চিকিৎসার মূল্যবৃদ্ধি : রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্যনীতিরই ফল
গত ৬ ই সেপ্টেম্বর রাজ্য সরকারের আন্ডার সেক্রেটারি স্বাক্ষরিত একটি সরকারী নোটিশ সেংশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। সেই নোটিশটি ছিল সরকারী চিকিৎসা পরিষেবার সংশোধিত শুপ্ত তালিকার নির্দেশ। এর পরবর্তী কাহিনী রাজ্যবাসী মাত্রই জানেন। তবুও মূল বিষয়ে যাওয়ার আগে সংক্ষিপ্ত স্মৃতিচারণ জরুরী। এই নির্দেশনামা স্যোশাল মিডিয়া এবং অন্যান্য গণমাধ্যম সূত্রে জনসমক্ষে আসার সাথে সাথেই ব্যাপক ক্ষোভ হড়িয়ে পড়তে থাকে। এই সংশোধিত পরিষেবা মূল্য তালিকায় একদিকে যেমন পূর্বের নির্ধারিত মূল্যের বৃদ্ধি ঘটানো হয় তেমনি অনেক ক্ষেত্রে যা কিছু বিনামূল্যে ছিল প্রায় সব ক্ষেত্রেই সে সব পরিষেবার উপর মূল্য আরোপ করা হয়। যেমন কোলোনোস্কোপি পরীক্ষা বর্তমানে বিনামূলো করা হয়। কিন্তু এই সংশোধিত তালিকা চালু হলে তার মূল্য হবে ১৯৮৪ টাকা। অক্সিজেন, রোগীর পথ্য যা ছিল সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সে সবের উপরও মূলা চাপানো হয়েছে। প্রতি ঘন্টায় অক্সিজেন ৫০ টাকা এবং পথ্যও সংগ্রহ করতে হবে ৫০ টাকার বিনিময়ে। মুমূর্ষু রোগীদের আই সি ইউ-র বেড ভাড়া দৈনিক ৬০০ টাকা (এ পি এল দের জন্য। এবং ভেন্টিলেশন চার্জ দৈনিক ৫৩১ টাকা (এপিএল দের জন্য) নির্ধারণ করা হয়। অন্যান্য বিরোধী দল গুলিও যার যার মত করে এই সিদ্ধান্তের বিরোধীতায় নেমে পরে এবং যথাক্রমে ঘেরাও ও গণঅবস্থান কর্মসূচী পালন করে। বর্তমান বিরোধী দল সিপিএম র দাবী ছিল পুরোনো স্বাস্থ্য নীতিই চালু রাখতে হবে। স্বাস্থ্য আন্দোলনে নিজেদের স্বতন্ত্র বক্তব্য নিয়ে ময়দানে
হাজির ছিল ত্রিপুরা যুক্তিবাদ বিকাশ মঞ্চ। এই বিষয়ে সংগঠনের আন্দোলন কর্মসূচীর বিস্তারিত রিপোর্ট বর্তমান সংখ্যায় রয়েছে, তাই এই প্রবন্ধে বিস্তারিত উল্লেখ করা হচ্ছে না। কিন্তু যা উল্লেখ করা এই ক্ষেত্রে বিশেষভাবে। আবশ্যক তা হল চিকিৎসা বিজ্ঞানের সুফল ভোগ করা বা করতে না পারা নির্ভর করে রোগীর ক্রয়ক্ষমতার উপর যদিও স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা হচ্ছে সামাজিক বিষয় যার সম্পূর্ণ ৭০৮। রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে নির্বাহ করা প্রায় ৪০
