নাস্তিকতার ভিত্তি বিবেকের দায়বদ্ধতা আর আস্তিকতার ভিত্তি প্রতিদানের প্রত্যাশা।
নাস্তিকতাকে অর্জন করতে হয়। পক্ষান্তরে আস্তিকতা উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত। এর সূতিকাগার হচ্ছে বিশ্বাস। বিবেক বুদ্ধির ব্যবহারের সুযোগ এখানে খুবই কম। কিন্তু নাস্তিকতা মানুষের দৈনন্দিন জীবনধারণ, বাস্তব অভিজ্ঞতা, শিক্ষা ও জ্ঞানের বিশ্লেষণের মাধ্যমে অর্জিত হয়। এটাকে উত্তরাধিকার সূত্রে অর্জন কিংবা সম্পত্তির মতো ব্যবহারের আদ্যৗ কোনো সুযোগ নেই। আপনি যদি বিষয়টাকে সম্পদের সাথে তুলনা করেন তবে আস্তিকতা হচ্ছে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পদ আর নাস্তিকতা হচ্ছে নিজের যোগ্যতার মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ।
*** নাস্তিকতাকে অর্জন করতে হয় বিবেকের ব্যবহার, দৈনন্দিন জীবনধারণ, বাস্তব অভিজ্ঞতা, শিক্ষা ও জ্ঞানের বিশ্লেষণের মাধ্যমে। অপরদিকে আস্তিকতা উত্তরাধিকার সূত্রে বিনা পরিশ্রম বিনা যোগ্যতায়ই অর্জন সম্ভব।
অপরদিকে একজন নাস্তিক কোনো প্রতিদানের আশা না করে শুধুমাত্র নিজের বিবেকের দায়বদ্ধতা থেকেই বিবেকের কাজগুলো সম্পন্ন করেন। এই বিবেকের দায়বদ্ধতাই নাস্তিকতার প্রথম এবং মূল শর্ত।
নাস্তিককে স্রোতের বিপরীতে চলতে হয়। ফলে প্রতিপদে তাকে জেনেশুনে আগাতে হয়।
সব নাস্তিকই ভাল মানুষ নন। তবে যাদের দেখেছি, তাদের ৯৯.৯৯ পার্সেন্ট ভাল মানুষ। আবার অনেক ভাল অস্তিক মানুষও দেখার সুযোগ হয়েছে। কিন্তু বিশ্বাসী মানুষদের ভেতর ভাল মানুষ পাওয়া খুব কঠিন। ক্ষেত্র বিষেশে অসম্ভব।
কাজেই একজন নাস্তিককে অবশ্যই ভাল মানুষ হতে হবে। বিবেকের দায়বদ্ধতা ছাড়া নাস্তিকতা অর্জনের কোনো সুযোগ নেই।
আস্তিকের ভাল হওয়ার তাড়নাটা আসে পরকালের পুরস্কারের মোহ থেকে, আর নাস্তিকের ভাল হওয়ার প্রেষণাটা পুরস্কার নির্ভর নয়। এখানেই তার শ্রেষ্টত্ব।
————————————————————————-আপনি আস্তিক না নাস্তিক ? : পক্ষে ও বিপক্ষে যুক্তি দিন
আস্তিকতার বিপরীত শব্দ নাস্তিকতা নয়, এই দুটো শব্দ দুটো বিশ্বাসের প্রতিনিধিত্ব করে। একটি ঈশ্বরের অস্তিত্বে বিশ্বাস, অন্যটি ঈশ্বরের অনস্তিত্বে বিশ্বাস।
পৃথিবীতে নাস্তিক ও আস্তিক উভয় ধরণের মানুষই রয়েছে।নাস্তিকদের চেয়ে আস্তিকদের সংখ্যা অনেক বেশী। অশিক্ষিত বা মূর্খ মানুষদের মধ্যে আস্তিকদের সংখ্যা অনেক বেশী। পক্ষান্তরে, উচ্চশিক্ষিত লোকেদের মধ্যে নাস্তিকদের সংখ্যাধিক্য। মানে ১০০ গুণ বা ১০০০ গুণ বেশী। আস্তিক ও নাস্তিকদের মধ্যে কিছু মৌলিক পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। নাস্তিককে স্রোতের বিপরীতে চলতে হয়।