Form and Content in literary criticism

Every phenomenon or things has a certain content and is manifested in a certain form. Content is the totality of the components

সম্পাদকের কলমে

সম্পাদকের কলমে

Form and Content in literary criticism

Every phenomenon or things has a certain content and is manifested in a certain form. Content is the totality of the components

রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ (RSS) 1925 সালে বিজয়া দশমীর দিনে প্রতিষ্ঠিত হয়।।

RSS প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য জানাতে গিয়ে,, তাদের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান এবং পরিচালক “হেডগোবার” বলেন –” দলিত-শূদ্র এবং যবনদের হাত থেকে হিন্দু ধর্মকে রক্ষা করা,, RSS এর প্রধান উদেশ্য।। হিন্দু ধর্মের পুরানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে নিয়ে আসা,, RSS এর মূল লক্ষ্য।।

RSS এর দর্শন অনুযায়ী,, দলিত এবং শূদ্রদের এক ও একমাত্র কাজ হলো,, উচ্চবর্ণের হিন্দুদের সেবা করা।।

হেডগোবার সাহেবের হিন্দু দর্শন হলো– দলিত এবং শূদ্র সম্প্রদায়ের মানুষের,, শিক্ষা অর্জনের কোনো অধিকার নেই।। তারা,, জাগতিক অর্থ এবং সম্পদ উপার্জন করা হতে নিজেদের বিরত রাখবে।।

মহারাষ্ট্রের পুনা-র এক শূদ্র দম্পতি,, “সাবিত্রী বাই” আর তার স্বামী “জ্যৌতিবা ফুলে”…….এবং ,, মুসলিম মহীয়সী “ফাতিমা শেখ” ধর্মীয় বাধা বিপত্তি ঠেলে দিয়ে,, দলিত-শূদ্র এবং মুসলমানদের শিক্ষার মুলস্রোতে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা শুরু করেন, বিশেষত মহিলাদের শিক্ষা জগতে ফিরিয়ে আনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা শুরু করেন।। এই লড়াই সহজ ছিলো না।। পদে পদে বিপত্তির সম্মুখীন হতে হয়েছে,, তাদের… এর কারণে ,, পুরুষতান্ত্রিক হিন্দু এবং মুসলমান সম্প্রদায়ের বড়ো একটা অংশ,, বিপদের সম্মুখীন হয়ে পড়ে।।

দলিত-শূদ্র-মুসলমান,, এরা শিক্ষার আলো পেয়ে গেলেই,, নিজের অধিকার বুঝে নিতে

চাইবে।। এই সাম্যবাদের হাত থেকে সমাজের প্রান্তিক মানুষকে রুখে দিতে,, নিজেদের

কায়েমী স্বার্থ বজায় রাখার লক্ষ্য নিয়ে,, বেশ কিছু উচ্চবর্ণের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ একত্রিত হতে থাকেন।।

হেডগোবার তাদের মধ্যে অন্যতম একজন।। ইংরেজরা তখন গান্ধীজির আন্দোলন এবং সাধারণ ভারতবাসীর বিপুল বিরোধিতার কারনে,, ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে।।

ইংরেজরা ভারতের জনগণকে ডিভাইড করে দেওয়ার বিভিন্ন ষড়যন্ত্র চালাতে থাকে।।

উচ্চবর্ণের হিন্দু,, এবং বৃটিশদের স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্য নিয়ে,, গোরাদের প্রচ্ছন্ন মদতে গঠন করা হয়,, RSS নামক সংগঠন।।

ঠিক একই ভাবে , “মুসলিম লীগ” গঠন করা হয়েছে।। এর কারনে মুসলমানদের কিঞ্চিৎ উপকার সাধন না হলেও,, বেশ কিছু স্বার্থপর মুসলিম নেতার স্বার্থ চরিতার্থ হয়েছে।।