রাজ্য সরকারের প্রধান মুখ্যমন্ত্রী, পুজোর প্রাক্কালে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণের এক অনষ্ঠানে বক্তৃতায়, চাঁদা ছাড়া দুর্গাপুজো না হলে টাকা ছাড়া চিকিৎসা কি করে। সম্ভব, এই যুক্তি টানেন এবং এ। পি এল ভুক্তরা কেন পয়সা দিয়ে চিকিৎসা করাবেনা এই প্রশ্ন তুলে এটা স্পষ্ট করে দেন যে সরকারী চিকিৎসাও কেনা বেচার জিনিস। যদিও পরে এর বিরুদ্ধে বিপুল জনমত দেখে, সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত নয় বলে আপাতত ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং বেশ কিছু বিভ্রান্তিকর বক্তব্যও তুলে ধরেন। যেমন অক্সিজেনের মূল্য দিতে হবে না, কারণ সংশোধিত শুল তালিকায় পাইপ অক্সিজেনের কথা লেখা ছিল, আর হাসপাতালে নাকি পাইপ অরিজেন নেই। এই বক্তব্য যে অসাড় তা সকলেই জানেন, কারণ আই সি ইউ থেকে ট্রমা সেন্টার পর্যন্ত বিভিন্ন বিভাগেই এখন পাইপ অক্সিজেন চালু আছে। যাই হোক মোদ্দা কথা হল সরকারের এই সিদ্ধান্ত, জনতার বিরোধের কারণে এখনো লাজ হয়নি ঠিকই কিন্তু সে যে অচিরেই লাগু হবে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা, কেননা
মুখমন্ত্রী এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করার পথ। একবারও বলেননি বরং পরবর্তীতে আবারও এর পক্ষে সওয়াল করেন।
প্রশ্নটা মোটেও এটা নয় যে, আগে পরিষেবার মূল্য কত টাকা ছিল, আর এখন কত টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রশ্নটা হচ্ছে সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় নয়িত্বে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার নীতি থেকে রাষ্ট্রের সরে আসা নিয়ে। ত্রিপুরা যুক্তিবাদ বিকাশ মঞ্চের মুখপত্র অন্বেষাণের’ যারা ধারাবাহিক পাঠক তারা জানেন যে সংগঠন জুলাই ২০১৯ সংখ্যায় (পৃষ্ঠা-২৭) ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পের বিশ্লেষণ করে লিখেছিল যে সরকারী হাসপাতালে যা কিছু বিনামূল্যে পরিষেবা আছে সে সব পরিষেবাকে সম্পূর্ণ ভাবে বিক্রয়যোগ্য পণ্যে পরিণত করার জন্যই এই প্রকল্প। চিকিৎসা আর বিনামূল্যে থাকবে না বলেছিল ত্রিপুরা যুক্তিবাদ বিকাশ মঞ্চ। তখনই সংগঠন লিখেছিল-“…. আয়ুষ্মান প্রকল্পে বেসরকারী হাসপাতালের মতই সরকারী হাসপাতালও এই চার্জগুলি বীমা কোম্পানি থেকে নিচ্ছে। তার মানে সরকারী হাসপাতালের এই পরিষেবাগুলিও বেসরকারী হাসপাতালের মতই টাকার বিনিময়ে বিক্রয়যোগ্য হয়ে গেল। অনিবার্যভাবেই এর পরের পদক্ষেপেই বীমার আওতা বহীর্ভূত জনসাধারণকে এই পরিষেবাগুলি ভবিষ্যতে সরকারী হাসপাতাল থেকে কিনতে হবে”। সংগঠনের এই বিশ্লেষণ দু মাসের মধেই সত্য প্রমাণিত হল। সংগঠনের এই বিশ্লেষণ এবং যথাযথ ভাবে অল্প সময়ের মধ্যে তার ফলে যাওয়া কোনো আচানক বিষয় ছিল না। এমনকি শুধুমাত্র ভারত সরকারের ‘আয়ত্থান ভারত’ নামক বীমা প্রকল্পের অধ্যয়ন থেকেও সংগঠন এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। সংগঠন এই সিদ্ধান্তে এসে পৌছেছে ধারাবাহিকভাবে ভারত সরকার দ্বারা অনুসৃত স্বাস্থ্য নীতি এবং বিদ্যমান ক্ষয়িষ্ণু বিশ্ব পুঁজিবাদী ব্যবস্থার দ্বারা গৃহীত নয়া অর্থনৈতিক নীতি সমুহের বিশ্লেষনের মাধ্যমে।
