
(Students Health Home, a non-profit cooperative healthcare organization in West Bengal, India.)
১. স্টুডেন্টস হেলথ হোম কী?
স্টুডেন্টস হেলথ হোম বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সংজ্ঞায়িত সুস্বাস্থ্যের লক্ষ্যে নিরলস কাজ করে চলা একটি স্বাবলম্বী ছাত্র স্বাস্থ্য আন্দোলন। এটি সরকারি প্রতিষ্ঠান নয়, নয় কোনো তথাকথিত এন জি ও অথবা স্বাস্থ্য বীমা।
২. স্টুডেন্টস হেলথ হোম কি কোনো রাজনৈতিক সংগঠন?
স্টুডেন্টস হেলথ হোম ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম উপজাত এবং বিশুদ্ধ রাজনীতির সেরা মানুষদের অংশগ্রহণ ও অবদানে সমৃদ্ধ।
৩. স্টুডেন্টস হেলথ হোমের খরচ চলে কী করে?
মূল আয় ছাত্রছাত্রীদের সর্বজনীন সদস্যপদ চাঁদা (বর্তমানে মাথাপিছু ১০ টাকা প্রতি বছর)। এছাড়া বহু শুভাকাঙ্খী মানুষের অনুদান এবং ব্রাদারহুড সংগ্রহ হয়। সরকারি অনুদান ১৯৬২ সাল থেকে চালু হলেও ২০১২ সালের পরে তা নামমাত্রই। ২০২২ থেকে চালু হওয়া ন্যায্য মূল্যে সাধারণ মানুষের চিকিৎসায় উপার্জন হলে কিছুটা সুরাহা হতে পারে। তবে এখানে অসংখ্য চিকিৎসক বিনা পারিশ্রমিকে ছাত্রছাত্রীদের স্বাস্থ্য পরিসেবা দেন। অগণিত শিক্ষক শিক্ষিকা, সমাজকর্মী স্বেচ্ছাশ্রম দেন। ফলে মানবসম্পদের জন্য ব্যয় সীমিত।
৪. স্টুডেন্টস হেলথ হোমে ছাত্রছাত্রীদের চিকিৎসার খরচ কত?
OPD তে প্রতিদিনের জন্য ওষুধ খরচ ৫ টাকা, ভর্তি হলে ১০টাকা, সে যত বেশি ও দামই হোক না কেন। ভর্তি হলে বেড চার্জ ৩০ টাকা। একইভাবে নিজ কেন্দ্রে হওয়া পরীক্ষা নিরীক্ষার খরচও আনুপাতিক, বাইরের পরীক্ষার ৫০ শতাংশ হোম বহন করে। তবে, হেলথ হোমে বিনামূল্যে কিছু হয় না। এটা দাতব্য চিকিৎসা কেন্দ্র নয়, সদস্য ছাত্রছাত্রীদের শাশ্বত অধিকার।
৫. স্টুডেন্টস হেলথ হোমের সদস্যপদ কীভাবে পাওয়া যায়?
সর্বজনীন সদস্যপদ প্রতিষ্ঠানভিত্তিক। সরকার অনুমোদিত স্কুল, কলেজ অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালন সমিতি বা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ সদস্যপদ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। সেই সিদ্ধান্তের অনুলিপি সহ তারা স্টুডেন্টস হেলথ হোমের আঞ্চলিক বা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে একটি নির্দিষ্ট আবেদনপত্র পাবেন। যথাযথভাবে পূরণ করা এবং প্রতিষ্ঠানের প্রধানের স্বাক্ষর সম্বলিত সেই আবেদনপত্র এবং ছাত্রছাত্রী সংখ্যা পিছু ১০ টাকা চাঁদা একসাথে চেকে বা অনলাইনে জমা করতে হবে। চেক হবে STUDENTS HEALTH HOME নামে। স্টুডেন্টস হেলথ হোমের সম্পাদকমন্ডলীর সভায় সেই আবেদন গৃহীত হলে পরবর্তী কার্যকরী সমিতির সভায় তা পেশ করা হয়। তার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।
৬. অসদস্যরা কি চিকিৎসা পরিসেবা পায়?
