হিন্দুস্থান সোসালিস্ট রিপাবলিকান অ্যাসোসিয়েশন

নোটিশ১
“বধিরকে কথা শোনাতে হলে জোরালো গলা চাই।” ফরাসি নৈরাজ্যবাদী শহিদ ভালিয়ার এই অমর কথাগুলি উচ্চারিত হয়েছিল এমনই একটি ঘটনাসূত্রে; সেই কথাগুলি দিয়েই আমরা আমাদের এই কাজ দৃঢ়ভাবে সমর্থন করছি।
সংস্কারকে কাজে পরিণত করার গত দশ বছরের লজ্জাজনক ইতিহাসের মধ্যে না গিয়ে, এই সভার, অর্থাৎ তথাকথিত ভারতীয় সংসদের মাধ্যমে ভারতীয় জাতিসত্তার প্রতি নিক্ষিপ্ত অসম্মানের উল্লেখমাত্র না করে, আমরা দেখছি যে এবারও আবার সরকার সাধারণ নিরাপত্তা ও ট্রেডস ডিসপিউটস বিলের মতো অত্যাচারী পদক্ষেপ আমাদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে, পরের অধিবেশনের জন্য সংবাদপত্রে রাজদ্রোহ বিলটি রেখে দিয়েছে, আর ততক্ষণ সাইমন কমিশনের কাছ থেকে বিন্দু বিন্দু সংস্কার লাভের আশায় জনগণ নিজেদের মধ্যে সর্বদা বিবদমান, প্রত্যাশিত ভিক্ষান্নের বিতরণ নিয়ে। প্রকাশ্যে সক্রিয় শ্রমিক নেতাদের বেপরোয়া গ্রেফতার থেকে পরিষ্কার বোঝা যায়, হাওয়া কোনদিকে বইছে।
এই প্রচণ্ড উত্তেজক পরিস্থিতিতে হিন্দুস্থান সোশ্যালিস্ট রিপাবলিকান অ্যাসোসিয়েশন পূর্ণ দায়িত্ব গুরুত্বসহকারে উপলব্ধি করে এবং সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজের সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দেয় এই বিশেষ কাজটি করতে, যাতে এই অপমানজনক প্রহসনের অবসান ঘটে এবং যাতে বিদেশি আমলাতান্ত্রিক শোষকবর্গ যা ইচ্ছে তাই করতে পারলেও জনসাধারণের চোখের সামনে তাদের নগ্নস্বরূপ উদ্ঘাটিত হয়।
জনগণের প্রতিনিধিরা নিজেদের নির্বাচনক্ষেত্রে ফিরে যান এবং আগামী বিপ্লবের জন্য জনগণকে প্রস্তুত করুন। আর সরকার জানুক যে, সাধারণ নিরাপত্তা ও ট্রেস্ ডিসপিউটস বিলের বিরুদ্ধে এবং লালা লাজপত রায়ের নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে নিঃসহায় ভারতীয় জনগণের হয়ে প্রতিবাদ করতে করতে আমরা একটি শিক্ষার ওপর জোর দিতে চাই; এই শিক্ষা ইতিহাসে বহুবার পুনরাবৃত্ত যে, ব্যক্তিকে সহজেই খুন করা যায় কিন্তু ধারণাকে খুন করা যায় না। বড় বড় সাম্রাজ্য গুঁড়িয়ে গেছে কিন্তু ধারণাগুলি কালোত্তীর্ণ। বুর্বরা এবং জারেরা পরাভূত বিপ্লবের জয়যাত্রা অগ্রসর।
‘কেন্দ্রীয় বিধানসভায় বোমা ছোড়ার পর ভগৎ সিং ও বটুকেশ্বর দত্ত যে লিফলেট ছড়িয়েছিলেন, তারই বয়ান এটি। ভগৎ সিং-এর সহযোগী এবং ‘শহিদ ভগৎ সিং-এর নির্বাচিত রচনা’র সম্পাদক শিব ভার্মা ‘স্মৃতিচারণ করে বলেছেন যে, তাঁদের সীতারাম বাজারের আস্তানায় বসে ভগৎ সিং এটি রচনা করেন। তাছাড়া পার্টির লেটারহোডে এটির তিরিশ চল্লিশ কপি তিনি টাইপ করেন। টাইপিং-এর ব্যবস্থা করায় সাহায্য করেন জয়দেব কাপুর। ১৯২৯-এর ৮ এপ্রিল অর্থাৎ একই দিনে, হিন্দুস্থান টাইমস্-এর বিশেষ সান্ধ্য সংস্করণে লিফলেটের পূর্ণাঙ্গ ব্লক প্রকাশিত হয়।একথা স্বীকার করতে আমরা লজ্জিত যে, আমরা যারা মানুষের প্রাণকে এত পবিত্র মনে করি, আমরা যারা স্বপ্ন দেখি সেই উজ্জ্বল ভবিষ্যতের যখন মানুষ অটুট শান্তি ও পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করবে, তারাও মানুষের রক্তপাত করতে বাধ্য হয়েছি। কিন্তু মহাবিপ্লবের বেদীতে ব্যক্তির আত্মাহুতি অনিবার্য, যা আনবে সকলের স্বাধীনতা, যা মানুষের দ্বারা মানুষের শোষণকে অসম্ভব করে তুলবে।
(স্বা) বলরাজ প্রধান সেনাপতি
হিন্দুস্থান সোসালিস্ট রিপাবলিকান অ্যাসোসিয়েশন
@freemang2001gmail-com



