Form and Content in literary criticism

Every phenomenon or things has a certain content and is manifested in a certain form. Content is the totality of the components

সম্পাদকের কলমে

সম্পাদকের কলমে

Form and Content in literary criticism

Every phenomenon or things has a certain content and is manifested in a certain form. Content is the totality of the components

মমতা ও আরএসএস সম্পর্ক

*1] 1998 সাল। কংগ্রেস ছেড়ে বেরিয়ে এলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) নির্দেশে। টাকা দিল সংঘ-বিজেপি। নতুন দল হলো। দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনে নতুন দলের রেজিস্ট্রি হলো, প্রতীক হলো বিজেপির সক্রিয় সহযোগিতায়। বাংলায় পরপর দুবছর 98-99 লোকসভা ভোটে তৃনমুল বিজেপি জোট হলো। বিজেপি দুটো এম পি সিট আর একটা এম এল এ সিট পেল তৃণমূলের ভোটে। বাংলায় এই ফ্যাসিস্ট শক্তিকে জমি দিলো তৃনমুল। 5 বছর ধরে কেন্দ্রীয় বাজপেয়ী মন্ত্রীসভায় রেল, কয়লা ও দপ্তরবিহীন মন্ত্রী দিদিমণি। আর এস এস কে বললেন দেশের প্রকৃত স্বাধীনতা সংগ্রামী সংগঠন। উত্তরে আর এস এস বলল দিদিমণি হলেন মা দুর্গা। সম্পর্ক এগোতে থাকলো। সিঙ্গুরে সক্রিয় সমর্থন দিল বিজেপি। রাজনাথ ছুটে এলেন চকলেট স্যান্ডুইচের মাঝে ফলের রস খাওয়াতে। একদিকে দিদিমণি এগোচ্ছেন আর এস এস এর মূল এজেন্ট হিসেবে, অন্যদিকে দ্রুতগতিতে পিছোচ্ছে বাংলা। এই ভয়ংকর শক্তির সাথে জোটানো হলো হিংস্র মাওবাদী, ভাড়াটে লুম্পেন বুদ্ধিজীবী সহ নামে বেনামে থাকা সংঘের আরো কিছু শাখা। জঙ্গলমহলে দিনে দুপুরে সিপিআইএম কর্মীদের খুন শুরু করলো এই হিংস্র বাহিনী । টাকা ঢালতে থাকল আমেরিকার কলকাতা এমব্যাসি। রায়চকে গোপন মিটিং হলো। 2011 তে বাংলার দখল।

হ্যাঁ এজেন্ট। বাংলা দখলে আর এস এস এর মূল এজেন্ট। ভবিষ্যতে সঠিক ইতিহাস লেখা হবেই একদিন। তবু একটা কথা, শেষ লড়াই কিন্তু এখনো বাকি আছে।

*2] যদি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস) দেখে যে কোনও একটি আসনে বিজেপি’র জেতার সম্ভাবনা নেই বরং তাদের উদ্দেশ্য সফল করতে পারে বিজেপি বাদে অন্য পার্টির কোনও নেতা, তবে বিজেপিকে বাদ দিয়ে সেই নেতাকে সমর্থন করতে তাদের বিন্দুমাত্র দ্বিধা নেই। 

সদ্য প্রকাশিত ‘মিশন বেঙ্গল’ নামে একটা বইতে বলা হয়েছে যে পশ্চিমবঙ্গে ২০১১-তে বাম সরকারকে হটানো আরএসএসের পরিকল্পনার মধ্যেই ছিল। আরএসএসের ঘোষিত তিন গৃহশত্রু – মুসলমান, খ্রিস্টান ও কমিউনিস্ট। সিপিআই(এম) আরএসএসের চক্ষুশূল।