হ্যাঁ, তবে ন্যায্যমূল্যের বিনিময়ে। আউটডোরে রোগী পিছু হেলথ হোম একমাসের জন্য রেজিস্ট্রেশন চার্জ নেয় ৫০ টাকা। কমবেশি ৫০ জন বিভিন্ন বিষয়ের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রোগী দেখেন মৌলালিস্থিত মূলকেন্দ্রে। ইনডোরে রোগী ভর্তি হলে সাধারণ বেডের জন্য লাগে প্রতিদিন ৮৫০ টাকা, এসি বেড ভাড়া ১৬০০ টাকা, এসি কেবিন ভাড়া ২৬০০ টাকা, আই সি ইউ বেড ভাড়া ৪৬০০ টাকা এবং অক্সিজেন খরচ ঘণ্টা পিছু ১০০ টাকা মাত্র। আধুনিক অপারেশন থিয়েটারে প্রায় সবরকমের অপারেশন হয়। রয়েছে আই সি ইউ ও আধুনিক পরীক্ষা নিরীক্ষার ব্যবস্থা। এখানে কোনো মুনাফাকামী মালিকানা নেই, তাই নেই লোভের কারচুপি। এককথায় ‘সাধ্যের মধ্যে সাধ্যাতীত চিকিৎসা’।
৭. স্টুডেন্টস হেলথ হোমের লক্ষ্য কী?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সংজ্ঞায়িত সুস্বাস্থ্য অর্জন।
৮. কোথায় কোথায় স্টুডেন্টস হেলথ হোমের আঞ্চলিক কেন্দ্র রয়েছে?
কোচবিহার, শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, মালদা, কলিয়াগঞ্জ, রায়গঞ্জ, গঙ্গারামপুর, বহরমপুর, জঙ্গিপুর, কান্দি, জিয়াগঞ্জ, ডোমকল, কৃষ্ণনগর, নবদ্বীপ, কাটোয়া, বর্ধমান, রামপুরহাট, পুরুলিয়া, রানীগঞ্জ, ঝাড়গ্রাম, মেদিনীপুর, উত্তর হুগলী, বালি, আমতা, চন্দননগর, কলকাতা, উত্তর কলকাতা, হাবড়া, বারাসাত, বেলঘরিয়া, চাম্পাহাটি, কাকদ্বীপে হেলথ হোমের আঞ্চলিক কেন্দ্র রয়েছে। এছাড়াও বালুরঘাট, বাঁকুড়া, ডোমজুড়, বেহালাতে রয়েছে প্রস্তুতি কমিটি। আরও কিছু জায়গায় হোমের আঞ্চলিক কেন্দ্র পুনর্গঠনের প্রস্তুতি চলছে।
৯. স্টুডেন্টস হেলথ হোমে কি সব অসুখের চিকিৎসা হয়?
বর্তমানে অ্যাকিউট হার্ট অ্যাটাক, চোখের অপারেশন, ডায়ালিসিস, ট্রান্সপ্লান্ট এবং নিউরো সার্জারি ছাড়া প্রায় সব অসুখের চিকিৎসা হয়। বহু প্রথিতযশা চিকিৎসক এখানে যুক্ত রয়েছেন। বাণিজ্য নয় বিজ্ঞানই শেষ কথা বলে এখানে।
১০. ‘কিন্তু গল্প নয়’ আসলে কী?
একটি পূর্ণ দৈর্ঘ্যের কাহিনী চিত্র। আক্ষরিক অর্থে না হলেও হেলথ হোমের ইতিহাসের উজ্জ্বল মুহূর্তগুলি ধরা রয়েছে এই সিনেমায়। সাথে কয়েকটি সত্য ঘটনাকে মালা গেঁথে একটি কাহিনী উপহার দিয়েছে এই চলচিত্র। সব্যসাচী চক্রবর্তী, পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, পাপিয়া
১১. স্টুডেন্টস হেলথ হোম সরকারি অনুদান বৃদ্ধির আবেদন জানাচ্ছে কেন?
