Form and Content in literary criticism

Every phenomenon or things has a certain content and is manifested in a certain form. Content is the totality of the components

সম্পাদকের কলমে

সম্পাদকের কলমে

Form and Content in literary criticism

Every phenomenon or things has a certain content and is manifested in a certain form. Content is the totality of the components

ফাঁসি নয়, আমাদের গুলি করুন

পাঞ্জাবের রাজ্যপাল

সমীপে

মহাশয়,

যথাবিহিত সম্মানপূর্বক নিম্নলিখিত বিষয়গুলির প্রতি আপনার সদয় দৃষ্টিপাত ভিক্ষা করি: যে গত ৭ অক্টোবর ১৯৩০ তারিখে আমাদের মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে একটি ব্রিটিশ সরকারের প্রধান মহামান্য রাজপ্রতিনিধি (ভাইসরয়) কর্তৃক প্রচারিত বিশেষ এল সি সি অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী গঠিত এবং আমাদের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ ছিল ইংল্যান্ডের রাজা মহামহিম রাজা জর্জ-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালাবার।

আদালতের উপরোক্ত সিদ্ধান্তের পূর্বানুমান দুটি যথা, প্রথমত, ব্রিটিশ জাতি ও ভারতীয় জাতির মধ্যে যুদ্ধাবস্থা বিদ্যমান এবং যথা, দ্বিতীয়, আমরা প্রকৃতপক্ষে সেই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি এবং আমরা অতএব যুদ্ধবন্দী।

দ্বিতীয় পূর্বানুমান একটু বেশি কদর আমাদের দিয়েছে বলে মনে হয়, কিন্তু তবুও সেটি এত প্রলুব্ধ করছে যে তার পিছনের পরিকল্পনা প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না।

প্রথমটি সম্পর্কে কিছুটা বিশদভাবে বলতে আমরা বাধ্য হচ্ছি। এই বাক্যাংশে উল্লিখিত যুদ্ধ ঘটছে না বলে আপাতদৃষ্টিতে মনে হয়। তবুও দয়া করে এই পূর্বানুমানকে বৈধ মনে করতে আমাদের অনুমতি দিন, কথাটাকে আক্ষরিক অর্থে নিয়েই কিন্তু যাতে আমাদের কথার সঠিক অর্থ বোঝা যায় সেইজন্য এটার বিশদ ব্যাখ্যা দিতে হচ্ছে। আমরা এ কথাই ঘোষণা করি যে এই যুদ্ধাবস্থা বর্তমান এবং যতদিন ভারতের খেটে-খাওয়া জনগণ এবং তাদের প্রাকৃতিক সম্পদ কয়েকজন মুষ্টিমেয় পরজীবীর দ্বারা শোষিত হবে ততদিন যুদ্ধাবস্থা বর্তমান থাকবে। তারা খাঁটি ব্রিটিশ পুঁজিপতি হতে পারে, এমন কী পুরোপুরি ভারতীয়ও হতে পারে। তাদের গুপ্ত শোষণ তারা মিশ্রিত বা এমন কী খাঁটি ভারতীয় আমলাতান্ত্রিক যন্ত্রের সাহায্যে চালিয়ে যেতে পারে। এই সবে কোনও পার্থক্য ঘটছে না। ছোটখাট সুযোগ সুবিধার বা আপসের মাধ্যমে ভারতীয় সমাজের উপরের স্তরের নেতাদের আপনার সরকার জিতে নেবার চেষ্টা চালাক বা সফল হোক, এবং তার মাধ্যমে বাহিনীর প্রধান অংশের মধ্যে সাময়িক নীতিভ্রষ্টতা ঘটাক, তাতে কিছু এসে যায় না। আবার যদি ভারতীয় আন্দোলনের অগ্রবর্তী বাহিনী, বিপ্লবী দল, সঙ্কুল যুদ্ধের সময়ে একা পড়ে যায়, তাতেও কিছু এসে যায় না। কিছু এসে যায় না যদি অস্বীকার করতে না পারি, যে নেতাদের কাছে তাঁদের সমবেদনা ও দরদের জন্য আমরা ব্যক্তিগতভাবে ঋণী, তাঁরাও এত হহৃদয়হীন হয়ে পড়েছেন যে শান্তি আলোচনার সময়ে বিন্দুমাত্র উল্লেখ না করে উপেক্ষা করেছেন সেই সব আশ্রয়হীন, নির্বান্ধব, দরিদ্র মহিলা কর্মীদের পর্যন্ত যাঁদের অগ্রবর্তী বাহিনীর অংশ বলে অভিযুক্ত করা হয়েছে, নেতারা যাঁদের ইতিমধ্যেই বাসি হয়ে যাওয়া ইউটোপিয় অহিংসাবৃত্তির শত্রু বিবেচনা করেন, সেই সব বীরাঙ্গনারা যাঁরা বলিদানের জন্য উৎসর্গ করেছেন স্বামীদের, ভাইদের, নিজেদের যা কিছু নিকট যা কিছু প্রিয় সব কিছুকে, এমন কী নিজেদের, যাঁদের আপনার সরকার ডাকাত আখ্যা দিয়েছে। কিছুই এসে যায় না যদি আপনাদের দালালরা ঘৃণ্য স্তরে নেমে এই বীরাঙ্গ নাদের এবং তাঁদের দলের সুখ্যাতি মসিলিপ্ত করার জন্য তাঁদের নিষ্কলঙ্ক চরিত্রের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালায়। যুদ্ধ চলবে।