আর আস্তিকদের চলতে হয় স্রোতের অনুকূলে। নাস্তিকতাকে অর্জন করতে হয়। নাস্তিকতাকে অর্জন করতে হয় বিবেকের ব্যবহার, দৈনন্দিন জীবনধারণ, বাস্তব অভিজ্ঞতা, শিক্ষা ও জ্ঞানের বিশ্লেষণের মাধ্যমে। উত্তরাধিকার সূত্রে অর্জন কিংবা সম্পত্তির মতো ব্যবহারের আদ্ৌ কোনো সুযোগ নেই। সামাজিক বা বিবেকের দায়বদ্ধতা নাস্তিকতার প্রধান কথা। নাস্তিকদের প্রতিপদে তাকে জেনেশুনে এগোতে হয়। আর, আস্তিকরা বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই অর্বাচীন। বলা যেতে পারে, আস্তিকতা হচ্ছে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পদ আর নাস্তিকতা হচ্ছে নিজের যোগ্যতার মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ। আস্তিকতা উত্তরাধিকার সূত্রে বিনা পরিশ্রম বিনা যোগ্যতায়ই অর্জন সম্ভব।
এই ছবিটি তৈরী করেছেন : পঙ্কজ ধর চৌধুরী : যুক্তির আগুন ঝড়ান এখানে
——————————————————————–আস্তিকতার বিপরীত শব্দ নাস্তিকতা নয়, এই দুটো শব্দ দুটো বিশ্বাসের প্রতিনিধিত্ব করে। একটি ঈশ্বরের অস্তিত্বে বিশ্বাস, অন্যটি ঈশ্বরের অনস্তিত্বে বিশ্বাস।
একজন মানুষ নিতান্তই সকলের অগোচরে চলে গেলেন, তিনি পল কার্জ [Paul Kurtz] (মৃত্যু: ২০ অক্টোবর, ২০১২). যারা যুক্তিবাদী এবং বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ গঠনের আন্দোলনে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত কার্জকে খুব ভালভাবেই চেনেন। তিনি বিখ্যাত ‘Center for Inquiry’র প্রতিষ্ঠাতা, প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন ‘Committee for the Scientific Investigation of Claims of the Paranormal’ (যেটা CSICOP নামে পরিচিত)-এরও। পাশ্চাত্যে সংশয়বাদী আন্দোলনের পথিকৃৎ ছিলেন পল কার্জ। তিনিই ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির জন্য সূচনা করেছিলেন ‘সেক্যুলার হিউম্যানিজম’ নামের শক্তিশালী আন্দোলনের। একটা সময় আইজ্যাক আসিমভ কিংবা আজকের দিনের ভিক্টর স্টেঙ্গর, জর্জ স্মিথ সহ বিখ্যাত লেখকদের মুক্তচিন্তার বইগুলো ‘প্রমিথিউস বুক হাউস’ থেকে বেরুচ্ছে সেই প্রমিথিউস বুক হাউসও কিন্তু প্রতিষ্ঠা করেছিলেন পল কার্জ। ধর্মান্ধরা আশি কিংবা নব্বইয়ের দশকে ভয় পেতেন পল কার্জকে। মূলত: আজকের যুগের প্রবীর ঘোষ, রিচার্ড ডকিন্স, স্যাম হ্যারিস, স্টেঙ্গরেরা পল কার্জেরই কাজের সফল উত্তরসূরি। কার্জের একটি বিখ্যাত উক্তি — No deity will save us; we must save ourselves। তিনি চলে গেছেন। কিন্তু এ চলে যাওয়া আমাদের কাছে ‘প্রস্থান’ নয়। বরং তাঁরা রয়েছেন আমাদের মত মুক্তমনাদের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে।
@Souradeep Paul
আপনি আস্তিক না নাস্তিক ? : পক্ষে ও বিপক্ষে যুক্তি দিন
