Form and Content in literary criticism

Every phenomenon or things has a certain content and is manifested in a certain form. Content is the totality of the components

সম্পাদকের কলমে

সম্পাদকের কলমে

Form and Content in literary criticism

Every phenomenon or things has a certain content and is manifested in a certain form. Content is the totality of the components

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence)

প্রথম পর্ব-

পুঁজির মুনাফার স্বার্থে, না জনগণের চাহিদা মেটাতে? –মাকিস পাপাডোপৌলুস

অর্থনীতির ডিজিটাল রূপান্তর এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (আর্টিফিশিয়াল অ ৩ ইনটেলিজেন্স, এআই)-র বিকাশ সমাজের চাহিদা মেটানোর ক্ষেত্রে একটি বিশাল সম্ভাবনার দিকে ইঙ্গিত করছে। অনেক শ্রমিক তাদের বর্তমান অবস্থার সঙ্গে এই সম্ভাবনার তুলনা করে ক্ষুব্ধ। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, তারা শিখেছে যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে ‘অন্ধ ব্যক্তিরা দৃষ্টি ফিরে পেতে পারে। এবার তারা এর সঙ্গে জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার বর্তমান অবস্থার তুলনা করছে।

বুর্জোয়ারা সেই প্রকৃত অপরাধীকে আড়াল করার চেষ্টা করে, যারা এই বিপুল প্রযুক্তিগত সম্ভাবনাকে সামাজিক সমৃদ্ধির স্বার্থে কাজে লাগাতে বাধা দেয়। বুর্জোয়ারা প্রযুক্তির এই বিকাশকে একটি বিপদ হিসাবে বা আমাদের সমস্যার অলৌকিক সমাধান হিসাবে উপস্থাপন করে।

প্রযুক্তিকে দানব রূপে তুলে ধরা এবং তার ইউটোপিয়ান ব্যাখ্যা, যা মনে করে প্রযুক্তিগত অগ্রগতির ফলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সামাজিক সমৃদ্ধি ঘটবে- এই দুই দৃষ্টিভঙ্গি একটি অনৈতিহাসিক এবং ভান্ত তাত্ত্বিক অবস্থানের দু’টি দিক।

মূল প্রশ্ন হল প্রযুক্তিকে কে ব্যবহার করছে। এবং কার স্বার্থে নতুন প্রযুক্তির বিন্যাস, বিকাশ এবং ব্যবহার ঘটবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পিছনে রয়েছে মানুষের বুদ্ধিদীপ্ত পছন্দ এবং বিশেষ কিছু শ্রেণির স্বার্থ, যা এর মাধ্যমে পূরণ হবে।

সাধারণভাবে, প্রযুক্তির নিরপেক্ষ প্রয়োগ বলে কিছু নেই যার বিকাশ সমাজের রাজনৈতিক ক্ষমতাভোগী এবং অর্থনীতির নিয়ন্ত্রণকারী শ্রেণির অবস্থান নিরপেক্ষভাবে ঘটে থাকে। আজ শক্তিশালী একচেটিয়া গোষ্ঠী এবং সাম্রাজ্যবাদের কেন্দ্রগুলি কার্যক্ষেত্রে ঠিক করে দেয় যে ডেটা সেন্টারে কোনও মানদণ্ড এবং পদ্ধতি অনুসারে কোন তথ্য কী উদ্দেশ্যে সংগ্রহ করা হবে।

পদ্ধতিগত ভাবে এবং মৌলিক ভাবনার দিক থেকে আমরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগকে সেই নির্দিষ্ট উৎপাদন পদ্ধতির প্রেক্ষাপটের বাইরে বিশ্লেষণ করতে পারি না, যেখানে এটি ঐতিহাসিকভাবে বিকশিত হচ্ছে, অর্থাৎ উৎপাদনের পুঁজিবাদী পদ্ধতি। পুঁজিবাদের অধীনে বাজারের মাধ্যমে উৎপাদনের উপকরণের সঙ্গে সামাজিক যৌথ শ্রমের সংযোগ ঘটে। উৎপাদনের পুঁজিবাদী সম্পর্ক উৎপাদনের উপকরণের বিকাশের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, ব্যাপ্তি এবং হার নির্ধারণ করে। একইসঙ্গে, উৎপাদন শক্তির বিকাশের সঙ্গে দ্বান্দ্বিক মিথস্ক্রিয়ায় পুঁজিবাদী সম্পর্ক গড়ে ওঠে, পরিপক্ক হয় এবং ক্ষয়ে যায়।

পুঁজির দ্বারা শ্রমের প্রকৃত আত্মসাতের মার্কসবাদী বিশ্লেষণ এখনও গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রাসঙ্গিক। জীবন্ত সামাজিক শ্রমের উৎপাদন শক্তি পরিবর্তনশীল পুঁজি হিসাবে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হয়। এর সমস্ত সাংগঠনিক বৈশিষ্ট্য (শ্রমের বিভাজন, শ্রমিকদের সমন্বয় ও সহযোগিতা, বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের প্রয়োগ ইত্যাদি) পুঁজি দ্বারা নির্ধারিত হয়। এবং পুঁজির স্বার্থ সিদ্ধি করে।

একইভাবে, আমরা স্টিম ইঞ্জিনের যুগ বা বুদ্ধিমান রোবটের যুগ যারই পর্যালোচনা করি না কেন, পুঁজিবাদের অধীনে প্রযুক্তি উদ্বৃত্ত মূল্য উৎপাদনের একটি মাধ্যম এবং পুঁজির ক্ষমতার হাতে নিয়ন্ত্রণ ও দমনের একটি মাধ্যম ছিল, আছে এবং থাকবে। মার্কস শ্রমের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে, সস্তা পণ্য তৈরি করতে এবং শোষণের মাত্রা বৃদ্ধিতে যন্ত্রের ভূমিকা নথিভুক্ত করেছিলেন। তিনি ইতিমধ্যেই তাঁর রচনা ‘ক্রুন্ড্রিস’-এ তুলে ধরেছিলেন যে স্থির পুঁজির বিকাশ ইঙ্গিত করে যে সাধারণ সামাজিক জ্ঞান কী মাত্রায় উৎপাদনের প্রত্যক্ষ শক্তিতে পরিণত হয়েছে। পুঁজি কেবল প্রযুক্তির ব্যবহারই নয়, সর্বদা মুনাফার লক্ষ্যে এর বিকাশের অভিযোজন এবং অগ্রাধিকারও নির্ধারণ করে।

মার্কস এই বিষয়েও ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে সাধারণভাবে স্বয়ংক্রিয়তা এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়ন মানুষের শ্রমের সময় বাঁচানো নিশ্চিত করতে পারে, মানুষের ব্যক্তিত্বের সর্বাঙ্গীণ বিকাশ এবং সামাজিক মুক্তির শর্তগুলিকে পরিপক্ক করতে পারে। মার্কসবাদী রাজনৈতিক অর্থনীতির পদ্ধতি এবং বৈজ্ঞানিক আইনের সূত্রগুলির ওপর ভিত্তি করে, আমরা বিনা দ্বিধায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগকে বিশ্লেষণ করতে পারি। আসুন, আজকে কী ঘটছে তা একবার দেখে নেওয়া যাক।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং চীনের অর্থনীতির ডিজিটাল রূপান্তর ইতিমধ্যেই চিত্তাকর্ষকভাবে এগিয়েছে। ইন্টারনেট-সংযুক্ত কম্পিউটার একটি সর্বজনীন মেশিন, যা একইসঙ্গে উৎপাদন, যোগাযোগ, শিক্ষা, সাংস্কৃতিক সৃষ্টি এবং চিকিৎসা পরিষেবার মাধ্যম। ‘ইন্টারনেট অফ থিংস’ ইতিমধ্যেই একটি বাস্তবতা। আমরা আমাদের বাড়িতে তথাকথিত ‘স্মার্ট যন্ত্রপাতি’ সক্রিয় করতে আমাদের মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারি, যেমন এয়ার কন্ডিশনার, ফ্রিজ এবং টিভি, যা সেন্সরযুক্ত এবং ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযুক্ত। এখন আমরা ‘ইন্টারনেট অফ বডিজ’-এর যুগে প্রবেশ করছি, যার অন্তর্ভুক্ত মানুষের মধ্যে সরাসরি সংযোগ, ইন্টারনেট, রোবট এবং সাধারণভাবে তথাকথিত স্মার্ট মেশিন। মেশিন লার্নিং, ডিপ লার্নিং এবং বিগ ডেটার মতো বেশ কয়েকটি প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সংমিশ্রণের মাধ্যমে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সিস্টেমগুলি তৈরি করা হচ্ছে। যা দ্রুত প্রচুর পরিমাণে ডেটা রূপান্তর করতে পারে। নিজেদের প্রশিক্ষণ দিতে পারে। এবং জটিল কাজগুলি সম্পাদন করতে পারে। এই লক্ষ্যে কোয়ান্টাম কম্পিউটার। অর্থাৎ সুপার কম্পিউটার তৈরি করা হচ্ছে।