স্টুডেন্টস হেলথ হোমের জন্য সরকারি অনুদানের পক্ষে লড়াই আজকের নয়। ১৯৫৯ সালে বিধানসভায় তীব্র বিতর্ক হয় এ নিয়ে। তৎকালীন বিরোধী নেতা শ্রী জ্যোতি বসু যুক্তি সাজান হেলথ হোমের
অনুদানের পক্ষে, বিপক্ষে সরকার। অবশেষে শ্রী ডাঃ বিধান চন্দ্র রায় হেলথ হোমের অনুদানের সরকারি নির্দেশনামায় স্বাক্ষর করেন ১৯৬২ তে। পরবর্তীতে ১৯৮২ তে আর একটি সরকারি সাহায্য যুক্ত হয়। ২০১০-১১ পর্যন্ত সরকারি সাহায্য বেড়েছিল হেলথ হোমের কাজের পরিধির সাথে সমানুপাতে। কিন্তু ২০১২-১৩ অর্থ বর্ষ থেকে সরকারি সাহায্য প্রায় বিলীন হয়ে যায়। তাই সরকারি স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর পরিপূরক হিসেবে ছাত্রছাত্রীদের স্বাস্থ্যের জন্য নিরলস কাজ করে আসা স্টুডেন্টস হেলথ হোমের জন্য সরকারি অনুদান বছরে দু কোটি টাকা করার আবেদন।
১২. স্টুডেন্টস হেলথ হোম পরিচালনা করেন কারা?
স্টুডেন্টস হেলথ হোম পরিচালনায় ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি শিক্ষক শিক্ষিকা, চিকিৎসক, সমাজকর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। প্রতিটি সদস্য বিদ্যালয় থেকে ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক শিক্ষিকাদের প্রতিনিধি এবং বিদ্যালয় প্রধানদের নিয়ে নির্বাচিত কমিটি আঞ্চলিক কেন্দ্র পরিচালনা করেন। সেই কমিটিতে চিকিৎসক, সমাজকর্মী, হোমের অ্যাসোসিয়েট সদস্য ও কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি যুক্ত থাকেন। একইভাবে কেন্দ্রীয় স্তরেও নির্বাচিত ওয়ার্কিং কমিটি ও কেন্দ্রীয় সম্পাদকমন্ডলী হেলথ হোম পরিচালনা করেন। প্রতিটি স্তরেই মূলত নির্বাচিত কমিটির সদস্যরা স্বেচ্ছা শ্রম ও সমাজসেবার মনোভাব থেকে এই দায়িত্ব পালন করেন। হেলথ হোমের কেন্দ্রীয় হাসপাতাল পরিচালনায় নগণ্য সংখ্যক কর্মী স্বল্প বেতনে পেশাদার হিসেবে নিযুক্ত।
১৩. হোমের উৎসব কেন করা হয়?
বহুকাল ধরে প্রচলিত হোমের উৎসব ছাত্রছাত্রীদের যত্নে একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি। প্রতি বছর রাজ্য জুড়ে ভেদাভেদহীন বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে ও আনন্দময় পরিসরে সৃজনশীলতার বহিঃপ্রকাশের সুযোগ করে দেয় উৎসব। দলগত কিংবা ব্যক্তিগত নৈপুণ্য, ক্রীড়া হোক কিংবা সাংস্কৃতিক কর্মসূচি সব ক্ষেত্রেই শহরের সাথে প্রত্যন্ত গ্রামের প্রান্তিক পরিবারের শিশু কিশোর কিশোরীকে একই মঞ্চে মেলবন্ধন ঘটায়।
১৪. স্টুডেন্টস হেলথ হোম কী কী কাজ করে?
