
ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ শব্দটির বিস্তৃত অর্থ রয়েছে। তবে ধর্মনিরপেক্ষবাদ বলতে সাধারণত রাষ্ট্র আর ধর্মকে পৃথকরূপে প্রকাশ করাকে বোঝায়। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রকে ধর্ম বা ধর্মীয় রীতিনীতির বাইরে থেকে পরিচালনা করাকে বোঝানো হয়। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রের আইন কোন নির্দিষ্ট ধর্মের উপর নির্ভরশীল থাকেনা। এছাড়া ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে ধর্মীয় স্বাধীনতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। রাষ্ট্র কোনো ধর্মকেই পক্ষপাত করে না। এই মতবাদ অনুযায়ী, সরকার কোনরূপ ধর্মীয় হস্তক্ষেপ করবে না, কোন ধর্মীয় বিশ্বাসে বিশ্বাসী হবে না এবং কোন ধর্মকে কোন প্রকার অতিরিক্ত সুবিধা প্রদান করবে না। কাউকে ধর্ম পালনে বাধ্য করা হবে না। সকল ধর্মের মানুষ সমান অধিকার ভোগ করবে।
ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো, তথ্য এবং প্রমাণের উপর নির্ভর করবে, কোনো ধর্মীয় বিশ্বাসের উপর নয়। অর্থাৎ বলা যায়, “ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার”।
রাজনৈতিক ব্যবহারের দিক থেকে বলা হয়, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ হলো ধর্ম এবং রাষ্ট্রকে পৃথক করার আন্দোলন, যাতে ধর্মভিত্তিক আইনের বদলে সাধারণ আইনজারি এবং সকল প্রকার ধর্মীয় ভেদাভেদ মুক্ত সমাজ গড়ার আহ্বান জানানো হয়।
সংক্ষিপ্ত বিবরণ
জর্জ জ্যাকব ইলিয়ক
“ধর্মনিরপেক্ষতা বা সেকুলারিজম” শব্দটি ১৮৫১ সালে ব্রিটিশ লেখক জর্জ জ্যাকব ইলিয়ক (১৮১৭-১৯০৪) প্রথম ব্যবহার করেন। জর্জ জ্যাকব ধর্মের কোনো রকম সমালোচনা ছাড়া, সমাজে শৃঙ্খলা আনয়নের জন্য তার এই ধর্মনিরপেক্ষতার ধারণা প্রকাশ করেন। তিনি এই মতবাদকে আরো বিস্তৃত করেন এবং বলেন যে “ধর্মনিরপেক্ষতা খ্রীষ্টধর্মের বিরুদ্ধের কেনো মতবাদ নয়। এটি একটি স্বাধীন সত্ত্বা। ধর্মের অস্তিত্ব নিয়ে এটি কোনো প্রশ্ন তোলে না, কিন্তু অন্যদের ধর্মনিরপেক্ষ হতে উৎসাহিত করে।”
বেরি কসমিন যিনি ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে আরো গবেষণা করেন তিনি এটিকে দুইটি অংশে বিভক্ত করেন, (১) কঠোর ধর্মনিরপেক্ষতা, (২) নমনীয় ধর্মনিরপেক্ষতা।
ধর্মনিরপেক্ষ নীতিশাস্ত্র
জর্জ জ্যাকব ১৮৯৬ সালে তার ধর্মনিরপেক্ষতা সম্পর্কিত এক প্রকাশনার ধর্মনিরপেক্ষতাকে নিম্নলিখিতভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন: ধর্মনিরপেক্ষতার জীবন, বিশুদ্ধরূপে মানুষের বিবেচনার উপর প্রতিষ্ঠিত, যারা ধর্মের অনির্দিষ্ট বা অপর্যাপ্ত, অবিশ্বস্থ বা অবিশ্বাস্য ধর্মতত্ত্বকে বিশ্লেষণ করেতে ইচ্ছুক তাদের জন্যই এই মতবাদের উৎপত্তি। এর তিনটি মূল ভিত্তি বিদ্যমান, যথাঃ- (১) উন্নয়ন: জীবনকে নৈতিক গুণাবলীর ভিত্তিতে গড়ে তোলা। (২) বিজ্ঞান মানুষের উপলব্ধ। (৩) যে কাজ ভালো তাকে ভালো ভাবে মূল্যায়ন করতে হবে এবং পাথির্ব জীবনের সার্বিক কল্যাণকেই বেশি প্রাধান্য দিতে হবে।
প্রতিষ্ঠানসমূহ
তুরস্কে, সবচেয়ে বিখ্যাত ক্রিয়াশীল ধর্মনিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান হচ্ছে “আতাতুর্ক চিন্তা এসোসিয়েশন” (ADD), যেটি প্রজাতান্ত্রিক প্রতিবাদের জন্য অবদান রাখে এবং তুরস্কের চারটি বৃহৎ শহরে ২০০৭ সালে সমাবেশ করে। সেই সমাবেশে প্রায় বিশ লক্ষ মানুষ, যাদের অধিকাংশ নারী, মোস্তফা কামাল আতাতুর্কের ধর্মনিরপেক্ষতা নীতিসমূহকে রক্ষা করার আবেদন জানায়।
১৮৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘লেইসেস্টার ধর্মনিরপেক্ষ সমাজ’ সবচেয়ে পুরনো ধর্মনিরপেক্ষ সমাজ।
গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধ হলো এমন একটি আদর্শ, যেখানে রাষ্ট্র বা সমাজ কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের প্রতি পক্ষপাতিত্ব না করে সব ধর্ম, বর্ণ ও মতাদর্শের মানুষের সমান অধিকার, স্বাধীনতা এবং পারস্পরিক সহাবস্থান নিশ্চিত করে।মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ:সব ধর্মের সমান মর্যাদা: রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনো ধর্মকে বিশেষ প্রাধান্য দেওয়া হয় না।নাগরিক অধিকার: ধর্ম, লিঙ্গ বা জাতির ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য ছাড়াই প্রতিটি নাগরিকের সমান সুযোগ ও বাক্স্বাধীনতা থাকে।সহনশীলতা ও বহুত্ববাদ: বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, শান্তি ও পরমতসহিষ্ণুতা বজায় রাখা।মানসিক ও শৈল্পিক উপস্থাপনা (ছবিতে যা ফুটে ওঠে):বাস্তব বা রূপক অর্থে এই মূল্যবোধের চিত্রায়নে সাধারণত নিচের দৃশ্যগুলো ব্যবহার করা হয়: বিভিন্ন ধর্মের প্রতীক (যেমন—মসজিদের মিনার, মন্দিরের চূড়া, গির্জার ক্রুশ বা প্যাগোডা) পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকা। ভিন্ন ভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের একসাথে কোনো উৎসবে বা জাতীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ।হাত মেলানো বা আলিঙ্গনরত মানুষের ছবি, যা ধর্মীয় বা জাতিগত ভেদাভেদ ভুলে মানবতার জয়গান গায়। এই ধরনের অনুপ্রেরণামূলক ও চিত্রভিত্তিক ধারণার জন্য উইকিপিডিয়া ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ পৃষ্ঠায় গিয়ে আপনি এর পটভূমি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন। ছবি বা চিত্রকর্মের জন্য গুগল ইমেজ (Google Images) বা পিন্টারেস্টের (Pinterest) মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতে “Secularism and Democracy Art” লিখে সার্চ করলে অসংখ্য শৈল্পিক ছবি পাওয়া সম্ভব।
যন্তর-মন্তর থেকে গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষ দেশের এক সুন্দর ছবি!❤️🇮🇳

যন্তর-মন্তর থেকে গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষ দেশের এক সুন্দর ছবি!❤️🇮🇳
https://www.facebook.com/SabujShakti24/posts/%E0%A6%AF%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%B0-%E0%A6%AE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%B0-%E0%A6%A5%E0%A7%87%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%97%E0%A6%A3%E0%A6%A4%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0-%E0%A6%93-%E0%A6%A7%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A6%AA%E0%A7%87%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7-%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%8F%E0%A6%95-%E0%A6%B8%E0%A7%81%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A6%B0-%E0%A6%9B%E0%A6%AC%E0%A6%BF%EF%B8%8F%E0%A6%98%E0%A7%83%E0%A6%A3%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%8F%E0%A6%87-%E0%A6%AF%E0%A7%81%E0%A6%97%E0%A7%87-%E0%A6%AF%E0%A7%87%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%A8/1365012325764944/
ঘৃণার এই যুগে, যেখানে মানুষকে ধর্ম ও পরিচয়ের নামে বিভক্ত হতে দেখা যায়, সেখানে একজন সাধুবাবা নামাজরত একজন মুসলিম প্রবীণ ব্যক্তিকে পাখা দিয়ে বাতাস করছেন। যাতে উনি এই তীব্র গরমে একটু আরামে এবাদত (প্রার্থনা) করতে পারেন….।
এই দৃশ্যটি সমাজকে ঘৃণার বিরুদ্ধে ভালোবাসা এবং ঐক্যের এক গভীর বার্তা দেয়।
অসম প্রাথমিক শিক্ষক সম্মীলনীর হাইলাকান্দি জেলা কমিটির ৪৪ তম দ্বিবার্ষিক সভায় সংবর্ধিত হাইলাকান্দি ডিআই অফিসের অবসরপ্রাপ্ত বড়বাবু আলহাজ খয়রুল ইসলাম বড়ভূইয়া
বিজেপিতে যোগের পরই বড় দায়িত্ব, রাজ্যসভার উপনির্বাচনে প্রার্থী সুস্মিতা দেব