অর্থনীতির ডিজিটাল রূপান্তর মুনাফা ও শোষণের নিয়মগুলি অর্থাৎ পুঁজিবাদী অর্থনীতি যে সমস্ত নিয়মের ভিত্তিতে কাজ করে সেগুলিকে বাতিল করে না। ব্যবসায়িক গোষ্ঠীগুলিকে তাদের মুনাফা বৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে হলে অবশ্যই শোষণের মাত্রা বৃদ্ধি এবং শ্রমিকদের রক্তপাত অব্যাহত রাখতে হবে। তাদের অবশ্যই ‘কাজের সময়ের ব্যবস্থাপনার। মাধ্যমে কর্মসংস্থানের নমনীয় রূপ এবং কাজের সময় প্রসারিত করতে হবে।

পুঁজি কাজের তীব্রতা এবং কর্মরতদের কাজের চাপ বাড়াতে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে। সেইসঙ্গে বাড়তে থাকে বেকারদের বাহিনী বুর্জোয়া প্রচারের বিপরীতে, এই প্রযুক্তিগত বিকাশ পুঁজিবাদী উৎপাদন পদ্ধতির দ্বন্দ্বকে তীক্ষ্ণ করে। এবং শ্রমিকদের অধিকারের ওপর বুর্জোয়া নীতির ক্রমাগত একমুখী আক্রমণ ঘটায়।

মার্কসবাদী রাজনৈতিক অর্থনীতির পাঠ থেকে আমরা জানি, উৎপাদনের প্রযুক্তিগত উন্নতি যত বেশি হবে, উৎপাদন প্রক্রিয়ায় শ্রমশক্তির সঙ্গে উৎপাদনের উপকরণের অনুপাত তত বেশি হবে। পুঁজি যত বেশি প্রযুক্তির সাহায্যে ও জৈবিক উপায়ে গঠিত হবে, তত মুনাফার হার কমার প্রবণতা বাড়বে।

আমাদের ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে শোষণের উৎস উদ্বৃত্ত মূল্য। এবং পুঁজিবাদী মুনাফার উৎস হল মজুরি-শ্রমিকদের অবৈতনিক শ্রমসময়, তাদের শ্রমশক্তির মূল্যের বাইরে অবৈতনিক শ্রম যা পুঁজিপতিরা আত্মস্যাৎ করে। শুধুমাত্র জীবন্ত শ্রমশক্তিই উদ্বৃত্ত মূলা তৈরি করে, রোবট নয়।

অবশ্যই, বুর্জোয়ারা মুনাফার হারের এই নিম্নমুখী প্রবণতাকে নিস্পৃহভাবে দেখে না। এই প্রবণতা বন্ধ করতে প্রতিটি ক্ষেত্রে ও সামগ্রিকভাবে অর্থনীতিতে শ্রমিকদের শোষণের মাত্রা বাড়াতে বিভিন্ন উপায়ে হস্তক্ষেপ করে।

পুঁজি নতুন প্রযুক্তিগত সম্ভাবনাকে এমন ভাবে ব্যবহার করে যাতে আইনগত ভাবে নির্ধারিত কাজের সময় নির্বিশেষে দৈনন্দিন কাজের সময় বাড়ানো যায় এবং একই সঙ্গে শ্রমের তীব্রতা বৃদ্ধি করা যায়। বেকারত্বের বৃদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে এভাবে শ্রম সম্পর্ককে সার্বিকভাবে নমনীয় করার চেষ্টা চলে।

আমাদের তথ্যভাণ্ডার পুঁজির করায়ত্ত তবে পুঁজি সেখানেই থেমে নেই। শ্রমকে সম্পূর্ণ ভাবে পুঁজির অধীনস্থ করার জন্য নতুন, উন্নত এবং আরও জটিল নেটওয়ার্কিং ও মানুষের মধ্যে আন্তঃসংযোগ, ইন্টারনেট এবং রোবটগুলির পাশাপাশি সাধারণভাবে নতুন অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা চলছে। পুঁজিবাদ শ্রমশক্তি শোষণের নানা সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করতে চায়, যা এখনও পর্যন্ত মানবদেহের বৈশিষ্ট্যগুলি দ্বারা নির্ধারিত হয়েছে। পুঁজি মুনাফা অর্জনের ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য যেমন মানব দেহ এবং মানুষের জ্ঞান অর্জনের ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে চায়, তেমনই তাকে প্রতিস্থাপন করতেও চায়। উদাহরণস্বরূপ, বর্তমানে একটি কাজে যুক্ত কর্মীদের সংখ্যা কমাতে এবং কর্মক্ষেত্রে তাদের ওপর নজরদারি বাড়াতে অতিরিক্ত ম্যানুয়াল হ্যান্ডলিং সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে।

এখন আমাদের অনুমতি ছাড়াই আমাদের দেহকে পুঁজির স্বার্থে তথ্যের খনিতে পরিণত করা হচ্ছে। ডিজিটাল তথ্যই আসলে নতুন সোনা, নতুন তেল। আমাদের বায়োমেট্রিক এবং ব্যক্তিগত তথ্যের জ্ঞান এবং প্রক্রিয়াকরণ শেষ পর্যন্ত নিয়োগকর্তাদের পদোন্নতি এবং বরখাস্তের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে দেয়; বীমা কোম্পানিকে প্রিমিয়ামের পরিমাণ পরিবর্তন করতে সাহায্য করে। পুঁজির মালিকরা আমাদের সম্পর্কে সমস্ত তথ্য- যেমন আমাদের স্বাস্থ্যের অবস্থা, আমাদের আইনি মামলা, আমাদের ট্রেড ইউনিয়নের কার্যকলাপ, আমাদের ঋণ এবং আমাদের আর্থিক পরিস্থিতি ইত্যাদি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করে আমাদের শোষণ করে তাদের লক্ষ্যপূরণ করার জন্য।

আমরা সামাজিক জীবনের যে দিকেই তাকাই না কেন, এটা স্পষ্ট যে শ্রমের সামাজিক চরিত্র ক্রমাগত গভীরতর হচ্ছে, এবং পুঁজিবাদীদের দ্বারা শ্রমের ফলাফল আত্মস্যাৎ করার মধ্যে দ্বন্দ্ব ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। বুর্জোয়ারা ক্রমেই আরো বেশি প্রতিক্রিয়াশীল হয়ে উঠছে। শ্রেণিসংগ্রামের তীব্রতা বৃদ্ধি এবং শ্রমিকশ্রেণির অগ্রণী ভূমিকা গ্রহণ করে ইতিহাসের চাকাকে সামনের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার বস্তুনিষ্ঠ শর্তগুলো এখন আরও বেশি পরিপক্ক হয়ে উঠেছে। পুঁজির অপরাধী হাত থেকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি কেড়ে নিয়ে পুঁজিবাদী শোষণের বদ্ধ জলা থেকে বাঁচা ক্রমশ জরুরি হয়ে উঠছে। সাম্রাজ্যবাদের কেন্দ্রগুলি এ কথা জানে। এবং ভয় পায়। তাই তারা এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের জন্য বিপন্ন আমাদের অধিকার

রোবোটিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তি রূপায়নের ক্ষেত্রে সামগ্রিকভাবে ইইউ-এর গৃহীত কৌশলের ফলে জনগণ যে বিপদের সম্মুখীন হচ্ছে তা গোপন করা যাচ্ছে না। ইইউ তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নিয়মাবলীতে এর কিছুটা স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে। ব্যক্তিগত তথ্য, বায়োমেট্রিক তথ্যের রেকর্ডিং এবং প্রক্রিয়াকরণের ফলে যে বিপদ হতে পারে, যা রাজনৈতিক এবং ট্রেড ইউনিয়নের স্বাধীনতা, মৌলিক নাগরিক অধিকার এবং এমনকি চিন্তা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার বুর্জোয়া ধারণাকে বিপন্ন করতে পারে তা স্বীকার করা হয়েছে। বিভিন্ন বিপজ্জনক কৌশলের মাধ্যমে মানুষকে পরিচালনা করার যে চেষ্টা হচ্ছে এবং মানুষ ও ‘স্মার্ট মেশিন’-এর মধ্যে সংযোগ, তথাকথিত মস্তিষ্ক-কম্পিউটার সংলাপ এবং অগমেন্টেড রিয়েলিটি সিস্টেমের মাধ্যমে মানুষের অবচেতন মনকে প্রভাবিত করার যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে সে সম্পর্কেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

ইউরো-আটলান্টিক চক্রের লোকজন জানেন যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে বর্তমান এবং ভবিষ্যতের বিপদগুলিকে যারা তুলে ধরছেন, তাদের ‘টেকনোফোব’ (প্রযুক্তির আতঙ্কে ভোগা ব্যক্তি) বা সত্যবাদী হিসাবে ব্যঙ্গ করে বর্তমানে যে আক্রমণাত্মক বক্তব্য রাখা হচ্ছে, তা কেবল অত্যন্ত অজ্ঞ এবং রাজনৈতিকভাবে নির্বোধদের কাছেই গ্রহণযোগ্য। তাই তারা শ্রমজীবী জনগণের মধ্যে আত্মতুষ্টি তৈরি করতে এবং তাদের নিয়ন্ত্রণে আনতে বিপুল অর্থ ব্যয় করে একটি জটিল এবং বহুমুখী রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রচার কার্য পরিচালনা করছে।

আত্মতুষ্টি তৈরির জন্য প্রচার চলছে যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন যে নিয়ন্ত্রণ কাঠামো প্রণয়ন করেছে তা আমাদের বিপদ থেকে রক্ষা করবে। পুঁজির একনায়কতন্ত্রের এই আশ্বাস শিয়ালের মুরগির ঘর পাহারা দেওয়ার প্রতিশ্রুতির মতো।

বর্তমান ইইউ-এর কার্যকলাপের দিকে একবার নজর দিলেই আমাদের ধারণা স্পষ্ট হয়ে যাবে। ইইউ কর্মীরা দাবি করেন যে তারা স্বাধীনতা, নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচারের একটি ইউরোপীয় ক্ষেত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন। কিন্তু বাস্তবে কী ঘটছে? নিরাপত্তা এবং সন্ত্রাসবাদ দমনের নামে, তারা আমাদের ব্যক্তিগত তথ্যের সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্রোফাইলিং এবং প্রক্রিয়াকরণের পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক নজরদারি এবং হস্তক্ষেপকে আইনের অন্তর্ভুক্ত করেছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সম্পর্কিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আইনের নিয়মগুলিও একই রকম। নতুন কাঠামোর প্রকৃত নিয়মগুলি আদতে ব্যতিক্রম এবং এখানে বিপদগুলিকে ছোট করে দেখানো হচ্ছে।

জনগণের নিরাপত্তার ধুয়ো তুলে এবং সন্ত্রাসবাদ দমনের নামে, আমাদের কণ্ঠস্বর বিশ্লেষণ এবং প্রকাশ্য স্থানে আমাদের গতিবিধির বায়োমেট্রিক সনাক্তকরণ এই নিয়মের ব্যতিক্রম। তবে ফ্রান্স ইতিমধ্যেই প্রথম ইইউ সদস্য রাষ্ট্র হয়ে উঠেছে, যেখানে অলিম্পিক গেমসের নিরাপত্তা রক্ষার নামে প্রকাশ স্থানে বায়োমেট্রিক পর্যবেক্ষণ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

কোম্পানি এবং কারখানার কর্মক্ষেত্রগুলি এই নিষেধাজ্ঞার আওতা থেকে মুক্ত। কর্মক্ষমতা মূল্যায়নের প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতির নামে জাতি, রাজনৈতিক মতামত, ট্রেড ইউনিয়ন সদস্যপদ, যৌন জীবন ইত্যাদির উপর ভিত্তি করে সামাজিক শ্রেণিবিভাগের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সিস্টেমের ব্যবহার অবশ্যই নিয়মের ব্যতিক্রম।

উদ্ভাবন এবং ইইউ-এর মধ্যে প্রতিযোগিতাকে উৎসাহিত করার নামে, আরও তিনটি শ্রেণির ছোটখাটো বিপদ চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে স্বচ্ছতা বজায় রাখার স্বার্থে কোম্পানিগুলি স্বেচ্ছায় সেগুলি বাস্তবায়ন করতে বাধ্য। সাধারণভাবে, জরিমানা এড়াতে এবং ইইউ-এর নিয়ম মেনে চলা নিশ্চিত করার জন্য কোম্পানিগুলিকে নিজেদের ওপর নজরদারি করতে হবে।

৪৭পুঁজির হাতে অর্থনীতির ডিজিটাল রূপান্তর শ্রমিকদের শোষণের মাত্রা বৃদ্ধির জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। এর ফলে গভীরতর সংকটের উদ্ভব ঘটছে এবং আন্তঃ সাম্রাজ্যবাদী প্রতিযোগিতার তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর সঙ্গেই সম্পর্কিত ক্রমবর্ধমান সামাজিক বৈষম্য, তথ্যপ্রযুক্তি এবং জ্বালানি ব্যবহারের সুযোগের অভাব এবং দীর্ঘস্থায়ী বেকারত্বের বৃদ্ধি।

নতুন সংকট আসন্ন

ডিজিটাল রূপান্তর পুঁজিবাদী অর্থনীতির বৈজ্ঞানিক নিয়মগুলিকে বাতিল করতে পারে না, যা পুঁজির অতিরিক্ত সঞ্চয়ের ফলে পর্যায়ক্রমিক সংকটের সৃষ্টি করে। বিপরীতে, এটি পুঁজির কেন্দ্রীভবনকে ত্বরান্বিত করে। এবং যে পুঁজি সন্তোষজনক মুনাফার হার সহ বিনিয়োগের পথ খুঁজে পায় না, তার অতি সঞ্চয়কে বৃদ্ধি করে।

জার্মান অর্থনীতি, যা ইউরোজোনের ইঞ্জিন, তা ইতিমধ্যেই মন্দার মধ্যে রয়েছে। সামগ্রিকভাবে ইউরোজোনে মন্দার ঝুঁকি বাড়ছে। ২০২২ সালের শেষ ত্রৈমাসিক থেকে ইউরোজোনের জিডিপি সংকোচনের মধ্যে রয়েছে। ইউরোসিস্টেম বিশেষজ্ঞরা পূর্বাভাস দিয়েছেন যে ইউরোজোনের জিডিপি বৃদ্ধি ২০২২ সালে ৩.৫ শতাংশ থেকে কমে ২০২৩ সালে ০.৯ শতাংশ হবে।

জি ৭-ব্লকের কথা বলতে গেলে, ইতালি এবং কানাডার অর্থনীতিও মন্দার মধ্যে রয়েছে। তাছাড়া, চীনের অর্থনীতি মন্দার পর্যায়ে রয়েছে, রিয়েল এস্টেট খাত এবং সাধারণভাবে নির্মাণ ক্ষেত্রে সংকটের গুরুতর সম্ভাবনা রয়েছে। মন্দাগ্রস্ত রিয়েল এস্টেট বাজারের পাশাপাশি, ইতিমধ্যেই চীনে ভোগ্যপণ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে এবং রপ্তানির ক্ষেত্রে পতন দেখা দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং রেটিং এজেন্সিগুলির বেশিরভাগ প্রতিবেদন ২০২৩ সালে আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য মন্দার ঝুঁকির সংকেত পাঠাচ্ছে। মুদ্রাস্ফীতির চাপ না কমা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলির সুদের হার বৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাবের ফলে এমনটা ঘটতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশ্বের সর্বমোট জিডিপি এবং পণ্য ও পরিষেবার আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বৃদ্ধির হার ইতিমধ্যেই মন্দার পথে রয়েছে। মার্কিন ব্যাংকগুলির সাম্প্রতিক ঘটনাবলী আবারও নিশ্চিত করে যে সংকটটি পুঁজিবাদী