২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সিপিআই(এম)কে দুর্বল করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়েছিলেন মমতা ব্যানার্জি, আরএসএসের সক্রিয় ভূমিকা ছিল তাঁর পক্ষে। ২৮৯টি আসনে একা লড়েছিল বিজেপি। একটি-দুটি আসন ছাড়া, বিজেপি প্রার্থীদের আন্তরিকভাবে প্রচার করতে বা টাকা পয়সা খরচ করতে কেউ দেখেনি। ২০১১ সালে বামফ্রন্ট বিরোধী যে হাওয়া উঠেছিল, বেশি প্রচার করলে সেই হাওয়ার ক্ষতি হতো, আরএসএস তা চায়নি। ২৮৫টি আসনেই জামানত জব্দ হয়েছিল, ভোট পায় ৪ শতাংশ, পশ্চিমবঙ্গে যেদিন থেকে বিজেপি ২০০-র বেশি আসনে প্রার্থী দিতে শুরু করেছে (১৯৯১ সাল) তাতে এই শতাংশ ছিল সর্বনিম্ন। ২০১৪-তে লোকসভা নির্বাচনে, মমতাকে জেতানোর যখন দায় নেই, তখন বিজেপি আগ্রাসী প্রচার চালায়, ভোট বেড়ে হয় ১৭ শতাংশ।

                                                                                                                                                                                                              এই রাজ্যে কমিউনিস্টদের রাজ্য সরকার থেকে হটাতে মমতাই পারবে, সেই আশা আরএসএস অনেক আগেই ব্যক্ত করেছে। ২০০৩ সালে দিল্লিতে একটি বই প্রকাশের অনুষ্ঠানে আরএসএস মমতাকে আমন্ত্রণ করে, সেখানে তাকে দুর্গা বলে অভিহিত করে ও কমিউনিস্টদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে উৎসাহ দেয়। টাইমস অব ইন্ডিয়া লিখেছে, যে সভায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জর্জ ফার্নান্ডেজ, আরএসএসের গুরুত্বপূর্ণ নেতা মোহন ভাগবত, এইচভি শেষাদ্রি, মদন দাস দেবী থাকলেও আরএসএস নেতা কর্মীদের কাছে মূল আকর্ষণ ছিলেন মমতা। সেখানে তিনি আরএসএসকে দেশপ্রমিক বলেন, আরও বলেন – “আপনারা যদি আমাকে মাত্র ১ শতাংশ সমর্থন দেন, তবে আমরা লাল সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারবো।… কমিউনিস্টদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমরা আপনাদের সাথে আছি”। সেদিনই জানা গেল যে আরএসএসের নেতাদের সাথে তাঁর মাঝে মাঝে সাক্ষাৎ হয়। ফার্নান্ডেজ তাকে ‘লাল সন্ত্রাস’-এর বিরুদ্ধে প্রচার করতে সারা দেশ ঘুরতে বলেন।

২০১৬ সালের মে মাসে বিধানসভা নির্বাচনে মমতা ব্যানার্জি জিতে আবার মুখ্যমন্ত্রী হন ৬ জুন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী উমা ভারতী পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন –“মমতা ব্যানার্জি আজ যা হয়েছেন ঠিক তা কি তিনি হতে পারতেন? সঙ্ঘের কর্মীদের কঠোর পরিশ্রমের ফলে তিনি জিতে বেরিয়ে এসেছেন”। ২০১৬ সালের নির্বাচনের আগে ২০১৪ সালে বর্ধমানে খাগড়াগড়ে বিস্ফোরণে মমতা ব্যানার্জির মুসলিম সন্ত্রাসবাদীদের মদত দেওয়ার ঘটনা সামনে আসার পরেও মুসলিমদের শত্রু আরএসএসের ২০১৬ সালের নির্বাচনে তাঁর পক্ষে কাজ করতে আটকায়নি। আরএসএসের তৎপরতায় ২০১৬তে বিজেপি’র ভোট ১০ শতাংশে নেমে গেল।

২০১৬-তে মমতা জিতলেন ভবানীপুর বিধানসভা থেকে, ভোট পেলেন প্রায় ৪৮ শতাংশ। অথচ ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই বিধানসভা কেন্দ্রেই তৃণমূল পেয়েছিল ৩৪ শতাংশ ভোট, বিজেপি জিতেছিল। ২০১৪ থেকে ২০১৬— এই কেন্দ্রে বিজেপি’র ১৫ শতাংশ ভোট কমে তৃণমূলের ১৪ শতাংশ ভোট বেড়েছে।

