ভোটের ফল বেরনোর পর ২৪ঘণ্টাও কাটেনি। গুলি করে নয়, স্রেফ পিটিয়ে নৃশংসভাবে খুন করা হয় প্রাথমিক শিক্ষক এবং সিপিআই (এম) গড়বেতা জোনাল কমিটির সদস্য কমরেড জিতেন নন্দীকে (৫৭)। কমরেড নন্দীর বাড়ি বেনাচাপড়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার নেড়াশোল গ্রামে। তৃণমূলীদের হুমকির কাছে আত্মসমর্পণ করেননি তিনি, কয়েকজন পার্টিকর্মীর সঙ্গেই তিনি ফলপ্রকাশের পরের দিন সকালেও এসেছিলেন মায়তায় পার্টি অফিসে। লাগোয়া গোয়ালতোড়সহ গড়বেতা এলাকা থেকে বেশ কয়েকজন সশস্ত্র দুষ্কৃতীকে নিয়ে আচমকাই তৃণমূলীরা চড়াও হয় সেই পার্টি অফিসে। পার্টি অফিস থেকে তারা বের করে কমরেড জিতেন নন্দীকে, মারতে মারতে তুলে নিয়ে যায় সেই সশস্ত্রবাহিনী। স্রেফ পিটিয়েই তাঁকে খুন করে তাঁর মৃতদেহ পার্টি অফিস থেকে কিছুটা দূরে একটি খালের ধারে ফেলে রাখা হয়। ঐ একইদিনে বর্ধমানের রায়নায় সিপিআই(এম) সমর্থক পূর্ণিমা ঘড়ুইকে শুধুমাত্র লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে।
ভোটে জেতার ২৪ঘণ্টা ব্যবধানেই শুরু হলো নৃশংস উন্মত্ততা— যা বাড়তে লাগলো প্রতিমুহূর্তে। সেই নতুন সরকারের এই ৯০টি দিনেই শহীদ তালিকায় যুক্ত হয় ৩০জন সাহসী বামফ্রন্টকর্মীর নাম। ফলপ্রকাশের পর থেকে নতুন সরকারের শপথগ্রহণের দিন অবধি খুন হয়েছেন ৮জন বামপন্থী কর্মী। যে ৩০জন বামপন্থী কর্মী, নেতৃত্ব খুন হয়েছেন তাঁদের মধ্যে ১০জন সংখ্যালঘু, ৩জন আদিবাসী, ১১জন তফসিলী জাতিভুক্ত (মহিলা তিনজন)। রয়েছেন খেতমজুর, গরিব কৃষকও।
তৎকালীন বিরোধী দলনেতার লেখা চিঠিটি পড়ার সময় থাকলে অথবা স্বরাষ্ট্রদপ্তরের আধিকারিকদের কাছ থেকে তথ্য চাইলেও জানতে পারতেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তবুও আরো একবার জনসাধারণের জ্ঞাতার্থে জানিয়ে রাখছি ৩০জন শহীদের নাম—
জিতেন নন্দী (গড়বেতা), পূর্ণিমা ঘড়ুই (রায়না), অজিত লোহার (তালডাংরা), দিবারাণী মণ্ডল (রানীনগর), রামপ্রবেশ রায় (দুর্গাপুর), মুন্দাকলা রায় (দুর্গাপুর), দহিরুদ্দীন (চোপড়া), মহম্মদ খোদারাখা (মাড়গ্রাম), অমল সমাদ্দার (বারুইপুর), মহবুল শেখ (বেলডাঙা), মোফাস্বের শেখ (বেলডাঙা), শেখ সাহ্দাত (পুরশুড়া), সুদেব বর্মন (বালুরঘাট), রবি সাউ (জঙ্গলমহল), লক্ষীকান্ত সর্দার (গড়বেতা), অলোক বেওড়া (কোতলপুর), ভবেশ শবর (ঝাড়গ্রাম), নরেন গায়েন (বারুইপুর), সীতারাম কুণ্ডু (বিষ্ণুপুর), যদুনাথ মণ্ডল (রানাঘাট), জাকির হোসেন (দেগঙ্গা), জুল্হক শেখ (বেলডাঙা), নির্গুণ দুবে (হীরাবাঁধ), সনৎ সাউ (উদয়নারায়ণপুর), সামসের আলম (রায়না), ফিরোজ আখতার (গোন্দলপাড়া), উৎপল বাগদি (পাত্রসায়র), মগাই মুণ্ডা (সোনারপুর), নাসিরুদ্দিন মণ্ডল (ক্যানিং), রাজকুমার যাদব (শিলিগুড়ি)।
শোচনীয় পরাজয়ের বিধানসভা নির্বাচনপ্রক্রিয়া নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিচারব্যবস্থা নেই। কেন্দ্রীয় সরকার এক দলের শাসন চায়। তাঁর প্রশ্ন—গণতন্ত্র কোথায় যাবে?
পশ্চিমবঙ্গের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচন কমিশন ১০০ আসন লুট করেছে।

@freemang2001gmail-com