ব্যবস্থার স্বাভাবিক ক্রিয়াকলাপ থেকে উদ্ভুত। এটি তার ডিএনএ-তে রয়েছে। হাই টেক সংস্থাগুলি এসভিবি-এর মতো ব্যাংক থেকে তাদের আমানত উত্তোলন শুরু করার অনেক আগে থেকেই তাদের মুনাফার হার হ্রাস পেয়েছিল।

২০২২ সালে এই কোম্পানিগুলির শেয়ারের দাম কমে যাচ্ছিল। সন্তোষজনক মুনাফার হারে বিনিয়োগ করা সম্ভব নয় এমন অতিরিক্ত মূলধন সঞ্চয়ও এইসময়কালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বৃদ্ধি পেয়েছে। অ্যামাজন, মেটা এবং গুগলের মতো সংস্থাগুলি হাজার হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করেছে। এই গভীর সংকটের প্রাদুর্ভাব এড়াতে বুর্জোয়ারা তাদের সমস্ত অস্ত্র ব্যবহার করেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলি রাষ্ট্রগুলিকে সস্তা ঋণ এবং রাষ্ট্রীয় সাহায্যের বৃহৎ প্যাকেজ প্রদানের জন্য ‘আরও অর্থ’ নিশ্চিত করেছে। এর ফলে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা রাশিয়ার সঙ্গে মার্কিন-ইইউ জ্বালানি যুদ্ধের ফলে আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল কর্তৃক প্রকাশিত একটি সমীক্ষায় ডজন-ডজন মার্কিন ব্যাংক সংকটে রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।” মার্কিন বন্ডের তাৎক্ষণিক ব্যাপক বিক্রয়ের ফলে ক্ষতির পরিমাণ ৬২,০০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার অনুমান করা হচ্ছে। সরমার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সকল আমানতের গ্যারান্টি দেওয়ার দাবি করে। তবে, এটি একটি অতিরিক্ত ঋণগ্রস্ত রাষ্ট্র, যা ইতিমধ্যেই সর্বোচ্চ স্থায়ী সার্বভৌম ঋণের সীমার ‘লাল রেখা’ অতিক্রম করেছে। মার্কিন সরকারি ঋণ ৩১.৫ ট্রিলিয়ন (এক ট্রিলিয়ন অর্থ এক লক্ষ কোটি) ডলার এবং জিডিপির ১২০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে, যা রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে রিপাবলিকান এবং ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে বিরোধের জন্ম দিয়েছে, যার ফলে একটি অস্থায়ী আপস হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রাষ্ট্রের কোনও পদক্ষেপই পুঁজির অতিরিক্ত সঞ্চয়ের মূল কারণ দূর করতে পারে না। বাজারে পুঁজি অতিরিক্ত, কোনও ঘাটতি নেই। রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ এবং শক্তিশালী ব্যাঙ্কিং গোষ্ঠীগুলি মারফত আরও বেশি পরিমাণে বাজারী শেয়ারের ক্রয় আর্থিক সংকটের সূচনাকে কেবল সাময়িকভাবে স্থগিত করতে পারে। পরবর্তী সংকট আরও গভীর হবে। দীনের নীতি গানপারলির্তেই আলীে সাম্রাজ্যবাদী কেন্দ্রগুলির মধ্যে দ্বন্দ্ব তীব্র করার নতুন ক্ষেত্র

প্রধানত প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে এবং পুঁজিবাদী অর্থনীতি ও রাষ্ট্রের ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে আধিপত্য ও শোষণকে সুসংহত করার প্রতিযোগিতা আজ আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী দ্বন্দ্বকে তীব্রতর করে তুলছে।

সামগ্রিক অর্থনীতির মতো, প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রেও দুটি শক্তিশালী দেশ আধিপত্যের জন্য প্রতিযোগিতা করছে: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন। বিগ ডেটা সংগ্রহ এবং প্রক্রিয়াকরণ এবং ডিপ লার্নিং এর দিক থেকে এই দুই দেশ অন্যদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে শক্তিশালী জিএএফএএমআই (গুগল, অ্যামাজন, ফেসবুক, অ্যাপল, মাইক্রোসফ্ট) এবং চীনের রয়েছে বিএইচএটিএক্স (বাইবু, হুয়াওয়ে, আলিবাবা, টেনসেন্ট, শাওমি)।

বর্তমানে প্রযুক্তিগত দিক থেকে শীর্ষস্থানীয় দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি কৌশল গ্রহণ করছে যার লক্ষ্য মূলত চীনের গতি রোধ করা এবং ইইউর থেকে এগিয়ে থাকা।” তাই, চীনে এআই কম্পিউটারে ব্যবহৃত উন্নত প্রযুক্তির চিপ, অর্থাৎ দ্রুত এবং আরও শক্তি-সাশ্রয়ী চিপ রপ্তানি এবং সাধারণভাবে হার্ডওয়্যার এবং সফ্টওয়্যার প্রযুক্তি রপ্তানির উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে। এই লক্ষ্য অর্জন করার জন্য আমেরিকা ইইউ-জাপান সমন্বয়ের জন্য চাপ দিচ্ছে এবং কিছুটা সফল হয়েছে।

তাছাড়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই খাতে দেশীয় একচেটিয়া প্রতিষ্ঠানগুলিকে উদারভাবে ভর্তুকি দিচ্ছে। চিপস অ্যান্ড সায়েন্স অ্যাক্ট (যা ডেমোক্র্যাট এবং রিপাবলিকানদের একটি অংশের সহায়তায় অনুমোদিত হয়েছে) উন্নত সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারী বৃদ্ধির জন্য ৫,২০০ কোটি ডলার এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণা বৃদ্ধির জন্য আগমী এক দশক ধরে আরও ২০,০০০ কোটি ডলার সহায়তা নিশ্চিত করেছে।

এরই সঙ্গে, ৩৬,০০০ কোটি ডলার মূল্যের বাইডেন গ্রিন ট্রানজিশন প্যাকেজও কার্যকর রয়েছে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত যে কোনও ইউরোপীয় ব্যবসায়িক গোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার ও সুবিধা প্রদান করে। উদাহরণস্বরূপ, অ্যাপল চীন থেকে তার উৎপাদন কেন্দ্রগুলি সরিয়ে নিচ্ছে।

তবে, ব্লুমবার্গের মতে, মার্কিন কোম্পানিগুলি অসুবিধার মধ্যে রয়েছে কারণ তাদের দেশে পণ্য উৎপাদন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংশ্লিষ্ট কারখানার তুলনায় ৫০ শতাংশ বেশি ব্যয়বহুল এবং ২৫ শতাংশ বেশি সময়সাপেক্ষ।

ইইউ প্রাথমিকভাবে চীনে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করে ছিল। কিন্তু এর ফলে তারা অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের সম্মুখীন হয়, বিশেষ করে জার্মানিতে, যেখানে ৫-জি নেটওয়ার্কের একটি বড় অংশ চীনের হুয়াওয়ে এবং জেডইটি দ্বারা নির্মিত হয়েছে এবং যেখানে মার্সিডিজের সঙ্গে চীনের সিএটিএল-এর বড় অংশীদারিত্ব চুক্তি রয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইউরোপীয় ব্যবসায়িক গোষ্ঠীগুলির জন্য নিজস্ব সহায়তা কর্মসূচি প্রণয়ন করেছে, যার নাম ইউরোপীয় চিপস অ্যাক্ট, যার লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্ব বাজারে তাদের অংশীদারিত্ব দ্বিগুণ করে ১০ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশ করা। তবে, বেশিভাগ বিশ্লেষক বিশ্বাস করেন যে ৪,৩০০ কোটি ইউরোর সহায়তা এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে তাদের বিশাল ব্যবধান পূরণ করার জন্য যথেষ্ট নয়।

একইসঙ্গে ইইউ তার স্বাধীন সত্তা জোরদার করার প্রয়াসের অঙ্গ হিসেবে জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, চেক সাধারণতন্ত্র, স্পেন এবং পোল্যান্ডে ৬টি শক্তিশালী কোয়ান্টাম কম্পিউটার স্থাপনের জন্য চুক্তি করেছে। এটি এমন একটি পরিকাঠামো যা শিল্পক্ষেত্রে এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য কম্পিউটিং শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে।

এদিকে চীন ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ডিজিটাল শক্তি হয়ে ওঠার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এই লক্ষ্যে, তারা চীনা মাইক্রোপ্রসেসর শিল্পের জন্য রাষ্ট্রীয় সহায়তা বৃদ্ধি করছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগ

ডিজিটাল রূপান্তর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য একটি উপযুক্ত ভিত্তিভূমি তৈরি করেছে, যা ২০১০ সাল থেকে শুরু থেকে দ্রুত বিকশিত হচ্ছে। তিনটি বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সমন্বয়ের কারণে এটি সম্ভবপর হয়েছে:

১। ইন্টারনেট ব্যবহারের ফলে বিপুল পরিমাণ তথ্য অর্থাৎ বিগ ডেটা প্রক্রিয়াকরণের ক্ষমতা,

লার্নিং) দিয়ে নিজেদের প্রশিক্ষিত করার ক্ষমতা; এবং আধুনিক সুপার কম্পিউটার এবং কোয়ান্টাম কম্পিউটারের দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষমতা।

সহজ কথায়, আধুনিক যন্ত্রগুলি আরও বেশি মানবিক ক্ষমতা অর্জন করছে যেমন স্ব-প্রশিক্ষণ এবং কর্মক্ষম মানুষ, অর্থাৎ প্রাথমিক উৎপাদনশীল শক্তি, ক্রমবর্ধমান জটিল যন্ত্রগুলি পরিচালনা করছে। এই সময়ে ‘লার্নিং মেশিন’, রোবট, ডেটা সেন্টার যা বিপুল পরিমাণে তথ্য সংগ্রহ এবং প্রক্রিয়াজাত করে, তা প্রধানত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের কয়েকটি একচেটিয়া গোষ্ঠীর হাতে।

অবশ্যই, এটি প্রথমবার নয় যে কোনও প্রযুক্তিগত বিপ্লবের একাধিক প্রয়োগ রয়েছে যা কিনা কেবলমাত্র উৎপাদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং সমাজের সমগ্র পরিসরে প্রভাব ফেলে। এই প্রসঙ্গে আমাদের বাষ্পীয় ইঞ্জিন, বিদ্যুতের আবির্ভাব এবং পারমাণবিক শক্তির ব্যবহারের ফলে যে দ্রুত পরিবর্তনগুলি এসেছে তা স্মরণ করা দরকার।

তবে, এটা সত্য যে পুঁজিবাদী উৎপাদন সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশ সুপরিচিত সমস্যাগুলিকে আরও বাড়িয়ে তোলে, যেমন বেকারত্ব বৃদ্ধি। এটি নতুন, মৌলিক বিষয়গুলিও উত্থাপন করে যা নিয়ে রাজনৈতিক অর্থনীতি এবং দর্শনের স্তরে ভাবনা চিন্তা প্রয়োজন। বিশেষ করে প্রধান উৎপাদনশীল শক্তি, অর্থাৎ কর্মক্ষম সামাজিক মানুষ এবং আধুনিক যন্ত্র, অর্থাৎ উৎপাদনের উপায়ের মধ্যে সম্পর্কের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে।

চলমান বৈজ্ঞানিক বিতর্ক মেশিনগুলির দ্রুত বর্ধনশীল ক্ষমতার উপর আলোকপাত করে, যা নিজে শিখে এবং নিজে প্রশিক্ষিত হয়ে মানুষের শ্রমের একটি বড় অংশ প্রতিস্থাপন করছে। প্রাথমিকভাবে, অনুমান করা হয়েছিল যে এই প্রযুক্তি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিয়মিত ম্যানুয়াল এবং বৌদ্ধিক কাজের প্রতিস্থাপনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, যে পেশাগুলির জন। একটি আদর্শ পরিবেশে পুনরাবৃত্তিমূলক, নিয়মিত কাজের প্রয়োজন হয়।

কয়েক বছর আগে এই বিষয়ে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বুর্জোয়া বিশ্লেষণে নিশ্চিত ভাবে বলা হয়েছিল, যে পেশাগুলিতে প্রকৃত সৃজনশীলতা এবং অপ্রত্যাশিত পরিবেশে কাজ করার ক্ষমতা প্রয়োজন হয় প্রতি সেগুলি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষমতার বাইরে। তবে, দেখা গেল যে ‘লার্নিং মেশিনের’ নিউরাল নেটওয়ার্কগুলি প্রচুর পরিমাণে তথ্য বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন দক্ষতার বিকাশ ঘটাতে পারে। তারা জটিল লক্ষ্য অর্জনের ক্ষমতা অর্জন করে। তাদের এখন নতুন জ্ঞান অর্জন করার এবং তারপর এটি একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে প্রয়োগ করার ক্ষমতা রয়েছে। এমনকি চিত্রকলা এবং সিনেমার মতো শৈল্পিক সৃষ্টিতেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রবেশ করছে।

ব্রুফিসে ইনস্টিটিউশন আয়োজিত সাম্প্রতিক এক আলোচনায় এই মতামত প্রকাশ করা হয়েছে, এই সম্ভাবনা আমরা আর উড়িয়ে দিতে পারি না যে দক্ষ কর্মীরা আজ যে সমস্ত কাজ করেন তা মেশিন দ্বারা প্রতিস্থাপিত হতে পারে। অধ্যাপক জিওফ্রে হিন্টন, যিনি এআই সিস্টেম তৈরির ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, তিনি সম্প্রতি গুগল থেকে পদত্যাগ করেছেন এবং শক্তিশালী ব্যবসায়িক গোষ্ঠীগুলির দ্বারা এআই সিস্টেমের অনিয়ন্ত্রিত বিকাশ এবং এর অভাবনীয় পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। একই সময়ে, ১,০০০ জন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এর অপ্রত্যাশিত নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে একটি খোলা চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন। তারা অবশ্যই ‘টেকনোফোব’ নন, এবং তারা ‘লুডাইট’ও নন।

এটাই সত্য যে আজকের অনেক চাকরি ভবিষ্যতে অদৃশ্য হয়ে যাবে। এবং অন্য কাজগুলির প্রকৃতি বদলে যাবে। তবে, এর অর্থ এই নয় যে প্রধান উৎপাদনশীল শক্তি হিসেবে শ্রমজীবী নুষের ভূমিকা বিলুপ্ত হয়ে যাবে। মানব নস্তিষ্কে সংঘটিত বিভিন্ন স্নায়বিক প্রক্রিয়ার পাঠোদ্ধার এবং মানব জ্ঞানের জৈবিক ভিত্তি গঠনকারী স্নায়ু কোষের অগণিত প্রক্রিয়ায় সংযোগ সাধন অধ্যয়ন করার কাজ চলছে। তবে, মানব জ্ঞানের বিকাশ একটি অনেক জটিল ঘটনা। এবং এটি কোনও ব্যক্তির জ্ঞান অর্জনের দক্ষতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

মানুষের মস্তিষ্ক, চিন্তাভাবনা এবং চেতনা গঠনের একটি অঙ্গ হিসেবে, ঐতিহাসিকভাবে সামাজিক কাজ এবং সাধারণভাবে সামাজিক জীবনের প্রক্রিয়ায় বৃদ্ধি এবং বিকাশ লাভকরে। সামন্ততান্ত্রিক, পুঁজিবাদী বা সমাজতান্ত্রিক উৎপাদনের প্রভাবশালী সম্পর্কের মধ্যেই সামাজিক ক্রিয়াকলাপ পরিচালিত হয়। সেখানে মানুষ ধারণা, বিচার এবং যুক্তির সাহায্যে বাস্তবতা সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞান অর্জন করতে শেখে। বৈজ্ঞানিক জ্ঞান বিকাশের পাশাপাশি নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করে উৎপাদনের উপকরণগুলি তৈরি করা, গতিশীল করা এবং ব্যবহার করার ক্ষমতা অর্জন করে। সামাজিক মানুষ পরিকল্পনা তৈরি করতে পারে, লক্ষ্য নির্ধারণ করতে পারে, সেগুলি অর্জনের জন্য কর্মকাণ্ড সংগঠিত ও বাস্তবায়ন করতে পারে এবং তাদের কাজের চূড়ান্ত ফলাফল ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারে। তারাই উৎপাদনের প্রতিটি পদ্ধতিতে প্রধান উৎপাদনশীল শক্তি।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের মতো ব্যাপক এবং জটিলভাবে চিন্তা করে না। বর্তমানে, এটি মূলত কিছু তথ্য দ্রুত অন্যান্য তথ্যে রূপান্তরিত করে। মূলত, সুপার কম্পিউটারগুলি নির্দিষ্ট কাজ আরও দ্রুততা ও দক্ষতার সঙ্গে করতে পারে। কিন্তু তারা রাজনৈতিকভাবে চিন্তা করতে পারে না এবং সামাজিক বিষয়বস্তু সহ সাধারণ লক্ষ্য নির্ধারণ করতে পারে না, যেমন এই সামগ্রিক ব্যবস্থা এবং উৎপাদন পদ্ধতি পরিবর্তনের লক্ষ্য স্থির করা তাদের আয়ত্তের বাইরে। তারা আধিপত্যকারী উৎপাদন সম্পর্কের কাঠামোর মধ্যে সামাজিক মানুষের দ্বারা নির্ধারিত নির্দিষ্ট মানদণ্ডের উপর ভিত্তি করে পরিমাপযোগ্য, পরিমাণগত তথ্যের দ্রুত প্রক্রিয়াকরণ করতে পারে।