তৃণমূলের আমলে এই রাজ্যে আরএসএসের প্রতিপত্তি বেড়েছে। আরএসএস তার সদস্যদের নিয়মিত সমাবেশ করে, যে সমাবেশগুলি প্রতিদিন হয় তাদের বলে শাখা, যারা প্রতিদিন আসতে পারেন না তারা সপ্তাহে একদিন আসতে পারেন, সেই সমাবেশকে বলে মিলন, আর মাসে একদিন আসলে তাকে বলে মণ্ডলী। ২০১১ সাল পর্যন্ত এই ধরনের সমাবেশ ছিল মোট ১১০০, বর্তমানে তা হয়েছে ২৯০০। ২০১১-তে আরএসএসের ৮০০টি শাখা ছিল, ২০১৯-এ তা দাঁড়িয়েছে ১৮০০তে। ফলে বামফ্রন্ট গিয়ে তৃণমূল আসায় আরএসএসের পোয়াবারো। ‘মিশন বেঙ্গল’ বইয়ের লেখককে পশ্চিমবঙ্গের আরএসএসের এক প্রবীণ নেতা বলেছেন যে বাম শাসন একটা ‘আদর্শগত প্রতিবন্ধকতা’ তৈরি করেছিল সঙ্ঘের বৃদ্ধির পক্ষে, আরেকজন প্রবীণ কর্মী বলেছেন যে তৃণমূলের আমলে কাজ করতে আরএসএসের ‘কিছুটা স্বাধীনতা এসেছে’। আরএসএসের একটি সংগঠনকে টাকা দিয়ে সাহায্য করেছে তৃণমূল সরকারের বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও জৈবপ্রযুক্তি দপ্তর, আরএসএসের আরেকটি সংগঠনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী সাধন পান্ডে, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় আরএসএসের আরেকটি সংগঠনের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছিলেন জেলার তৃণমূল বিধায়ক ও পঞ্চায়েত প্রধানরা।

*3] মমতার সাথে এখন আরএসএসের সম্পর্ক খারাপ হয়ে গেছে, সেটা ভাবা ভয়ানক ভুল। বিজেপি’র রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ দিনরাত যখন মমতাকে গালাগাল করছেন সেই সময়েও ২০১৯ সালে মমতার জন্মদিনে মমতা সম্বন্ধে তিনি বলেছিলেন –‘‘তাকে সুস্থ থাকতে হবে কারণ বাংলা থেকে যদি কোনও বাঙালির প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ থাকে, তবে তা তারই আছে”। তিনি আরও বলেন- “আমাদের রাজ্য থেকে প্রথম বাঙালি রাষ্ট্রপতি হিসাবে আমরা প্রণব মুখার্জিকে পেয়েছিলাম, তাহলে এখন সময় একজন বাঙালিকে প্রধানমন্ত্রী করার”। একদম আচমকা এই কথাটা দিলীপ ঘোষ বলে ফেলেছেন তা হয় না, মমতার প্রতি আরএসএসের দরদি মনোভাবের জন্যই মুখ থেকে এমন কথা বেরিয়েছে। সরকারের মন্ত্রীসভা, আমলাতন্ত্র, সেনাবাহিনী, আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সব জায়গাতেই তার পছন্দ লোকদের বসাতে চায় আরএসএস। মমতা ব্যানার্জি তাদের পছন্দের তালিকায় এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব, তাকে দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে আরএসএস রাখতে চায়।