বিভিন্ন সময়ে যুদ্ধ বিভিন্ন আকার নিতে পারে। কখনও প্রকাশ্য, কখনও গুপ্ত কখনও কেবল প্রতিবাদী, কখনও ভয়ঙ্কর মরা-বাঁচার লড়াই। অবশ্য যুদ্ধ কী আকার নেবে, রক্তক্ষয়ী না অপেক্ষকৃত শান্তিপূর্ণ, সে আপনাদের বাছাই এর উপরেই নির্ভর করছে। যেটা ইচ্ছা বেছে নিন, কিন্তু যুদ্ধ চলবে অবিশ্রান্ত, বিবেচনা করবে না ছোটখাটো… এবং অর্থহীন নীতিবাগীশ মতাদর্শ। যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া হবে বরাবর নতুন প্রণোদনায়, অধিকতর ঔদ্ধত্যে এবং অবিচলিত দৃঢ়সংকল্প নিয়ে, যতদিন না সামাজিক উন্নতির ভিত্তিতে সমাজতান্ত্রিক সাধারণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় এবং স্থায়ী শাস্তির যুগে মানবজাতির প্রবেশ ঘটে। অদূর ভবিষ্যতে আখেরি লড়াই হবে এবং চূড়ান্ত বন্দোবস্তে পৌঁছব আমরা।

পুঁজিবাদী এবং সাম্রাজ্যবাদী শোষণের দিন ফুরিয়ে এল। যুদ্ধ আমরা শুরুও করিনি আর আমাদের জীবনের সঙ্গে এর অবসানও ঘটবে না। এ লড়াই ঐতিহাসিক ঘটনাবলীর এবং বর্তমান পরিবেশের অবশ্যম্ভাবী ফল। আমাদের সামান্য বলিদান তো শৃঙ্খলের একটি জোড় মাত্র, যে শৃঙ্খলকে যথাযথভাবে সুন্দর করে তুলেছে মিঃ [যতীন) দাসের আত্মদান এবং কমরেড ভগবতীচরণের শোকাবহ মহত্তম আত্মত্যাগ এবং আমাদের প্রিয় যোদ্ধা [ভগবৎ ঝাঁ] আজাদের গরিমাময় মৃত্যু।

আমাদের ভবিতব্যর কথা বলতে গিয়ে এ কথা জানানোর অনুমতি চাইছি যে আমাদের মৃত্যুদণ্ড দেবার সিদ্ধান্ত যখন নিয়েছেন, তখন আপনারা নিশ্চিতভাবেই তা ঘটাবেন। আপনাদের হাতে ক্ষমতা আছে এবং ক্ষমতাই জগতের সেরা যুক্তি। আমরা জানি আপনাদের পথপ্রদর্শক বাণী হল এই আপ্ত বাক্যটি “বাহুবলই অধিকার”। আমাদের গোটা মামলাটাই তার একটা প্রমাণ মাত্র।

যা আমরা দেখাতে চেয়েছি তা হল এই যে আপনাদের বিচারালয়ের রায় অনুযায়ী আমরা যুদ্ধ চালিয়েছি, অতএব আমরা যুদ্ধবন্দী। আমরা যুদ্ধবন্দী হিসাবেই বিবেচিত হতে চাই, অর্থাৎ আমরা ফাঁসির বদলে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হবার দাবি রাখছি। আপনাদেরই বিচারালয় যা বলেছে আপনারা যে তাই মানেন সেটা প্রমাণ করার দায়িত্ব আপনাদের উপর বর্তাচ্ছে।

আমরা অনুরোধ করি এবং আশা করি যে আপনি অনুগ্রহ করে সামরিক বিভাগকে নির্দেশ দেবেন যাতে তারা আমাদের দণ্ড কার্যকর করার জন্য একটি দল পাঠায়া।

ভবদীয়, ইত্যাদি

ভগৎ সিং

রাজ গুরু সুখদেব

@freemang2001gmail-com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About

ranjan.254@gmail.com Avatar

Featured Posts

Work Experience

Technologies

Creating