এই সবের অর্থ এই নয় যে আমাদের আত্মতুষ্টিতে ভুগতে হবে, বরং আসল সমস্যাটির উপর, অর্থাৎ বর্তমানে কর্তৃত্বশালী পুঁজিবাদী উৎপাদন সম্পর্কের উপর মনোনিবেশ করতে হবে।

শাসক শ্রেণি জনগণের চেতনায় আরও ক্ষয় ধরানো এবং তাকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য একটি নির্দিষ্ট উপায়ে এবং চূড়ান্ত ভাবে হস্তক্ষেপ করে। কোনও বাধা ছাড়াই তারা লক্ষ্য অর্জন করতে চায় এবং শ্রমিকদের যতটা সম্ভব তাদের ভাবনা গ্রহণ করতে রাজি করায়, যেন এগুলি তাদেরও ব্যক্তিগত অধিকার।

মার্কিন সরকার, ইইউ এবং শক্তিশালী ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর প্রধান শেয়ারহোল্ডাররা

বর্তমানে শ্রমিকদের চেতনা ক্ষয় ধরানোর উপর বিশেষ জোর দিচ্ছে যাতে শ্রমিকরা সমস্ত প্রযুক্তিগত অগ্রগতিকে বিনা সমালোচনায় ও নিঃশর্তভাবে মেনে নেয় এবং কে এর ফলে উপকৃত হবে ও কার চাহিদা পূরণ হবে তা যেন জিজ্ঞাসাও না করে।

শ্রমিকদের একটি সুস্থ মানবদেহ, যা এখন একটি নিরপেক্ষ ও জীবন্ত পরীক্ষাগার হিসাবে উপস্থাপিত হচ্ছে, তার বাণিজ্যিকীকরণ এবং তার ওপর কোনও সীমাবদ্ধতা এবং সামাজিক বিধিনিষেধ ছাড়াই হস্তক্ষেপকে একটি প্রগতিশীল বিষয় হিসেবে মেনে নিতে বলা হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, এলন মাস্ক তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিরোধিতাকারীদের *বিদ্রুপ করে বলেন যে তার প্রযুক্তিগত পরিকল্পনা অনুসারে মস্তিষ্ককে এরা ক্রমাগত উন্নত না করলে ভবিষ্যতে প্রান্তিক হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়বে।

এই কারণেই ‘আত্ম-শনাক্তকরণ’ এবং একাধিক পরিচয়ের উত্তর-আধুনিক, অযৌক্তিক ধারণাকে বহুমুখী এবং পরিকল্পিত উপায়ে প্রচার করা হচ্ছে। এই উপলব্ধি মানুষকে যেকোনও বস্তুনিষ্ঠ পরিচয় যেমন শ্রেণি বা লিঙ্গের থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। অধিকন্তু, এটি এই ভ্রান্ত ধারণাকে উৎসাহিত করে যে প্রত্যেকেই কেবল তাদের ব্যক্তিগত ইচ্ছা বা বাস্তবতা সম্পর্কে তাদের ব্যক্তিগত মতামতের ভিত্তিতে নিজেদের পরিচিতি নির্ধারণ করতে পারে এবং তাই করা উচিত, কারণ তারা ভ্রান্ত ভাবে একথা বিশ্বাস করে যে কোনও বস্তুনিষ্ট সত্য নেই, আমরা তা জানতে পারি না বা জানার চেষ্টাও উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে যে শ্রমিকরা যখন তারা শ্রমিক না মনিব, ফিলিস্তিনি না ইজরায়েলি এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে না বা উদাসীন থাকে যে, অথবা যখন তারা তাদের লিঙ্গের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষভাবে নিজেদের পরিচয় দেয়, তখন সহজেই পুঁজির ক্ষমতার হাতে খুঁটি হয়ে ওঠে।

তখন তারা এই বিষয়টিকে অবজ্ঞা করে যে তারা পুঁজিবাদী শোষণের শিকার এবং তাদের অবশ্যই শ্রেণি সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে হবে। বরং তাদের ব্যক্তিগত পছন্দ বা তাদের নানাবিধ পরিচিতির কারণে পুঁজিপতিদের একটি অংশের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশের শ্রেণি চরিত্র

আজ পুঁজি যা করতে চায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তাই করে। এটি উৎপাদন, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং সামাজিক জীবনের সকল ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। মুনাফার জন্য পুঁজিবাদী শোষণ দীর্ঘমেয়াদী এবং স্থায়ী বেকারত্বের ব্যাপক বৃদ্ধি ঘটাতে পারে, জনসংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশকে উৎপাদন থেকে বাদ দিতে পারে এবং ‘নিশ্চিত ন্যূনতম আয়ের’ উপর বেঁচে থাকার জন্য অর্থাৎ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বেঁচে থাকার জন্য তাদের বাধ্য করতে পারে।

পূর্বাভাস এবং অনুমান রাজনৈতিক উদ্দেশ্য অনুসারে পরিবর্তিত হয়। কেউ কেউ যুক্তি দেন, যেকোনও প্রযুক্তিগত বিপ্লবের মতো, এই ক্ষতি পূরণ করার জন্য অনেক নতুন পেশা তৈরি হবে (যেমন সফ্টওয়্যার এবং এআই অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপার, সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ)। ২০২১ সালে, ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল যে মানুষ এবং যন্ত্রের মধ্যে শ্রম বিভাজনের পরিবর্তনের কারণে ২০২৫ সালের মধ্যে ৯ কোটি ৭০ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং ৮ কোটি ৫০ লক্ষ কর্মসংস্থান বিলুপ্ত হবে।

ম্যাকিনসের প্রতিবেদনে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে যে ২০৩৫ থেকে ২০৭৫ সালের মধ্যে, বিশ্বব্যাপী আজকের ৫০ শতাংশ চাকরি বিলুপ্ত হয়ে যাবে, যখন জেনারেটিভ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশ্ব অর্থনীতিতে বছরে ৪ ট্রিলিয়ন ডলার যোগ করবে। প্রাইস ওয়াটারহাউস কুপার্সের মতো বেশ কয়েকটি সংস্থা এই সম্পর্কিত একই রকম রিপোর্ট প্রকাশ করেছে।

এই ক্ষেত্রের প্রধান বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থানের সূচকের ভিত্তিতে, কম্পিউটার প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি প্রথম চাকরিটি ২১তম স্থান দখল করে। অর্থাৎ নতুন প্রযুক্তির ফলে নতুন চাকরি সৃষ্টির গতির তুলনায় লোকসানের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হবে।

আগামী বছরগুলিতে এই সমস্যা আরও তীব্র হবে। ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অফ রোবোটিক্স (আইএফআর)-এর মতে, গত ৩০ বছরে ইস্পাত শিল্পে ৭৫ শতাংশেরও বেশি চাকরি ইতিমধ্যেই প্রচলিত রোবট এবং স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় এই যে আধুনিক রোবট, যা সৃজনশীল ও জ্ঞানদীপ্ত কাজে কর্মীদের প্রতিস্থাপন করতে পারে, তা আবিষ্কারের আগেই এমনটা হয়েছে।

তবে, এই পরিবর্তন কোন একমুখী রাস্তা নয়। এটি প্রযুক্তির বিকাশ, উৎপাদন সংগঠন এবং শিক্ষার অগ্রাধিকারের প্রশ্নে পুঁজিবাদ কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে তার সঙ্গে সম্পর্কিত।