ধর্মের ভিত্তিতে একটা দেশের বিভাজন ঘটে গেছে।। আর,, ধর্মীয় বিভাজনের কারণে গঠিত হওয়া দেশের পরিণাম কি হতে পারে,, সেটা বর্তমান পাকিস্তানের দিকে তাকিয়ে দেখলেই,, বুঝে নিতে পারবেন।।

হেডগোবার পরিস্কারভাবে জানিয়ে দেন–   (হেডগেওয়ার)

“হিন্দুরা ইংরেজদের সঙ্গে লড়াই করে,, নিজেদের শক্তি ক্ষয় করবে না।। ইংরেজ হিন্দুদের প্রকৃত শত্রু নয়।। বরং,, শূদ্র-দলিত এবং যবন হলো হিন্দুদের আসল শত্রু।। হিন্দুরা আসল শত্রুকে চিনে নেবে,, এবং,, তাদের সঙ্গে লড়াই করে যাবে।।”

স্বাধীনতার পরেও,, RSS হিন্দুত্বের চাদরে ঢাকা দিয়ে,, পুরানো শোষণ তন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার আপ্রাণ চেষ্টা করে গেছে,, এখনো করে চলেছে।।

তাদের এই পথে ফিরে আসার সবচেয়ে বড়ো অন্তরাল হয়ে দাঁড়িয়েছে,, ভারতের সংবিধান।।

তাই তারা এদেশের সংবিধানের তোয়াক্কা

করতে চায় না।।

কারণ,, দেশের সংবিধান অনুযায়ী,, দলিত- শূদ্র-মুসলমান-খৃষ্টান,, সকলের সমান অধিকার।।

পুরুষ এবং নারীর অধিকার সমান সমান।। তাই, RSS ভারতের সংবিধান এবং গণতান্ত্রিক পদ্ধতির বিরুদ্ধে।।

RSS তাদের তথাকথিত হিন্দুত্ববাদী থিওরির কারনে,, মুসলমান অথবা খৃষ্টানদের যতোটা না ক্ষতি সাধন করেছে, তার চেয়েও অধিক বেশী ক্ষতি করেছে,,

হিন্দুদের।। বর্তমানেও করে চলেছে।।

এদের কারনেই দেশের বৃহৎ অংশের একদল যুবা বাহিনী- দাঙ্গা-হিংসা- মারামারি গালিগালাজ করাটাকে হিন্দুধর্মের জন্য গর্বিত কাজ বলে মনে করে চলেছে।। এর থেকে নিস্তার পাওয়ার উপায় কি ?? একমাত্র উপায় হলো,, RSS মুক্ত ভারত।।

যেটা সরদার বল্লভ ভাই প্যাটেল,, ঐকান্তিক ভাবে চেয়েছিলেন।।

ইদানিং সরদার প্যাটেলকে নিয়ে RSS তাদের নিজেদের ফায়দা করতে চাইছে।।

কিন্তু,, ইতিহাস অন্য কথা বলে চলেছে–সরদার প্যাটেল ছিলেন ঘোর RSS বিরোধী।। তিনি RSS কে সমূলে উৎপাটন করতে চেয়ে ছিলেন।। দিনে-রাতে,, শয়নে-জাগরণে,, RSS পন্ডিত নেহরুর ভুত দেখে থাকে।।

অথচ,, এই নেহরুর কারণেই,, RSS নামক বিষবৃক্ষ,, সে যাত্রায় রক্ষা পেয়ে গেছে।।

এর দায়,, তৎকালীন কংগ্রেস সরকার,,

অথবা,, পন্ডিত নেহরু কোনো ভাবেই

অস্বীকার করতে পারে না।। RSS এবং তাদের ছত্রছায়ায় থাকা BJP পার্টির শাষনে থাকা,, দেশের রাজ্যগুলোর দিকে তাকিয়ে দেখুন,, তারা কি অবস্থায় রয়েছে,, প্রমাণ পেয়ে যাবেন।।