রাজনৈতিক জীবনে মমতার অনেক অসংলগ্নতা নিয়ে অনেকে বলতে পারেন – তিনি কখনো এটা বলেন, কখনো ওটা বলেন, প্রচুর মিথ্যা বলেন, কখনো বিজেপি’র সাথে, কখনো কংগ্রেসের সাথে। কিন্তু একটা বিষয়ে তিনি তার রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকে চিরকালই অবিচলিত স্থির অবস্থান নিয়ে গেছেন, সেখানে তিনি সম্পূর্ণ একনিষ্ঠ, কোনও দোলাচল নেই – তা হচ্ছে তার আজীবন তীব্র অন্ধ কমিউনিস্ট বিরোধিতা। আর এর জন্যই আরএসএসের কাছে মমতার আলাদা গুরুত্ব। ফলে আরএসএস কোনদিন তাঁর ও তাঁর ভাইপোর দুর্নীতি নিয়ে বেশিদূর এগোতে বিজেপিকে অনুমতি দেবে না। বিজেপি ও তৃণমূলের ক্ষমতা নিয়ে যতই প্রকাশ্যে খেয়োখেয়ি হোক, আরএসএসের লক্ষ্য সফল করতে মমতার অবদান যে কম নয় সেটা আরএসএসের সর্বোচ্চ নেতারা জানেন।

ফলে যাঁরা ভাবছেন বিজেপি-কে দিয়ে মমতাকে জেলে ঢোকাবেন, সে আশায় গুড়ে বালি। আর যাঁরা ভাবছেন যে মমতাই আসলে মুসলিমদের রক্ষাকর্তা, তাঁরা জানেন না যে মুসলিমদের অনেক বড়ো ও স্থায়ী বিপদ আরএসএসকে এই রাজ্যে বাড়তে সাহায্য করেছেন মমতাই।

*4] এখন কেউ কেউ তৃনমূলকে কম বিপদজনক বলার একটা প্রয়াস পাচ্ছে। সে জন্যই বিজেপি–মমতা কেন এক, তা আমাদের আলোচনায় আনতে হবে। তার জন্যই এই লেখার ক্ষুদ্র প্রয়াস।