আধুনিক হাসপাতালে ছাত্রছাত্রীদের চিকিৎসা
প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্য স্বেচ্ছা রক্তদান মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নের কর্মসূচি
লাইফ স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম ‘হাতে কলমে’ স্বাস্থ্য পরীক্ষা প্রশিক্ষণ সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সচেতনতা মূলক পত্রিকা প্রকাশ করা
প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানো চিকিৎসক, শিক্ষক শিক্ষিকা সহ সেবামূলক কাজে যুক্ত মানুষদের সম্মানিত করা এবং সম্মান রক্ষা করা ন্যায্য মূল্যের বিনিময়ে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা থ্যালাসেমিয়া রোগ প্রতিরোধ ইত্যাদি।
১৫. স্টুডেন্টস হেলথ হোম কি রক্তদানের পথিকৃৎ?
আজকের সামাজিক রক্তদান স্টুডেন্টস হেলথ হোমের আন্দোলনের ফসল।
১৬. স্টুডেন্টস হেলথ হোমের প্রতিষ্ঠা হল কীভাবে?
‘কিন্তু গল্প নয়’ সিনেমায় এর উত্তর রয়েছে।
১৭. ব্রাদারহুড সংগ্রহ কী?
স্টুডেন্টস হেলথ হোমের বিপুল ব্যয়ভার বহন করতে সর্বজনীন সদস্য চাঁদার বাইরে ব্রাদারহুড কালেকশন হয় প্রতিবছর। কোনো একজন ছাত্র বা ছাত্রী অন্য একজন অচেনা অজানা ছাত্র বা ছাত্রীর চিকিৎসার জন্য মানুষের কাছে হাত পাতে, অর্থ সংগ্রহ করে। সেই অর্থের হিসেব লেখা থাকে একটি কার্ডে। অর্থ সংগ্রহ শেষ হলে ওই কার্ডের হিসেব সম্বলিত অংশটি টাকা সমেত জমা করে সে স্কুলে প্রধান শিক্ষক শিক্ষিকা অথবা হেলথ হোমের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক বা শিক্ষিকার কাছে। তিনি ওই ছাত্র বা ছাত্রীকে শংসাপত্র দেন। এরপর তিনি স্কুলের সবার টাকা ও কার্ড একত্রিত করে হেলথ হোমের আঞ্চলিক কেন্দ্রে জমা করেন। প্রতিটি কার্ডের হিসেব নিরীক্ষণ হয়। সুতরাং ছাত্রছাত্রীদের শুধু মানুষের পাশে দাঁড়ানো নয়, নিঃস্বার্থ ও সৎভাবে কাজের প্রথম পাঠ দেয় ব্রাদারহুড সংগ্রহ। অনেক আগে এই কাজটি হত মাটির ভাঁড়ে অর্থ সংগ্রহের মাধ্যমে।
১৮. স্টুডেন্টস হেলথ হোমের আজীবন সদস্য এবং সাধারণ সদস্য হওয়া যায় কীভাবে?
হোমের কর্মকান্ডে ধারাবাহিক অংশগ্রহণকারীরা এই দুই ধরণের সদস্যপদের জন্য নির্দিষ্ট ফর্মে আবেদন করেন এবং নির্ধারিত টাকা জমা দিতে হয়। সদস্যপদ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয় হেলথ হোমের কার্যকরী সমিতির সভায়। তবে এই সদস্য পদ সাম্মানিক ও সাংগঠনিক মাত্র। চিকিৎসা পরিসেবায় এর মাধ্যমে বাড়তি কোনো সুবিধা পাওয়া যায় না। সাধারণ সদস্যপদ প্রতিবছর পুনঃনবীকরণ করতে হয়।
১৯. সর্বজনীন সদস্যপদ পুনঃনবীকরণের নিয়ম কী?