একইভাবে, বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং বৈজ্ঞানিক কাজের কোনও শ্রেণিহীন বিকাশ নেই। পুঁজি আজ বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের প্রবাহ, এর ব্যবহারের উপায় এবং পদ্ধতি, অগ্রাধিকার এবং নিয়ম নিয়ন্ত্রণ করে। ব্যবসায়িক গোষ্ঠীগুলির মধ্যে এবং পেটেন্ট নিয়ে প্রতিযোগিতা বৈজ্ঞানিক গবেষণার গভীরতর সামাজিকীকরণ ঘটাতে বাধা সৃষ্টি করছে।

চ্যাট জিপিটি এআই-এর প্রয়োগ দেখে অনেকেই মুগ্ধ হয়েছিলেন। এবং ঠিকই খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তা ছড়িয়ে পড়ে ও পরিচিতি লাভ করে। একটি নিরপেক্ষ ইন্টারেক্টিভভাষার মডেল হিসেবে এটির বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়, যা আমাদের প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দিতে পারে। আমরা এর মূল সংস্করণটিকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে সোভিয়েত ইউনিয়নে কি একটি গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ছিল? এটি উত্তর দেয় যে না, ছিল না। কারণ সেখানে বহুদলীয় ব্যবস্থা, অবাধ নির্বাচন এবং বিরোধী রাজনৈতিক মতামতের প্রতি সহনশীলতা ছিল না। তবে এটাও বলা হয় যে সেখানে বিভিন্ন আদর্শগত দৃষ্টিভঙ্গি এবং মানদণ্ড থাকতে পারে।

স্পষ্টতই এই ব্যবস্থাকে প্রভাবশালী বুর্জোয়া মতাদর্শের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ উপাদান দিয়ে ‘প্রশিক্ষিত’ করা হয়েছে। কিছু স্কুল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইতিমধ্যেই তাদের পরীক্ষা এবং অ্যাসাইনমেন্টের জন্য এটিকে একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। শিক্ষাক্ষেত্রে এর ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা এবং এর নির্বিচার ব্যবহারের ফলে ব্যবহারকারীর বিশ্লেষণী ক্ষমতা হ্রাসের নেতিবাচক পরিণতি নিয়ে ইতিমধ্যেই একটি উত্তপ্ত বিতর্ক শুরু হয়েছে।

তবে, মূল উৎপাদনশীল শক্তি, অর্থাৎ শ্রমজীবী মানুষের বিকাশের পথে পুঁজিবাদ যে বাধা সৃষ্টি করে তা এই ব্যবস্থার প্রধান নেতিবাচক প্রভাব। পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ব্যবহার করে শ্রমিকদের ব্যক্তিত্ব, মানসিক এবং শারীরিক ক্ষমতার সর্বাত্মক বিকাশের ঘটানোর বদলে তাদের অধিকারের উপর পুঁজির আক্রমণের স্বার্থে একে প্রয়োগ করা হয়। একদিকে, একে শ্রমিকদের শ্রমশক্তির ব্যপকতর প্রয়োগ এবং শোষণ বৃদ্ধির জন্য ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে, স্থায়ীভাবে বেকার ও দরিদ্রদের সংখ্যা বৃদ্ধি করার জন্য এবং জনসংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশের শ্রমশক্তিকে ব্যবহারের অনুপযুক্ত করে দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হয়। এর ফলে শ্রমিক ও বেকার যারা ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা এবং নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে চিন্তিত থাকে তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষয় হয়। শ্রমিকদের অন্যান্য মানুষের থেকে বিচ্ছিন্নতা বাড়ে এবং নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতার সুত্রপাত হয়।

স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রগুলির একে অপরের সঙ্গে ও শ্রমিকদের সঙ্গে সমন্বয় সাধনের ক্ষমতা এবং জটিল কাজ সম্পাদনের ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে। একই সঙ্গে, যেমনটি আমরা ইতিমধ্যে উল্লেখ করেছি, অনেক কাজের বিষয়বস্তু এবং ক্রমাগত পুনঃপ্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা পরিবর্তিত হচ্ছে। মানুষের বৌদ্ধিক শ্রমের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে ক্রমাগত পুনঃপ্রশিক্ষণ, দলগত কাজ, নতুন অভিজ্ঞতা এবং কাজের সঙ্গে দ্রুত অভিযোজনের চাহিদা।

সমাজতন্ত্রের বার্তা

পুঁজিবাদ এবং সমাজতন্ত্রের এই সমস্যাগুলি সমাধানের পদ্ধতির মধ্যে আমূল পার্থক্যটি ভাবতে হবে। পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় বেকার এবং বীমাবিহীন থাকার ভয়ে শ্রমিকদের ব্যক্তিগত দায়িত্ব হল দ্রুত নতুন কাজের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া এবং তাদের জ্ঞান বৃদ্ধি করা। বিপরীতে, সমাজতন্ত্র শ্রমিকদের সৃজনশীল ক্ষমতা এবং তাদের উদ্যোগকে মুক্ত এবং প্রবাহিত করতে পারে, কারণ এটি তাদেরকে সামাজিক মুক্তির ঐতিহাসিক পথের সামনে নিয়ে আসে।

সমাজতন্ত্রে উৎপদিনের উদ্দেশ্য এবং শ্রমিকদের ভূমিকা পরিবর্তিত হয়। উৎপাদনের উদ্দেশ্য হল সমাজের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ করা। শ্রমিকরা মজুরি দাসত্বের জোয়াল থেকে মুক্ত হায়ে দৈনন্দিন সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। অর্থনীতির চাবিকাঠি এবং ক্ষমতার লাগাম শ্রমিক শ্রেণির হাতে চলে যায়। অগ্রগতির চালিকা শক্তি আর প্রতিযোগিতা নয়, বরং কর্মক্ষেত্রে সমষ্টিগত শক্তি।

কেবলমাত্র সমাজতন্ত্রই প্রযুক্তিগত উন্নয়নের নতুন পরিকল্পনা নিশ্চিতভাবে গ্রহণ করতে পারে এবং একে শ্রমিক শ্রেণির শোষণ ও নিয়ন্ত্রণের মাত্রা বৃদ্ধির একটি মাধ্যম (অর্থাৎ পুঁজিবাদের অধীনে এর বর্তমান কার্যকারিতা) থেকে সমস্ত সামাজিক চাহিদা পূরণের একটি মাধ্যমে রূপান্তরিত করতে পারে। জল, জ্বালানি, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, পরিবহন, শিক্ষা এবং শ্রমশক্তি: আর পণ্য থাকেনা। জমি এবং উৎপাদনের উপকরণ, কারখানা, তথ্য কেন্দ্র, বন্দর, বিমানবন্দর এবং পরিকাঠামো রাষ্ট্রীয় সামাজিক সম্পত্তি হয়ে পড়ে।

‘এটা কি করা সম্ভব?’, অনেকেই ইতিবাচক মনোভাব নিয়েই আমাদের একথা জিজ্ঞাসা করেন। প্রিয় বন্ধুরা, বিংশ শতাব্দীতে সোভিয়েত ইউনিয়নে এটা করা হয়েছিল। বৈজ্ঞানিক কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা এবং উৎপাদনের উপায়ের সামাজিকীকরণ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছিল যা পুঁজিবাদ কখনও করতে পারবে না। বেকারত্ব এবং জ্বালানি দারিদ্র্য দূর করা হয়েছিল। জনগণ উচ্চমানের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা পরিষেবাগুলি বিনামূল্যে লাভ করেছিল। মহাকাশ জয়ের মতো প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে বিরাট অগ্রগতি ঘটেছিল।