দেশের বড়ো অংশের মানুষের, বিজেপি সম্বন্ধে মোহভঙ্গ হয়ে গেছে।। তারা বিকল্প পথের তলাশ করে চলেছে।।

এমতবস্থায় বেশ কিছু উগ্র,, তথাকথিত

হিন্দু দরদী সেজে থাকা মানুষ,, বিজেপি তথা RSS কে বঙ্গে পা রাখতে দেওয়ার

জায়গা দিতে চলেছে।।

প্রকৃতপক্ষে এরা হিন্দু ধর্ম এবং মানবতার চূড়ান্ত বিরোধী।। এটা এদের কার্যক্রম থেকেই প্রমাণ হয়ে যাচ্ছে।। পরিবর্তন জাগতিক,, সামাজিক এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের নিয়মাবলির অন্যতম।।

মানুষ,, বিকল্প পথের সন্ধান খুঁজে চলেছে,, যুগে যুগে।। বিকল্প খুঁজে ফেরা, দোষের কিছু নয়।।

কিন্তু,, আপনি উকুনের ভয়ে মাথা মুড়িয়ে দিতে চাইবেন কি ??

যদি সেটাই চেয়ে থাকেন,, তাহলে নিশ্চিতভাবেই বলতে হবে,, আপনি এই শতাব্দীর সবচেয়ে বোকা এবং পথভ্রষ্ট একজন মানুষ।।

আমাদের দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করতে হবে।।

RSS মুক্ত ভারতবর্ষ গঠন করতে হবে।। এদের সমূলে উপড়ে ফেলতে হবে দেশের মাটি থেকে।।

বাংলার জমিনে এদের থাকতে/ পদার্পণ করতে দেওয়া যাবে না।।

তবে, এদের দেখানো হিংস্র পথে নয়,, এদের মোকাবেলা করতে হবে,, দেশের সংবিধান মেনে।।

এদের মোকাবেলা করতে হবে,, রাজনৈতিকভাবে।। তবেই এদের শেষ করা সম্ভব হবে।।

জয় হিন্দ।।। দেশ মাতৃকার জয়।।

READ MORE ON THIS SUBJECT :

হিন্দুত্ববাদ-ফ্যাসীবাদ যোগসাযশ—-

READ MORE ON THIS SUBJECT

এম. এস. গোলওয়ালকার ছিলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ম সেবক সংঘের দ্বিতীয় সরসংঘচালক এবং তাদের মতবাদের সৃষ্টিকর্তা। মারাঠি ব্রাহ্মন এই ব্যাক্তি আমাদের নরেন্দ্র মোদির রাজনৈতিক গুরু সেটা মোদি নিজেই স্বীকার করেছে। আরএসএস-এর মূল ভাবাদর্শী যদি কাউকে বলা হয় তিনি হলেন গোলওয়ালকার। আসুন তার মতাদর্শের কয়েকটা দিক সম্পর্কে একটু জানি।

গোলওয়ালকার দৃঢ় বিশ্বাসী ছিলেন বর্ণবাদ এবং Eugenics-এ। Eugenics মানে হলো যেভাবে কুকুরের ব্রিড তৈরী হয় বাছাই করা জাতের কুকুরকে বারে বারে মিশিয়ে, সেরকমই মানুষের ক্ষেত্রে। গোলওয়ালকার মনে করতেন যে উত্তর ভারতের উচ্চবর্ণের মানুষজন শ্রেষ্ঠ জাতের মানুষ, তাদের মধ্যে বিভিন্ন গুনাবলী আছে। এবং ভারতের অন্যান্য জনগোষ্ঠির মানুষজন নিকৃষ্ট, তাই সংমিশ্রনের প্রয়োজন যাতে এই নিকৃষ্ট জনগোষ্ঠির ভেতর উত্তর ভারতের উচ্চবর্ণের গুনগুলো ঢোকে এবং তারা গুণবান হয়। এই মর্মে তিনি গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয়তে এক ভাষণ দেন যা দু বছর বাদে আরএসএস-এর মুখপত্র Organizer-এ ১৯৬১ সালে ছাপা হয়। লেখাটা কেরলের নাম্বুদিরি ব্রাহ্মনদের নিয়ে। লেখাটার অংশবিশেষ তলায় দিলাম:

“Today experiments in cross-breeding are made only on animals. But the courage to make such experiments on human beings is not shown even by the so-called modern scientist of today. If some human cross-breeding is seen today it is the result not of scientific experiments but of carnal lust. Now let us see the experiments our ancestors made in this sphere. In an effort to better the human species through cross-breeding the Namboodri Brahamanas of the North were settled in Kerala and a rule was laid down that the eldest son of a Namboodri family could marry only the daughter of Vaishya, Kashtriya or Shudra communities of Kerala. Another still more courageous rule was that the first off-spring of a married woman of any class must be fathered by a Namboodri Brahman and then she could beget children by her husband. Today this experiment will be called adultery but it was not so, as it was limited to the first child.” (M. S. Golwalkar cited in Organizer, January 2, 1961, p. 5.)

বাংলায় অনুবাদ করলে বক্তব্যটা দাঁড়ায়:

“সঙ্কর প্রজনন পদ্ধতির মাধ্যমে জাতের উন্নতি জন্তু জানোয়ারের মধ্যে হলেও মানুষের মধ্যে করার সাহস বিজ্ঞানীরা দেখায় না, যদিও তাতে প্রভূত লাভ হতে পারে মনুষ্য প্রজাতির। আমাদের দেশে পূর্বপুরুষরা কিন্তু দেখিয়েছিলো সঙ্কর প্রজনন পদ্ধতির মাধ্যমে সমস্ত জাতির উন্নতি করার সাহস। তারা উত্তর ভারত থেকে কূলশ্রেষ্ঠ, বর্ণ শ্রেষ্ঠ নাম্বুদিরি ব্রাহ্মনদের কেরল প্রদেশে পাঠিয়েছিলো সেখানকার নিকৃষ্ট জনজাতির সাথে প্রজননের মাধ্যমে তাদের সুদ্ধিকরণ করতে। তারা কেরলে নিয়ম চালু করেছিলো যে নাম্বুদিরি ব্রাহ্মন পরিবারের প্রথম সন্তান সবসময়তে নিম্নবর্ণের মেয়ের সাথে বিবাহ করবে এবং সন্তানের জন্ম দেবে। এইসব সন্তানেরা নাম্বুদিরি বামুনদের গুনাবলী তাদের পিতার থেকে পাবে। শুধু তাই নয় আরো সাহসী নিয়মও ছিলো যে কেরলের যে কোনো জাতের যে কোনো বিবাহিত মহিলার প্রথম সন্তান নাম্বুদিরি ব্রাহ্মনজাত হতে হবে। তার বিবাহ অন্য যার সাথেই হোক, সেই মহিলার প্রথম সন্তানটি যেনো নাম্বুদিরি বামুনদের ঔরসজাত হয়। এই প্রথাকে বহুগামিতা মনে করা হতো না।” (এম. এস. গোলওয়ালকার, Organizer, জানুয়ারী ২, ১৯৬১, পৃষ্ঠা-৫)