এর বাইরেও অনেক বিষয় আছে, যা আমার মস্তিষ্কে নেই। আপনারা বলবেন। মমতার রাজনৈতিক জন্মবৃত্তান্ত ও অপকীর্তিগুলি – তৃণমূল দলটা আর পাঁচটা আঞ্চলিক দলের মতো নয়। অনেক দিন আগেই ১৯৯২ সালে কমরেড জ্যোতি বসু শিলিগুড়িতে পার্টির সম্মেলনে বলেছিলেন – বাম সরকারকে ভোটে পরাজিত করা মুশকিল। কিন্তু ফেলে দেবার চক্রান্ত হচ্ছে না, তা মনে করবেন না। কমিউনিস্টদের পরিচালনায় একটা সরকার চলবে দিনের পর দিন, আর শ্রেণী শত্রুরা চুপ করে বসে থাকবে, তা কখনও হতে পারে না! ছোট একটা অঙ্গ রাজ্য হলে কী হবে, এখানেও কিন্তু আছে সাম্রাজ্যবাদীদের শ্যেণ দৃষ্টি। মনে পড়ছে নিশ্চয়ই পুরুলিয়ায় অস্ত্র বর্ষণের কথা, বীরভূমের সুচপুরে কলকাতার মার্কিন কনসুলেট থেকে লোক পাঠানো – এরকম অনেক ঘটনা! তারই পরম্পরায় দেখতে পাই, অনেক শলা পরামর্শের পর ১৯৮৫-তে পরিকল্পনা নিয়ে ধাপে ধাপে এগিয়ে ১৯৯৮ সালে তৃণমূল দলটির সৃষ্টি। রুশতেম গ্যালিউলিনের লেখা ‘দ্য সি আই এ ইন এশিয়াঃ কভার্ট অপারেশন এগেনস্ট ইন্ডিয়া এণ্ড আফগানিস্তান’ নামে একটা বইয়ের কথা জেনেছি আমরা। সেখানে তৃণমূল দলের সৃষ্টি রহস্য’র কথা লেখা আছে। মূলত মার্কিন সামাজ্যবাদ এই দলের সৃষ্টির কারিগর। · তাই, সাম্প্রতিককালে, ২০০৬-’৭ ‘এ আমেরিকার মাতামাতি। কত ‘সুশীল’, কত গায়ক, কত তারকা, কত নট–নাট্যকার, কত সাংবাদিক, কত এন জি ও‘র আষ্ফালন, রাজ্যপাল গোপালকৃষ্ণ গান্ধী’র দৃষ্টিকটূভাবে পক্ষপাত, পশ্চিম মেদিনীপুরে মার্কিন সাংবাদিকের অধিষ্ঠান, সর্বোপরি ঘোষিতভাবে বিপরীত মেরুর দলগুলিকে পর্যন্ত এক দড়িতে বেঁধে, বিরোধী শিবির গড়ে দেওয়া – এসব কোন কাকতালীয় ব্যাপার ছিল না। শুভাপ্রসন্নের রায়চকের বাড়িতে ৩২টি দেশের কনসুলেটদের সভায় কোন কাকতালীয় ব্যাপার ছিল না। · কোন কাকতালীয় ব্যাপার ছিল না, ২০১১’র পরিবর্তনের পরই, হিলারী ক্লিন্টনের রাজভবনে আসাটাও। · মমতা গণতন্ত্র বিরোধী,সন্ত্রাসবাদী। তার গুণ্ডাবাহিনী এ’কয় বছরে বামপন্থীদের কত অফিস ভেঙ্গেছে, কত বামপন্থীকে গ্রেপ্তার করেছে, কত বামপন্থীকে হত্যা করেছে, তার কোন ইয়ত্তা নেই। এরা কোন নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে করতে দেয় না। লুম্পেন রাজ কায়েম করেছে। তাদের সাহায্যে চলছে ধনপতি তোষণ ও পোষণ। সেজন্যই কৃষকেরা ফসলের দাম পায় না, বেকাররা চাকুরি পায় না, বেকারেরা ভিন দেশে চলে যেতে বাধ্য হয়, ছাত্রদের পড়াশুনার সুযোগ নেই। কলেজে ভর্তি হতে গেলে তৃণ গুণ্ডাদের দিতে হয় হাজার হাজার টাকা। পঞ্চায়েতে পৌরসভায় চলছে লুটের রাজত্ব। নারীদের উপর হচ্ছে কুৎসিত অত্যাচার। রাজ্যটাকে এক নরককূণ্ড বানিয়ে ফেলেছে তৃণমূল-মমতা। তাই তো পরিযায়ীদের নিয়ে মোদীর নিষ্ঠুরতা আর মমতার নিষ্ঠুরতা আর বিদ্রুপ একই রকম। ·

আরও কতগুলি কথা – ১) আর এস এস – মমতা একাকার। আর এস এস-এর মুখপত্র ‘পাঞ্চজন্য’-এর লেখক তরুণ বিজয়ের একটি বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে মমতা বলেছিলেন-“আপনারা প্রকৃত দেশপ্রেমী। আমি জানি আপনারা দেশকে ভালবাসেন।” ‘কমিউনিস্টদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে’ তিনি আর এস এস-কে সমর্থন করবেন – এ কথাও খোলাখুলি বললেন সেখানে মমতা। এর উত্তরে আর এস এস নেতা বলবীর পুঞ্জ বলেছিলেন –“হামারি মমতা দিদি স্বাক্ষাৎ দুর্গা।”

২) বাংলায় আর এস এস–এর ড্রিলের আসরের সংখ্যা হুড়ুহুড় করে বাড়ছে। ১৯৪৭ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত যেখানে তা হতে পেরেছিল মাত্র প্রায় ৫০০, এ’কয় বছরেই বেড়ে হয়েছে ২০০০’এর উপর। আর এস এস নেতারা বলছে – বাম আমলে আমাদের অসুবিধা হতো। এখন আমাদের সুসময়। তৃণমূলরাজ টিকে থাকলে আমাদের কোন অসুবিধা নেই। বলছে – কেউ তৃণমূলকে ভোট দিলেও কোন সমস্যা নেই।

