Purba Bardhaman News: পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নামে নামাঙ্কিত বিজেপি পার্টি অফিসে মদের বোতল উদ্ধারের অভিযোগে তীব্র বিতর্ক। আদি ও নব্য বিজেপির সংঘাতে ভাইরাল ভিডিও ঘিরে অস্বস্তিতে গেরুয়া শিবির, কড়া রাজনৈতিক তরজায় তৃণমূলও।

Jamalpur BJP Office: বিজেপি কার্যালয়ে মদের আসর বসানোর অভিযোগ।
BJP-র আদর্শ ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। সেই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নামে নামাঙ্কিত পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর বিধানসভার বিজেপি পার্টি অফিসকে নাকি ‘মদের বার’ বানিয়ে ফেলেছেন দলের জেলা সভানেত্রীর ঘনিষ্ঠরা, এমন অভিযোগ এনে পার্টি অফিসের দরজা খুলিয়ে মদের বোতল উদ্ধার করে দলের জেলা সভানেত্রী স্মৃতিকণা বসু ও তার অনুগামীদের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন আদি বিজেপির নেতা ও কর্মীরা। সেই ছবি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হতেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। নিন্দায় সরব হয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব ।
বছর ঘুরলেই বাংলায় হবে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে ’পরিবর্তন যাত্রা’ কর্মসূচীকে সামনে রেখে সুকান্ত মজুমদার, শমীক ভট্টাচার্য ও শুভেন্দু অধিকারীর মত বিজেপি নেতারা এখন গোটা বাংলা চষে বেড়াচ্ছেন। তাঁরা রাজ্যবাসীকে তৃণমূল মুক্ত বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। এই আবহে এমন ঘটনা বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের বিড়ম্বনা বাড়িয়েছে।
বেশ কয়েক মাস হল জামালপুর বিধানসভায় বিজেপি নেতা ও কর্মীরা ‘আদি ও নব্য’, এই দুই ভাগে বিভক্ত। বিজেপির কাটোয়া সাংগঠনিক জেলার সভানেত্রী স্মৃতিকণা বসুর অনুগামীদের সঙ্গে আদি বিজেপি নেতা ও কর্দীদের দ্বন্দ্ব এখন চরমে পৌছে।স্মৃতিকণা বসুর অনুগামীরা ইদানিং সন্ধ্যা নামলেই জামালপুর বিধানসভার বিজেপি পার্টি অফিস অর্থাৎ ’ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ভবনে’ মদের আসর বসাচ্ছেন এমন খবর আদি বিজেপি শিবিরে পৌছায়। তারপর থেকেই আদি বিজেপি নেতা ও কর্মীরা হাতে নাতে স্মৃতিকণা বসুর অনুগামীদের ধরার জন্য পার্টি অফিসের উপর নজর রাখা শুরু করেন।
আরও পড়ুন-বিধানসভা ভোটের আগে বড় চমক! ওয়েইসির AIMIM-এর সঙ্গে জোটের প্রস্তাব হুমায়ুন কবীরের
এই অবস্থায় গত বুধবার সন্ধ্যায় স্মৃতিকণা বসুর অনুগামী নেতারা জামালপুরের বিজেপি পার্টি অফিসে পৌছানোর খবর পৌছে যায় আদি বিজেপি শিবিরের নেতাদের কাছে। তারা একে একে পার্টি অফিসের কাছে এসে জড়ো হর। ওই রাতে আদি নেতা-কর্মীরা বিজেপি পার্টি অফিসে আচমকা ঢুকে পড়েন। পার্টি অফিসে ঢুকে পড়েই তারা বিজেপির কাটোয়া সাংগঠনির জেলার সাধারণ সম্পাদক সৌমেন হাজরা, জামালপুরের
৩ নম্বর মণ্ডল সভাপতি অসীম শীল,১ নম্বর মণ্ডলের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ বাগ, ৩ নম্বর মণ্ডলের সাধারণ সম্পাদক সমীরণ দাস–সহ আরও বেশ কয়েকজন স্মৃতিকণা বসুর অনুগামীকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন।
এরপর পার্টি অফিসে মদের বোতল, মদ খাওয়ার গ্লাস সহ অন্যান মুখরোচক খাবার উদ্ধার হতেই আদি বিজেপির নেতা কর্মীরা চটে লাল হয়ে যান। তাঁরা তাঁদের মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় গোটা এই ঘটনার ভিডিও ছবি তুলে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ছেড়ে দেন। পাশাপাশি স্মৃতিকণা বসুর অনূগামী ওইসব মদ্যপদের পার্টি অফিস থেকে তাড়িয়ে দেন। জামালপুরের বিজেপি পার্টি অফিস এখন আদি বিজেপি কর্মীদের দখলে।
বিজেপি পার্টি অফিস থাকা মদের বোতলের ছবি ও মদ খাওয়ার গ্লাসের ছবি এখন নানা জনের মুঠো ফোনে ঘুরপাক খাচ্ছে। আদি বিজেপির কয়েকজনও ভিডিও তাঁদের নিজেদের ফেসবুক মাধ্যমে পোস্টও করেছেন। এসব নিয়ে শুক্রবারও বেশ তপ্ত থাকে জামালপুরের বিজেপি পার্টি অফিস চত্বর।
এমন ঘটনা নিয়ে বিজেপির জেলা সভানেত্রী স্মৃতিকণা বসুকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, “কোন অভিযোগ এখনো পাইনি। কী ঘটেছে তার সবিস্তার না জেনে আমি কোন মন্তব্য করব না। যদিও বুধবার রাতে বিজেপি পার্টি আফিস থেকে মদ্যপ বিজেপি নেতাদের ধরার অভিযানে সামিল থাকা জামালপুর ১ মণ্ডলের বিজেপির সহসভাপতি সুশান্ত মণ্ডল পার্টি অফিসে অপকর্ম হওয়ার জন্য জেলা সভানেত্রীকে দায়ী করেন।
তিনি বলেন, “বিজেপির বিএলএ–২ তহবিলের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বাংলা সফরের আগে প্রতিটি শক্তিকেন্দ্রের জন্য পাঠানো পাঁচ হাজার টাকা পথসভা না–করে মেরে দিয়েছে। স্মৃতিকণা বসুর মদতেই এসব হয়েছে। স্মৃতিকণা বসুর অনুগামী দুর্নীতিগ্রস্তরা এখন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নমাঙ্কিত পার্টি অফিসে মদের আসর বসিয়ে দলের বদনামও করছে।”
তৃণমূল নেতা দেবু টুডু বলেন, “এটাই তো বিজেপি । সমস্ত রকম অপকর্মে বিজেপিকে পাওয়া যাবে। ওদের মুখে যে রাম নাম শোভা পায় না সেটা রাজ্যবাসী অনেকদিন আগেই বুঝে গিয়েছে।আগামী বিধানসভা ভোটের পর কামিনী কাঞ্চন ওয়ালা সব বিজেপি ওয়ালারা বাংলা থেকে ভ্যানিস হয়ে যাবে।”