প্রথমত, যে বিষয়টি পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেওয়া প্রয়োজন সেটা হচ্ছে রাজ্যের চিকিৎসা ক্ষেত্রে এই প্রথম বাণিজ্যিকীকরণ হল বিষয়টা কিন্তু আদৌ এমন নয়। রাজ্যবাসীর নিশ্চয়ই মনে আছে যে সরকারী হাসপাতালে এক্স রে থেকে শুরু করে বিভিন্ন রেডিওলজিক্যাল কিংবা প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার জনা অনেক আগে থেকেই মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। অনুষপত্র, শল্য চিকিৎসার জন্য। প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ইত্যাদি প্রায় সবাই বাজার থেকে কিনে আনতে হত রোগীর পরিজনদের। অর্থাৎ বলা যায় আগে থেকে চলে আসা নীতি বর্তমান সরকারের আমলে খুব। দ্রুত এবং ব্যাপক পরিসরে রূপায়িত হচ্ছে বলে তা আমাদের। সামনে প্রকট হয়ে উঠেছে। শুধু সরকারী চিকিৎসার উপর মূল্য অরোপ নয়, সরকারী হাসপাতালের ভিতরেই একবিক বেসরকারী সংস্থাকে রোগ নির্ণয়ের বাদিজের অঢেল সুযোগ করে দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা এবং আয়া পরিষেবার বেসরকারীকরণতো বহুকাল আগেই করা হয়েছে।
গোটা ভারতের চিকিৎসা ব্যবস্থার দিকে যদি আমরা লক্ষ্য করি তাহলে দেখা যাবে ২০১৫ সালের বিশ্ব ব্যাঙ্কের সমীক্ষা অনুযায়ী ভারত সরকার জিডিপি-এর মাত্র এক শতাংশ এই খাতে ব্যয় করে। অন্যদিকে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের পুরো ব্যায়ের ৬০ শতাংশই আসে জনসাধারণের পকেট থেকে। দেশের শহরাঞ্চলের ৭০ শতাংশ এবং গ্রামাঞ্চলের ৬৮ শতাংশ চিকিৎসা নির্ভর করছে বেসরকারী পরিষেবার উপর (বলার অপেক্ষা রাখেনা যে এর মধ্যে ডিগ্রী বিহীন হাতুড়ে ডাক্তারদের সংখ্যাই সিংহভাগ)। একটি পরিসংখ্যান বলছে চিকিৎসার খরচ মেটাতে গিয়ে ২০১১ ১২ সালে দেশের ৫ কোটি ৫ লাখ মানুষ দরিদ্রসীমার নীচে নেমে এসেছে।
সরকারী চিকিৎসা পরিষেবার এই ভগ্ন দশা কোনো ভাবেই সরকারের স্বতঃস্ফূর্ত কিংবা উদাসীন মনোভাবের পরিণতি নয়, যেমনটা অনেকে মনে করেন, বরং এ হচ্ছে দীর্ঘকাল ধরে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে ধারাবাহিকভাবে গৃহীত এবং রূপায়িত রাষ্ট্রীয় নীতিরই অবশ্যম্ভাবি ফলাফল। ভারত বৃটিশ ও অন্যান্য সাম্রাজ্যবাদ। শাসনাধীন হওয়ার আগে এখানে। আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি অর্থাৎ অ্যালোপ্যাথির কোনো প্রচলন ছিলনা। প্রথমে কোম্পেনির শাসন এবং পরে রানীর শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সাথে সাথে মূলত বিলাত থেকে অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসাও এদেশে আমদানি হয়। মূলত সেনা বাহিনী ও সরকারী