শুনুন একবার মহান গোলওয়ালকারের বাণী! বলছেন যে কেরলের নিম্নবর্ণের মানুষজন নিকৃষ্ট প্রজাতির মানুষ, তাদের মধ্যে উচ্চবর্ণের গুন ঢোকানোর জন্যে তাদের মহিলাদেরকে সম্ভোগ করাতে হবে নাম্বুদিরি ব্রাহ্মনদের সাথে, সেই মহিলারা অন্য কারোর স্ত্রী হলেও!! নাম্বুদিরি ব্রাহ্মনদের ঔরসে সেই মহিলাদের গর্ভে “গুন সম্পন্ন” সন্তান হবে। কেরলের নাম্বুদিরি ব্রাহ্মনদের চূড়ান্ত শোষনের কথা আজ দক্ষিনাত্বে সর্বজনবিদিত। নিম্নবর্ণের মহিলারা আবক্ষ উন্মুক্ত করে রাখতে বাধ্য হতেন নাম্বুদিরিদের সামনে, সেরকমই নিয়ম কানুন ছিলো। কেরলের বামপন্থী আন্দোলনের কান্ডারী ই.এম.এস নাম্বুদিরিপাদ, যিনি নিজে নাম্বুদিরি ব্রাহ্মন পরিবারে জন্মেছিলেন, দীর্ঘকালীন সংগ্রাম চালিয়ে নাম্বুদিরি ব্রাহ্মনদের সেই শোষণকে শেষ করেন। আর গোলওয়ালকার বলছেন যে কোনো নিম্নবর্ণ নারীদের শরীরের ওপর প্রথম অধিকার নাম্বুদিরি ব্রাহ্মনদের।

বাংলাদেশে খান সেনা যে ধর্ষণের মহাযজ্ঞের আয়োজন করেছিলো, তারও উদ্দেশ্য ছিলো অনেকটা একরকম। তারা মনে করতো পশ্চিম পাকিস্তানের মুসলমানদের ঔরসে নিম্নশ্রেনীর বাঙালি মুসলমান ও হিন্দুদের গর্ভে সহি মুসলমান জন্মাবে। গোলওয়ালকারের মানসিকতার সাথে খান সেনার পার্থক্য কোথায়?

গোলওয়ালকারের ছানাপোনারা আজকাল খুব দলিত প্রেম দেখায়। যেন নিম্নবর্ণের কথা এরা কতভাবে। এসব টুপি পরালে এরপর এদেরকে চ্যালেঞ্জ করবেন যে আগে নিন্দা করুক গোলওয়ালকারের এই সাংঘাতিক নিচু মানসিকতার। পারবে করতে?

নিচে Organizer পত্রিকার উক্ত পৃষ্ঠাটির ছবি দিলাম।

সৌজন্যে Purandar Bhat

এই বিষয়ে আরো পড়ুন :

  কে এই শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী ?

ভারতে সম্প্রদায়িকতার একজন জনক শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর জন্মদিন। শ্যামাপ্রসাদের সেই ভুমিকার একটি ঝলক। দেখুন কে এই শ্যামাপ্রসাদ?

তেতাল্লিশ সালের ইতিহাস কুখ্যাত মন্বন্তর সৃষ্টির পিছনে অন্যতম প্রধান ষড়যন্ত্রী ছিলেন শ্যামাপ্রসাদ। দুর্ভিক্ষের করালগ্রাসে আক্রান্ত বাংলার মধ্যবিত্ত শ্রেনীর কাছে নিজেকে নেতা হিসেবে তুলে ধরলেন শ্যামাপ্রসাদ। তেতাল্লিশ সালের জুলাই মাসে ‘বাংলা প্রাদেশিক হিন্দু মহাসভা ত্রাণ সমিতি’ এবং ‘বাংলা ত্রাণ সমিতি’ নামে দুটি চরম হিন্দু সাম্প্রদায়িক সংগঠন তৈরি করেন শ্যামাপ্রসাদ।