প্রতিটি শিক্ষাবর্ষে ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যা পিছু ১০ টাকা হিসেবে প্রতিষ্ঠানের মোট টাকা নগদ বা চেকের মাধ্যমে স্টুডেন্টস হেলথ হোমের সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক কেন্দ্রে বা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জমা করতে হবে এবং রসিদ সংগ্রহ করতে হবে।
২০. ছাত্রছাত্রী অসুস্থ হলে কীভাবে স্টুডেন্টস হেলথ হোমের চিকিৎসা পায়?
আঞ্চলিক কেন্দ্রের ক্লিনিকগুলিতে সাধারণ চিকিৎসকের পরামর্শ পাওয়া যায়। এজন্য ছাত্রছাত্রীকে স্কুলের পরিচিতিপত্র নিয়ে যেতে হবে। সেখানে সদস্যপদ যাচাই করে কার্ড তৈরি করে দেবেন হেলথ হোমের স্বেচ্ছাসেবক বা কর্মীরা। এরপর সাধারণ বা প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক (রা) পরীক্ষা করবেন। প্রতিদিন ৫ টাকা খরচে সেখান থেকে ওষুধ দেওয়া হবে। পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য নির্ধারিত নূন্যতম ব্যয়ভার ছাত্রছাত্রীদের বহন করতে হবে। হেলথ হোমের চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনের বাইরে কোনো ওষুধপত্র বা পরীক্ষা নিরীক্ষার দায়িত্ব স্টুডেন্টস হেলথ হোম বহন করে না। যদি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শের প্রয়োজন হয় তবে রেফারেল কার্ড করে মূলকেন্দ্রে বা নিকটবর্তী কেন্দ্রে পাঠানো হয় ছাত্রছাত্রীকে।
২১. রাতের বেলা বা ছুটির দিনে অসুস্থ হলে স্টুডেন্টস হেলথ হোমে ছাত্রছাত্রীদের চিকিৎসা হবে কীভাবে?
সেক্ষেত্রে ছাত্র বা ছাত্রীকে নিকটবর্তী সরকারি স্বাস্থ্য পরিসেবার আওতায় নিয়ে আসতে হবে। সেখানে যা খরচ হবে তার উপযুক্ত প্রামাণ্য নথিপত্র হেলথ হোমের আঞ্চলিক কেন্দ্রের মাধ্যমে জমা করলে তার নির্ধারিত অংশ (হেলথ হোমে চিকিৎসা হলে যা সামান্য খরচ হত তা বাদ দিয়ে) হেলথ হোম বহন করে।
২২. স্টুডেন্টস হেলথ হোম কেন প্রয়োজন?
একটি জাতির ভবিষ্যৎ নিহিত থাকে তার ছাত্রছাত্রীদের মধ্যেই। তৃতীয় বিশ্বের দেশে টানাটানির সংসারে শুধুমাত্র তাদের স্বাস্থ্যের জন্য উৎসর্গীকৃত একটি প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। হেলথ হোম সরকারি স্বাস্থ্য পরিসেবার বিকল্প কিংবা প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, পরিপুরক মাত্র। এটা শুধু চিকিৎসার কেন্দ্র নয়, ছাত্রছাত্রীদের ভালো-মন্দ, লেখা-পড়া, শরীর-মন সবকিছুর যত্ন নেওয়া হয় একেবারে বাড়ির মতো করেই। তাই এর নামে হাসপাতাল যুক্ত নেই, আছে হোম। আজকের বাণিজ্য নির্ভর চিকিৎসা পরিসেবার ভিড়ে হেলথ হোমের ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ ন্যায্য মূল্যে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা। লাভ নয় বিজ্ঞানই হেলথ হোমে শেষ কথা বলে।
স্টুডেন্টস হেলথ হোমের পক্ষে সাধারণ সম্পাদক ডাঃ পবিত্র গোস্বামী কর্তৃক প্রকাশিত ও পান প্রিন্টার্স কলকাতা-৬ থেকে মুদ্রিত।


@freemang2001gmail-com