আমলা-কর্মচারীদের বিভিন্ন রকম রোগ ও মহামারী থেকে রক্ষা করার জন্য সরকারের উদ্যোগেই শুরু হয় এই আধুনিক চিকিৎসা পরিষেবা। এবং এর পাশাপাশি রীমান মিশনারি দের ধর্ম প্রচার ও ধর্মস্তিকরণের স্বার্থেও হাসপাতাল স্থাপন করা হয়। পাওয়া তথ্য থেকে দেখা যায় ভারতে প্রথম হাসপাতাল, ‘মাদ্রাজ জেনারেল হাসপাতাল’ স্থাপন হয় ১৬৬৪ সালে, কোম্পেনির সেনাবাহিনীর অসুস্থ জোওয়ানদের চিকিৎসার জন্য। এরপর ধীরে ধীরে প্রেসিডেন্সি জেনারেল হাসপাতাল, ক্যালকাটা মেডিক্যাল কলেজ, লাহোর মেডিক্যাল স্কুল গড়ে তোলা হয়। ফরাসী শাসকদের উদ্যোগে পণ্ডিচেরীতে গড়ে উঠে ভারতের প্রথম মেডিকাল শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান। প্রথম পর্যায়ে চিনিৎসক ও চিকিৎসাকর্মী বিলাত থেকে আনা হলেও পরে স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ব্যবস্থাকে চালিয়ে নিয়ে খাওয়াদা জন্য এই দেশেই গড়ে তোলা হয় বিভিন্ন মেডিক্যাল কহোজ সহ অনুষ শিল্প ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠান। এই সময়েই মিশনারিদের বারা ১৯০০ সালে গড়ে উঠে বর্তমান ভারতের অন্যতম বৃহৎ প্রতিষ্ঠান সি এম সি ভেলোর হাসপাতাল ও মেডিগাল কলেজ। উইকিপিডিয়ার সূত্র অনুসারে দেশের মধ্যে প্রথম বেসরকারী হাসপাতাল ‘স্যার গঙ্গারাম হাসপাতাল’ প্রতিষ্ঠিত হয় অবিভক্ত ভারতের লাহোর শহরে ১৯২১ সালে। যেহেতু এই শুরুর পর্যায়ে শুধু মাত্র অল্প সংখ্যক লোকেদের মধ্যেই এই আধুনিক চিকিৎস্য সীমিত ছিল এবং চিকিৎসা একটি মুনাফাদায়ী বাজার হিসেবে তৈরী হয়নি, ফলে এই ক্ষেত্রে বেসরকারী পুজি নিবেশও তেমন ভাবে ঘটেনি। সময়ের সাথে সাথে হাসপাতালের বিস্তৃতির সঙ্গে পারা দিয়ে প্রয়োজনীয় অন্যান্য সরঞ্জাম, অষুধ, পরীক্ষা নিরীক্ষার রাসায়নিক পদার্থ ইত্যাদির বেসরকারী কেম্পেনি গড়ে উঠতে থাকে, যার ক্রেতা ছিল মূলত খোদ রাষ্ট্র। পাওয়া তথ্য থেকে দেখা যায় ১৯৪১ সালে টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতালটি স্থাপিত হয় এবং তারও দশ বছর পর ১৯৫২ সালে টাটাদেরই ক্যান্সার গবেষনাগারটি গড়ে উঠে। কিন্তু এই ক্ষেত্রেও লক্ষ্য করার মত বিষয় হচ্ছে ১৯২১ সাল থেকে বেসরকারী হাসপাতালের ইতিহাস থাকলেও সেগুলো কিন্তু কোম্পেনী হিসেবে নথিভুক্ত হয়নি। এই ভাবে দীর্ঘদিন যাবত রাষ্ট্রযারা আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা চালিয়ে যাওয়ার ফলে সাধারণ লোকেদের মধ্যেও পরম্পরাগত চিকিৎসার পরিবর্তে এই আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধত্যি প্রতি আগ্রহ বাড়তে থাকে। চিকিৎসার বাঙার গড়ে উঠার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ অথাৎ চাহিদা গড়ে উঠতে থাকে। চিকিৎসার সহায়ক