বাংলা প্রাদেশিক হিন্দু মহাসভার সমিতি ছিল, একটি প্রকাশ্যে সাম্প্রদায়িক সংগঠন। এই সংগঠনের লক্ষ্য ছিল উঁচুজাত অর্থাৎ সম্মানীয় হিন্দুদের অবলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করা। আর বাংলা ত্রাণ সমিতি ছিল তুলনামূলকভাবে কিছুটা উদারনৈতিক সাম্প্রদায়িক সংগঠন ((Misery in modern Bengal : The famine of 943– 1944 — paul R. Greenough, p 106) । এই সময়ে ন্যাশালিষ্ট নামে একটি সংবাদপত্রও শ্যামাপ্রসাদ প্রকাশ করেন। বাংলায় মুসলিম লীগের বিরোধিতা করে সাম্প্রদায়িকতার পারদটি ঊর্ধ্বমুখী করাই ছিল এই সংবাদপত্রের একমাত্র লক্ষ্য। এই প্রসঙ্গে শ্যামাপ্রসাদ চরম সুবিধাবাদী দৃষ্টিভঙ্গির জন্য,তার যুদ্ধ প্রসঙ্গে ব্রিটিশদের সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি সম্পর্কেও ব্রিটিশ গোয়েন্দা দে মধ্যে যথেষ্ট পরিমাণে সন্দেহ ছিল।

তেতাল্লিশ সাল থেকে হিন্দু মহাসভার বিরোধ ক্রমেই প্রকাশ্যে চলে আসছিল। তথাকথিত সামরিক শৃংখলার তত্ত্বে বিশ্বাসী আর এএস এএস যারা কিনা হিন্দু মহাসভার মূল চালিকা শক্তি ছিল, তারা এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের বহিঃপ্রকাশটিকে আদৌ ভালো চোখে দেখেনি। নীতিনির্ধারণের প্রশ্নে হিন্দু মহাসভার জাতীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আঞ্চলিক প্রশাসকদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিচ্ছিল। আঞ্চলিক স্তরে হলেও প্রশাসনের সঙ্গে এই মতবিরোধকে আরএসএস আদৌ ভালো চোখে দেখেনি। গান্ধীজীর সঙ্গে জিন্নার বৈঠকের পরিপ্রেক্ষিতে হিন্দু মহাসভা কোন অবস্থান গ্রহণ করবে এই প্রশ্নে মতবিরোধ প্রকাশ্যে এসে পড়ে। এই মতবিরোধ থেকে একটা বিষয় পরিষ্কার হয়ে যায় যে রাজনৈতিক দল হিসেবে হিন্দু মহাসভার গুরুত্ব শ্যামাপ্রসাদ এর আমলে বব্রিটিশের কাছে অনেকটাই অকিঞ্চিৎকর প্রতিভাত হয়। হিন্দু মহাসভার নেতাদের মধ্যে একই সঙ্গে গভীর হতাশা এবং ক্ষোভ প্রবল হয়ে ওঠে। হিন্দু মহাসভার নেতাদের মধ্যে সেসময়ের একটা বাস্তব চিত্র উঠে আসে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শক্তি তাদের প্রয়োগের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সুদক্ষ ভাবেই ব্যবহার করতো আরএসএস, হিন্দু মহাসভা, মুসলিম লীগের মতো সাম্প্রদায়িক সংগঠনগুলিকে। এবং এই সংগঠনগুলি অত্যন্ত সচেতনভাবে গোটা দেশে একটা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টির লক্ষ্যে সম্পূর্ণ সচেতনভাবেই সাম্রাজ্যবাদী শক্তির দ্বারা ব্যবহৃত এবং পরিচালিত হতো।