৩) মমতা তো গুজরাটে মুখ্যমন্ত্রী হবার পর কালবিলম্ব  না করে মোদীকে ফুলমালা পাঠিয়েছিলেন। ২০১৪ থেকে দিল্লিতে মোদী সরকার গঠিত হওয়া থেকে অনেক বিষয়ে ইতিবাচক সিগন্যাল দিয়ে রাখছে। অন্যদিকে মোদীও দিদিকে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেবার পরই মমতার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করলেন এবং প্রথমেই কমিউনিস্টদের নিকেশ করার পরামর্শ দিলেন।

৪) মোদীর সেক্রেটারি মনোনয়নে সুদীপ ব্যানার্জী সমর্থন দিয়ে দিলেন। ডেরেক ও ব্রায়েন তিন বার একই কথা উচ্চারণ করলেন – এটা মোদী করেছেন সুশাসনের জন্য। ফেসবুক, টুইটারকেও মোদী বন্দনায় ব্যবহার করলেন গদ গদ ভাবে।

৫) মোদী দুইটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটির মাথায় বসালেন দীনেশ ত্রিবেদী আর এলকেমিস্ট নামে কুখ্যাত সেই চিট ফাণ্ড মালিক কে ডি সিং’কে। নারদ’র চোরদের ধরার ব্যাপারে পার্লামেন্টের এথিক্স কমিটির মিটিং এই ৬ বছরে একবারও হলো না

৬) অনেক মানুষ মারা বিল গ্রহণে সরাসরি মোদীকে সাহায্য করে মমতার সাংসদেরা। এসব সমর্থন কাণ্ড চলে কখনও পার্লামেন্টে উপস্থিত থেকে, কখনও অনুপস্থিত থেকে।

৭) জ্যোতি বসুর কথায় মমতার সব থেকে বড় অপরাধ অসভ্য বর্বর বিজেপি দলকে রাজ্যে ডেকে নিয়ে আসা, বিজেপিকে কোনদিন মমতারা অচ্ছ্যুত বলে নি, যে আর এস এস’এর নাথুরাম গডসে ১৯৪৮ সালের ৩০শে জানুয়ারি মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীকে হত্যা করেছিল, সেই নাথুরাম গডসের মূর্তি বানিয়েছে বিজেপি, মমতা কোন শব্দ উচ্চারণ করে নি।

৮) ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ থেকে আগতদের নাম বাদ দেবার দাবিতে মিছিল করেছিল কলকাতায় মমতা।

 ৯) ২০০২ সালে মমতা বাজপেয়ী মন্ত্রীসভায়। ২০০৩ সালে অটল বিহারী বাজপেয়ী সরকারের সময় মমতা কিছুদিন ছিলেন দপ্তর বিহীন মন্ত্রী। সে সময়েই তো নাগরিক অধিকারের সংশোধন করে ঐ সরকার। ’১৪ এ’ ধারা সংশোধন করে এন পি আর, এন আর সি-র কথা তখনই তারা লিপিবদ্ধ করে। আগে-পরে বিজেপি মন্ত্রীসভায় তিনি কয়লামন্ত্রী ও রেলমন্ত্রীও হন।২০০৩ সালে বাজপেয়ী যখন আসামে বাঙ্গালী খেদাও আন্দোলনে মদত দিয়ে বলছেন – ‘এমন ছাত্র-যুব আন্দোলন দেখি নি’ বলে অগপ আর আসু’কে বাহবা ও মদৎ দিচ্ছেন, মমতা তখন বিরোধীতা করেন নি। আসামে উগ্র অসমিয়া জাতীয়তাবাদ, ‘হিন্দুত্ব’ জাতীয়তাবাদ যখন বাঙ্গালী খেদাও আন্দোলনে নেমেছিল, কমিউনিস্ট সাংসদ ইন্দ্রজিৎ গুপ্ত বাজপেয়ীকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছিলেন – ‘বিষ নিয়ে খেলবেন না।‘ মমতা সেই সময় চুপ করে ছিলেন।

@freemang2001gmail-com

সংগৃহীত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About

ranjan.254@gmail.com Avatar

Featured Posts

Work Experience

Technologies

Creating