https://www.facebook.com/SabujShakti24/posts/%E0%A6%AF%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%B0-%E0%A6%AE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%B0-%E0%A6%A5%E0%A7%87%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%97%E0%A6%A3%E0%A6%A4%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0-%E0%A6%93-%E0%A6%A7%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A6%AA%E0%A7%87%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7-%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%8F%E0%A6%95-%E0%A6%B8%E0%A7%81%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A6%B0-%E0%A6%9B%E0%A6%AC%E0%A6%BF%EF%B8%8F%E0%A6%98%E0%A7%83%E0%A6%A3%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%8F%E0%A6%87-%E0%A6%AF%E0%A7%81%E0%A6%97%E0%A7%87-%E0%A6%AF%E0%A7%87%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%A8/1365012325764944/
গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধ করা জরুরী কর্তব্য। সংবিধান সংহতি সম্প্রীতি বিভিন্ন দিক থেকে আক্রমণের মুখে হাজির হয়েছে। ধর্মীয় বিদ্বেষ এক ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। জীবন জীবিকার সমস্যা আড়াল করা একটা কৌশল। কৃষি কৃষক প্রান্তিক মানুষ শ্রমজীবী মানুষ ওদের নজরে শোষণের ক্ষেত্র শুধু। মানুষের মনোজগতে এক দিকে আতঙ্ক আরেকদিকে বিদ্বেষ বৃদ্ধির প্রবণতা লক্ষণীয়। মানুষকে বিভিন্ন কৌশলে বিভাজনের দ্বারা ওরা শক্তি অর্জন করে।দেশ জুড়ে জনসমর্থন সংগ্রহ করে, স্বৈরতন্ত্র কাঁধে উঠে বসেছে। ফ্যাসিস্টদের হাতে , কর্পোরেট স্বার্থে, নয়া ফ্যাসিবাদী কৌশলে জনজীবনে আক্রমণ প্রতিদিন তীব্র হচ্ছে। পরিকল্পিত পথে , ধর্মও একেবারে অধার্মিক মৌলবাদীদের হাতে অপব্যবহারিত হচ্ছে। হাত বাড়াচ্ছে সামাজিক ক্ষেত্রেও, সমাজের কিছু কিছু কোনে কোথাও কোথাও গণভিত্তি তৈরি করে নিয়েছে। অন্যান্য মৌলবাদীদের অনুগৃহিত করছে, প্ররোচিত করছে,উদ্বুদ্ধ করছে। ভাবাদর্শগত রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে ওদের আক্রমণাত্মক করে তোলার ছক সমাজ জীবনে ছায়া ফেলেছে। রাষ্ট্রশক্তি ফু দিয়ে দিয়ে আগুনের দহন শক্তি তেজোদীপ্ত করছে।
চারধারে অসংখ্য ষড়যন্ত্রের জাল বিছানো চলছেই। সাবধান। ফাঁদে পড়ে গেলে সর্বনাশ রোখা সহজ হবার কথা নয়।বিভ্রান্ত হওয়া যাবে না। আমাদের বোধ,আমাদের উপলব্ধি আমাদের পরিচালিত করুক। বাস্তবতা। চেতনা। এবং……।
ধর্মনিরপেক্ষতা ও ভারত (১ম পর্ব)–রোমিলা থাপার


ধর্মনিরপেক্ষতা ও ভারত (১ম পর্ব)–রোমিলা থাপার
https://cpimwestbengal.org/article/india-and-secularism-part-i/25696
ধর্ম তার বিশ্বাস আর দেবতার কাছ থেকেই কেবল তার সব কাজের মান্যতা পায়, যোগ্যতা অর্জন করে। উভয়ের কর্তৃত্ব অর্জনের ক্ষেত্র স্পষ্টতই আলাদা।



Preamble to the Indian Constitution :
WE, THE PEOPLE OF INDIA, having solemnly resolved to constitute India into a SOVEREIGN SOCIALIST SECULAR DEMOCRATIC REPUBLIC and to secure to all its citizens:
JUSTICE, social, economic and political;
LIBERTY of thought, expression, belief, faith and worship;
EQUALITY of status and of opportunity;
and to promote among them all
FRATERNITY assuring the dignity of the individual and the unity and integrity of the Nation;
IN OUR CONSTITUENT ASSEMBLY this twenty-sixth day of November, 1949, do HEREBY ADOPT, ENACT AND GIVE TO OURSELVES THIS CONSTITUTION.
@Collected from multiple sources.
@freemang2001gmail-com