অবশ্যই, নেতিবাচক অভিজ্ঞতাও ছিল। সমাজতান্ত্রিক নির্মাণের নীতিগুলি ধীরে ধীরে পরিত্যাগ এবং অবমূল্যায়ন করা হয়েছিল, এবং বাজার সমাজতন্ত্রের নীতি জয়লাভ করেছিল যার ফলে এর উৎখাতের পথ প্রশস্ত হয়েছিল। যাইহোক, এই নেতিবাচক অভিজ্ঞতা সমাজতন্ত্রের শ্রেষ্ঠত্বকেও তুলে ধরে, যা একবিংশ শতাব্দীতে ক্রমবর্ধমান। কারণ এখন আমরা তথ্য প্রযুক্তি, ডিজিটাল প্রযুক্তি, রোবোটিক্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্বারা সমাজতান্ত্রিক নির্মাণের দুর্দান্ত নতুন সম্ভাবনাগুলি ব্যবহার করতে পারি, যা সমাজতন্ত্রকে আবাহন করবে। ১৯১৭ সালের রাশিয়ায় এবং ১৯৩০ সালের সোভিয়েত ইউনিয়নে যে সমস্ত প্রযুক্তিগত এবং বৈজ্ঞানিক সীমাবদ্ধতার কারণে কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা এবং সমাজতান্ত্রিক নির্মাণের ক্ষমতা সংকুচিত হয়েছিল তা আর নেই। এখন শ্রমের সামাজিকীকরণ এবং উৎপাদনের স্বয়ংক্রিয়করণের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। শ্রমের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির নতুন সম্ভাবনাগুলি শ্রমিকদের অবসর সময় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করতে পারে। এগুলিকে কাজে লাগিয়ে সাধারণ শিক্ষার মান বৃদ্ধি করা এবং সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণে শ্রমিকদের দৈনন্দিন সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে তাদের ব্যক্তিত্বের সর্বাঙ্গীণ বিকাশ ঘটানো সম্ভব।

শ্রমিকদের রোগ প্রতিরোধ ও পুনর্বাসন, কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা এবং পেশাগত রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসার জন্যও এই নতুন গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ ব্যবহার করা হবে।

পুঁজিবাদের বদলে সমাজতন্ত্র প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং উৎপাদনশীল শক্তির বিকাশের ফলে সৃষ্ট নতুন সমস্যাগুলি কার্যকরভাবে এবং দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে পারে। এটি শ্রমিকদের ক্রমাগত পুনঃপ্রশিক্ষণের চাহিদা পূরণ করতে পারে, নতুন ধরনের কাজ এবং নতুন তথ্যভাণ্ডার ও টিমওয়ার্কের চাহিদা অনুযায়ী নিজেদের গড়ে নিতে শ্রমিকদের সহায়তা করে। কারণ সমাজতন্ত্র নতুন সমস্যাগুলিকে সমষ্টিগত, সামাজিক দায়িত্বের বিষয় হিসাবে পরিকল্পিতভাবে মোকাবিলা করবে এবং শ্রমিকের ব্যক্তিগত বিষয় হিসাবে সেগুলিকে দেখবে না। এমন একটি সমাজ যেখানে প্রতিযোগিতার পরিবর্তে সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে উৎসাহিত করা হয় এবং তার উপর নির্ভর করা হয়, সেখানে শ্রমিকদের বেকার এবং বীমাবিহীন হওয়ার ভয় ছাড়াই পুনরায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

এর ফলে প্রধান উৎপাদনশীল শক্তি যে মেহনতী মানুষ, সে শক্তিশালী হবে। নতুন সম্ভাবনার উপর ভিত্তি করে শ্রমিকদের যে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি তা তাদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে হবে না, এবং তা তাদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে না।

একইসঙ্গে, সামগ্রিকভাবে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে সামাজিক চাহিদা পূরণের জন্য উৎপাদন জোরদার করা হবে। সামাজিক চাহিদা পুরণ এবং সমাজতান্ত্রিক নির্মাণকে রক্ষা করার লক্ষ্যে নির্দিষ্ট মাপকাঠি, অ্যালগরিদম এবং তথ্যভাণ্ডার বিশদভাবে তৈরি করার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সিস্টেম, রোবট এবং তথাকথিত স্মার্ট মেশিনগুলি ব্যবহার করা হবে। জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পণ্যগুলির পর্যাপ্ত যোগান এবং গুনমান উন্নত করার জন্য নতুন সম্ভাবনা ব্যবহার করা হবে: এছাড়া উৎপাদন পরিকল্পনা এবং নিয়ন্ত্রণের নতুন উপায় বের করা, স্বয়ংক্রিয়ভাবে যে কোনও ত্রুটির পূর্বাভাস দেওয়া এবং খুচরা যন্ত্রাংশ অর্ডার করা, মেশিন এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা পুনরায় ডিজাইন করা, প্রক্রিয়াকরণের উপকরণ উন্নত করা, শক্তির ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয় সঞ্চয়ের পূর্ণ মাত্রায় ঘটানো ইত্যাদি হবে।

ভাবুন, যে সামাজিক চাহিদাগুলির পূর্বাভাস পেতে এবং সেই অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া জানাতে আধুনিক আন্তঃবিষয়ক গবেষণা কতটা সম্ভাবনাময়। ভাবুন জাহাজ, ট্রেন এবং বিমানের নকশা তৈরি করার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কত নতুন সম্ভাবনা হাজির করছে। চিন্তা করুন যে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করে একটি সরকারী পরিবহন ব্যবস্থার কর্মক্ষমতা এবং সুরক্ষাকে কীভাবে প্রভাবিত করা যাবে। অথবা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগে এটির পরীক্ষামূলক মূল্যায়ন করার জন্য কিভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা সম্ভব।

তবে, নতুন প্রযুক্তিগত সম্ভাবনাগুলি কেবল উৎপাদনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। এগুলি কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার দক্ষতা বৃদ্ধি করতে পারে এবং যেকোনও ধরণের গোষ্ঠী মালিকানা সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করতে সাহায্য করতে পারে। ভাবার বিষয় এই যে বিপুল পরিমাণ তথ্য দ্রুত সংপ্তাহ এবং প্রক্রিয়াকরণ, বিভিন্ন ধরনের পরিকল্পনা এবং সমাধানের উপায়ের তুলনামূলক আলোচনা এবং জটিল সমস্যাগুলি সম্পর্কে দ্রুত এবং সর্বোত্তম সিদ্ধান্ত নেওয়ার কত নতুন সম্ভাবনা রয়েছে।

ডিজিটাল রূপান্তর এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মী নিয়োগ, উৎপাদনের উপকরণ এবং কাঁচামালের সর্বোত্তম বন্টন করা যায়। এর ফলে প্রধান প্রধান উৎপাদন ক্ষেত্র এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রয়োজনীয় আনুপাতিক বিকাশ নিশ্চিত করা যায়। এটি প্রাথমিক পর্যায়ে সামাজিক চাহিদা এবং সেই অনুযায়ী উৎপাদনের প্রয়োজনীয়তার পূর্বাভাস দিতে সাহায্য করতে পারে যাতে উৎপাদন এবং প্রশিক্ষণের উপযুক্ত লক্ষ্যমাত্রা নির্দিষ্ট করা যায়। সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে উৎপাদনের উপকরণ এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য এই প্রযুক্তিগত পরিবর্তন ভীষণ কার্যকরী হতে পারে।

প্রযুক্তিগত রূপান্তর গাতে জনগণের চাহিদা পূরণ করে তার দিকে নজর রেখে বিপ্লবী কর্মসূচির উপর ভিত্তি করে লড়াই চলছে। আমরা জনগণের সহায়তায় সেই মহান প্রত্যাঘাত সংগঠিত করার জন্য এগিয়ে যাচ্ছি যা শোষণের বর্বর ব্যবস্থার উৎখাতের পথ খুলে দেবে। আমরা কাজের সময় হ্রাস করার সংগ্রামের সামনের সারিতে রয়েছি এবং মজুরি ও পেনশনে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি সহ ৩৫ ঘন্টা কর্ম সপ্তাহ (৭ ঘন্টা কাজ, সপ্তাহে ৫ দিন) দাবি করছি।

আমরা ইইউ-এর উদারীকরণ নীতি যা জ্বালানি দারিদ্র্য এবং ডিজিটাল দারিদ্র্যের জন্ম দেয় তার বিরুদ্ধে সংগ্রামের পুরোভাগে রয়েছি। আমরা নিরাপদ, দ্রুত এবং সস্তা পরিবহন ব্যবস্থার জন্য সংগ্রাম করছি। আমরা প্রতিক্রিয়াশীল ইইউ কাঠামো যা সমস্ত নাগরিকের পূর্ব-প্রস্তুত ডিজিটাল প্রোফাইলিংকে অনুমোদন করে তা বাতিল করার জন্য সংগ্রামে শামিল হয়েছি। আমরা নাগরিক সুরক্ষা উন্নত করার জন্য নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের লক্ষ্যে সংগ্রাম করি। আমরা সংগ্রাম করছি একান্তভাবে সর্বসাধারণের জন্য এবং বিনামূল্যে স্বাস্থ্য এবং শিক্ষার স্বার্থে।

@freemang2001gmail-com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About

ranjan.254@gmail.com Avatar

Work Experience

Technologies

Creating