গান্ধীজীর সঙ্গে জিন্নাহ সাহেবের বৈঠকের ব্যর্থতার পর সেক্রেটারি অফ স্টেট এর কাছে লেখা লর্ড ওয়াভেল এর একটি চিঠি থেকে এই বিষয়টি দিনের আলোর মত পরিষ্কার হয়ে যায় সংশ্লিষ্ট চিঠিতে আশা প্রকাশ করে ওয়াভেল লেখেন জিন্না-গান্ধী বৈঠকের ব্যর্থতার ফলে হিন্দু মহাসভার সমর্থকরা যথেষ্টই উৎসাহিত বোধ করবে । এবং তাদের এই উৎসাহ একটা বিভেদ সৃষ্টির কাজ করবে। লিখেছেন আমি মনে করি বৈঠকের এই ব্যর্থতা হিন্দু মহাসভা বহুসংখ্যক কংগ্রেসীদের কাছে যথেষ্ট স্বস্তির কারণ হবে। ব্রিটিশ শাসকদের প্রাদেশিক কর্তারা অবশ্য ওয়াভেলের মূল্যায়নের সঙ্গে আদৌ সহমত পোষণ করেননি। সিন্ধুর গভর্নর সহমত পোষণ না করে জানান গান্ধী-জিন্না বৈঠকের ব্যর্থতা হিন্দুত্ববাদীদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করবে। এই মূল্যায়নের সঙ্গে আমি আদৌ সহমত নই। আমার মূল্যায়ন হল কট্টর হিন্দু মহাসভা পন্থীরা এটাই ভাবছি যে গান্ধী ও এইবার হিন্দুমহাসভাপন্থীদের মতই অদম্য হয়ে উঠবেন। তবে জিন্নার সঙ্গে বৈঠকে বসবার ইচ্ছে গান্ধির একেবারেই চলে যায়নি। এটাও হিন্দু মহাসভাপন্থীদের মুল্যায়ন। কট্টর এবং মধ্যপন্থী হিন্দুত্ববাদীদের মধ্যে সংযোগস্থাপন প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে সংবাদপত্রের ভুমিকার কথা বলতে গিয়ে সিন্ধুর গর্ভনর লিখেছেন এই আলাপচারিতার অব্যবহিত পরেই দেশজুড়ে গান্ধীর জন্মদিন পালিত হয় এবং প্রত্যেকটি সংবাদপত্র অত্যান্ত অবিবেচকের মতো অভিনন্দন এর বন্যা বইয়ে দেয়। এই সমস্ত কাজই এবং মধ্যবর্তী হিন্দুত্ববাদীদের মধ্যে যোগসূত্র তৈরি করে দেয় সিন্ধুর গভর্নর ৪৪ সালের ৬ই অক্টোবর এই চিঠি লিখেছিলেন এহেন পরিস্থিতিতে আরএসএস অত্যান্ত কৌশল করে ধীরে ধীরে নিজেদের সংগঠনকে শক্তিশালী করে তুলেছিল তাদের সাংগঠিক স্তরবিন্যাস গুলো এই সময়কালে আরো বিস্তৃত হচ্ছিল এবং চরম প্রতিক্রিয়াশীল দর্শন সমাজের গভীরে প্রোথিত করার ষড়যন্ত্র আরো গভীর হচ্ছিল। কংগ্রেসের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা এবং বামপন্থীদের ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে ওঠায় বিশেষভাবে আতংকিত করে তুলছিল হিন্দুত্ববাদী শক্তি আর এস এস কে। তাই তারা তাদের সংগঠন কে আরো মজবুত করার লক্ষ্যে অনেক বেশি মনোনিবেশ করেছিল হিন্দু মহাসভার ক্ষেত্রে সাভারকারপন্থী এবং শ্যামাপ্রসাদ পন্থীদের যে গোষ্ঠী লড়াই দেখা দিয়েছিল আর এস এস এর মধ্যে গোলওয়ালকর সরসঙ্ঘ চালক হওয়ার পর, তার পূর্বসূরি লোকেদের সঙ্গে সেই ধরনের কোনো বিরোধ ঘটেনি বলা যেতে পারে। ফলে আরএসএস তাদের সাংগঠনিক বিস্তারের ক্ষেত্রে বেশি মনোনিবেশ করতে পেরেছিল। আর ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের সাহায্য-সহযোগিতা তো ছিলই তাদের সঙ্গে পুরো মাত্রায়।

লেখা- সেখ ইসরাইল  ( চলবে)

সৌজন্যে ঃ সেখ ইজরাইল

সুত্র- মাননীয় গৌতম রায়ের ” আর এস এস ও বর্তমান ভারত থেকে।

@freemang2001gmail-com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About

ranjan.254@gmail.com Avatar

Work Experience

Technologies

Creating