানজীৎ কৌর। বল করেন দীপ্তি শর্মা। গোটা ম্যাচে তিনি বিভিন্ন স্বময় অতন্য গুরু ও সব উইকেট নেন তিনি।
৪৪ ওভারে শ্রীচরনির বলে ডিকলাক ৩টি ৪ হাঁকালেও শেষ বলে শ্রীচরণী থাকার গুরুত্বপূর্ণ একটি উইকেট নিয়ে নেন।৪৫ ওভারে দীপ্তির বলে এন ডি ক্লার্ক এর বেএকটি তুলে নেন হরমানপ্রীত কৌর।এবং এসব সেইঅতি প্রত্যশিত জয় । 
৫২(২৮) রানে জয়লাভ ভারতের ।
সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ভারত প্রমাণ করে দিয়েছিল যে ফাইনালে তারাই ফেভারিট। কিন্তু ফাইনাল খেলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত ভাবে কিছু বলা যায় না। তবে এদিন প্রথম থেকেই খেলার হ্রাস নিজেদের হাতে রেখে ছিল ভারত। দক্ষিণ আফ্রিকাকে দ্বিতীয় ইনিংসে ২৯৯ টার্গেট টায় ভারত। প্রথম দিকে কিছুটা চেষ্টা করল পরবর্তীকালে নড়বড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা হাল ছেড়ে দেয়। ম্যাচ নিজের পকেটে পুরানে ভারত। 
এর আগে ১৯৮৩ এবং ২০১১ সালে পুরুষ বিভাগে বিশ্বকাপ জয়ী হয়েছিল ভারত এবার প্রথম মহিলা বিশ্বকাপ নিজেদের ঘরে তুলল ভারত।
এখনও একবিংশ শতাব্দীতে যখন বিভিন্ন প্রান্তে ভারতবর্ষে মহিলাদেরকে সমাজে জুজু দেখিয়ে কোণঠাসা করা হচ্ছে তাদের উপর নামিয়ে নেওয়া উচিত বিভিন্ন আক্রমণ। মনুবাদী কায়দায় চলছে তাদের উপর আক্রমণ। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের জয় সমাজে নতুন বার্তা দিচ্ছে বলেই মনে করছেন অনেকে।

@freemang2001gmail-com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About

ranjan.254@gmail.com Avatar

Featured Posts

Work Experience

Technologies

Creating