পৃথিবীতে নাস্তিক ও আস্তিক উভয় ধরণের মানুষই রয়েছে।নাস্তিকদের চেয়ে আস্তিকদের সংখ্যা অনেক বেশী। অশিক্ষিত বা মূর্খ মানুষদের মধ্যে আস্তিকদের সংখ্যা অনেক বেশী। পক্ষান্তরে, উচ্চশিক্ষিত লোকেদের মধ্যে নাস্তিকদের সংখ্যাধিক্য। মানে ১০০ গুণ বা ১০০০ গুণ বেশী। আস্তিক ও নাস্তিকদের মধ্যে কিছু মৌলিক পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। নাস্তিককে স্রোতের বিপরীতে চলতে হয়।আর আস্তিকদের চলতে হয় স্রোতের অনুকূলে। নাস্তিকতাকে অর্জন করতে হয়। নাস্তিকতাকে অর্জন করতে হয় বিবেকের ব্যবহার, দৈনন্দিন জীবনধারণ, বাস্তব অভিজ্ঞতা, শিক্ষা ও জ্ঞানের বিশ্লেষণের মাধ্যমে। উত্তরাধিকার সূত্রে অর্জন কিংবা সম্পত্তির মতো ব্যবহারের আদ্ৌ কোনো সুযোগ নেই। সামাজিক বা বিবেকের দায়বদ্ধতা নাস্তিকতার প্রধান কথা। নাস্তিকদের প্রতিপদে তাকে জেনেশুনে এগোতে হয়। আর, আস্তিকরা বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই অর্বাচীন। বলা যেতে পারে, আস্তিকতা হচ্ছে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পদ আর নাস্তিকতা হচ্ছে নিজের যোগ্যতার মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ। আস্তিকতা উত্তরাধিকার সূত্রে বিনা পরিশ্রম বিনা যোগ্যতায়ই অর্জন সম্ভব। এর সূতিকাগার হচ্ছে বিশ্বাস।
আস্তিকতার বিপরীত শব্দ নাস্তিকতা নয়, এই দুটো শব্দ দুটো বিশ্বাসের প্রতিনিধিত্ব করে। একটি ঈশ্বরের অস্তিত্বে বিশ্বাস, অন্যটি ঈশ্বরের অনস্তিত্বে বিশ্বাস।
নাস্তিকতার ভিত্তি বিবেকের দায়বদ্ধতা আর আস্তিকতার ভিত্তি প্রতিদানের প্রত্যাশা।
সব নাস্তিকই ভাল মানুষ নন। তবে যাদের দেখেছি, তাদের ৯৯.৯৯ পার্সেন্ট ভাল মানুষ। আবার অনেক ভাল অস্তিক মানুষও দেখার সুযোগ হয়েছে। কিন্তু বিশ্বাসী মানুষদের ভেতর ভাল মানুষ পাওয়া খুব কঠিন। ক্ষেত্র বিশেষে অসম্ভব।
কাজেই একজন নাস্তিককে অবশ্যই ভাল মানুষ হতে হবে। বিবেকের দায়বদ্ধতা ছাড়া নাস্তিকতা অর্জনের কোনো সুযোগ নেই।
আস্তিকের ভাল হওয়ার তাড়নাটা আসে পরকালের পুরস্কারের মোহ থেকে, আর নাস্তিকের ভাল হওয়ার প্রেষণাটা পুরস্কার নির্ভর নয়। এখানেই তার শ্রেষ্টত্ব।
যুক্তির আগুন ঝড়ান এখানে
তুলনামূলক আলোচনাঃ আস্তিকতা ও নাস্তিকতা
নাস্তিকতাকে অনেকে অত্যাধুনিকতা ও নিজেকে অন্যের চেয়ে আলাদাভাবে উপস্থাপনের তরল প্রয়াস বলে বিবেচনা করেন। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে আমি নাস্তিকতাকে এতো সহজলভ্য বলে মনে করি না। একজন আস্তিক প্রতিদানের আশায় (তাকে আপনি বেহেস্ত, প্যারাডাইস কিংবা স্বর্গ যাই বলুন) সৎ! থাকার চেষ্টা করেন। প্রতিদানের প্রত্যাশা করাটা ব্যবসায়িক মনোবৃত্তিরই পরিচায়ক। অপরদিকে একজন নাস্তিক কোনো প্রতিদানের আশা না করে শুধুমাত্র নিজের বিবেকের দায়বদ্ধতা থেকেই বিবেকের কাজগুলো সম্পন্ন করেন। এই বিবেকের দায়বদ্ধতাই নাস্তিকতার প্রথম এবং মূল শর্ত। বিবেকের দায়ব্দ্ধতা ব্যতিরেকে নিজেকে নাস্তিক হিসেবে দাবী করাটা নেহায়েৎ অযৌক্তিকই নয়, প্রতারণার সামিল। এমন ব্যক্তিকে কখনও সত্যিকারের নিবেদিত নাস্তিক বলা যাবে না।