উপকরণের শিল্প আরো আগে থেকেই বেসরকারী উদ্যোগে শুরু হয়ে গিয়েছিল। এরপর থেকে সরাসরি চিকিৎসা এবং মেডিক্যাল এডুকেশনের ক্ষেত্রে মুনাফা নিশ্চিত দেখে বেসরকারী পুঁজি নিবেশ হতে শুরু হয়। প্রথমে বৃটিশ ভারত এবং পরে স্বাধীন ভারত রাষ্ট্রের দ্বারা প্রোৎসাহনের মাধ্যমে এই আধুনিক চিকিৎসা প্রদ্ধতির এক বিশাল মুনাফাদায়ী বাজার তৈরী হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়। তখনই বাস্তবতা তৈরী হয় এই গোটা ক্ষেত্রটিকে প্রাইভেট খেলোয়াড়দের হাতে ছেড়ে দেওয়ার। ১৯৮৩ সালে ভারতে প্রথম স্বাস্থ্যনীতি সংসদে পাশ হয় এবং সে বছরই প্রাইভেট হাসপাতাল ‘অ্যাপোলো’ কোম্পেনী হিসেবে প্রথম নথিভুক্ত হয়। তার পর একে একে বিভিন্ন পুঁজি গোষ্ঠি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চিকিৎসা বাণিজ্যের জাল বিস্তার করতে থাকে। এরপরেই ধীরে ধীরে হাসপাতাল স্থাপনের পাশাপাশি অষুধ উৎপাদন, পরীক্ষা নিরীক্ষার বাণিজ্য, মেডিক্যাল নার্সিং প্যারামেডিক্যাল শিক্ষাসহ সমস্ত ক্ষেত্রেই বেসরকারী পুঁজির প্রবেশ অবাধে ঘটতে থাকে। সাত-এর দশকে পুঁজিবাদের আভ্যন্তরীণ নিয়মের কারণেই বিশ্বব্যাপী দেখা দেয় ব্যাপক আর্থিক মন্দা। এবং তার ফলে রাষ্ট্র গুলিও আন্তর্জাতিক সংস্থা সমূহের কাছে। ঋন শোধ করতে আক্ষম হয়ে পরে। এই সংকট থেকে সামঠিক উত্তরণের জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থা সমূহের পরিকল্পনা অনুয়ায়ী পরিকাঠামোগত পুনর্বিন্যাসের নামে আনা হয় তাঙ্কেল চুক্তি, যা ভারতে উদারনীতি নামেও সাধারণের মধ্যে পরিচিত হয়, যাতে ভারত সহ আন্যান্য রাষ্ট্রগুলি স্বাক্ষর করে। এই চুক্তির মূল শর্তই ছিল রাষ্ট্রায়াত ক্ষেত্রগুলিকে ধীরে ধীরে প্রাইভেট পুঁজির মালিকদের জন্য ছেড়ে দিতে হবে, স্বাস্থা-শিক্ষা সহ বিভিন্ন পরিষেবা ক্ষেত্রগুলি থেকে রাষ্ট্রের ব্যয় হ্রাস করতে হবে এবং রাষ্ট্রের বায় এমন ভাবে পরিকল্পনা করতে হবে যাতে তা বহুজাতিক সংস্থাগুলির বাজার সৃষ্টিতে সহায়ক হয়।
XXXXXXXXXXXXXXXXXXXXXXX
@freemang2001gmail-com




2 Comments
Your comment is awaiting moderation.
Your point of view caught my eye and was very interesting. Thanks. I have a question for you. https://accounts.binance.info/es-AR/register-person?ref=UT2YTZSU
Your comment is awaiting moderation.
Can you be more specific about the content of your article? After reading it, I still have some doubts. Hope you can help me. https://accounts.binance.info/ru-UA/register-person?ref=JVDCDCK4
Your point of view caught my eye and was very interesting. Thanks. I have a question for you.
Thank you.