*** নাস্তিকতার ভিত্তি বিবেকের দায়বদ্ধতা আর আস্তিকতার ভিত্তি প্রতিদানের প্রত্যাশা।
নাস্তিকতাকে অর্জন করতে হয়। পক্ষান্তরে আস্তিকতা উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত। এর সূতিকাগার হচ্ছে বিশ্বাস। বিবেক বুদ্ধির ব্যবহারের সুযোগ এখানে খুবই কম। কিন্তু নাস্তিকতা মানুষের দৈনন্দিন জীবনধারণ, বাস্তব অভিজ্ঞতা, শিক্ষা ও জ্ঞানের বিশ্লেষণের মাধ্যমে অর্জিত হয়। এটাকে উত্তরাধিকার সূত্রে অর্জন কিংবা সম্পত্তির মতো ব্যবহারের আদ্যৗ কোনো সুযোগ নেই। আপনি যদি বিষয়টাকে সম্পদের সাথে তুলনা করেন তবে আস্তিকতা হচ্ছে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পদ আর নাস্তিকতা হচ্ছে নিজের যোগ্যতার মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ।
*** নাস্তিকতাকে অর্জন করতে হয় বিবেকের ব্যবহার, দৈনন্দিন জীবনধারণ, বাস্তব অভিজ্ঞতা, শিক্ষা ও জ্ঞানের বিশ্লেষণের মাধ্যমে। অপরদিকে আস্তিকতা উত্তরাধিকার সূত্রে বিনা পরিশ্রম বিনা যোগ্যতায়ই অর্জন সম্ভব।
নাস্তিকতা অবশ্যই একটি ধর্ম। সাধারণভাবে ধর্ম বলতে সেই পন্থা, বা পথ কে বুঝায় যা কোনো পদার্থ, ব্যক্তি অথবা ব্যক্তিবর্গ অনুসরণ করে থাকে। সেই হিসেবে নাস্তিকতা অবশ্যই একটি ধর্ম। কারণ একজন নাস্তিক বিবেকের দায়বদ্ধতা থেকে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার মাধ্যমে অর্জিত পথে নিজেকে পরিচালিত করেন। তাই একজন নাস্তিক-কে কোনো প্রকারেই অধার্মিক বা ধর্মদ্রোহী বলা যাবেনা। বরং নাস্তিকতা পৃথিবীর উল্লেখযোগ্য মানুষ কর্তৃক অনুসৃত ধর্ম এবং এ ধর্মের মাধ্যমেই পৃথিবীতে সার্বিক শান্তি আনয়ন সম্ভব। কারণ আস্তিকতার ভিত্তিতে পরিচালিত ধর্মগুলো তাদের প্রবর্তকের গুণকীর্তনে ব্যস্ত। তারা স্রস্টার গুণকীর্তনের চেয়ে শুধু তাদের প্রবর্তকদের শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করতে ব্যস্ত। এর ফলশ্রুতিতে জেহাদ, ক্রুসেড প্রভৃতি ধর্মযুদ্ধের অবতারণা হয় যার ফলাফল সম্পর্কে সবাই অবহিত। অপরদিকে নাস্তিকতা সব মানুষকে সম মর্যাদা নিয়ে মানুষকেই সবচেয়ে বেশি মর্যাদা দেয় এবং এক যাচিত সাম্যের সৃষ্টি করে।
*** আস্তিকতা নয়, নাস্তিকতা পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। প্রচলিত আস্তিকতার ভিত্তিতে প্রবর্তিত ধর্মগুলোর ব্যর্থতা তাই প্রমাণ করে।
@freemang2001gmail-com



