‘চে’ কী একক? না। কারন– ধরমপুর জানিয়েছে বলিভিয়ার বাইরেও রণাঙ্গন ছিল এবং আছে। লালগড়ের ছোট গ্রাম শালবনী জানিয়েছে প্রতিটি দিন চে-র জন্মদিন। আমি মনে করি প্রত্যেক ছাত্র আন্দোলনের কর্মীর একবার অন্তত লালগড়, ধরমপুরে যাওয়া উচিত।
যৌথবাহিনীর রাজ্যে পৌঁছতে তখনও ৪দিন বাকি। সেদিন? ১৪ই জুন। ২০০৯। শুভেন্দু অধিকারী তখন তৃণমূলের নেতা, মমতা ব্যানার্জির ডান হাত। অভিষেক তখন ‘শিশু’।
তখন রাত। তখন ‘নিকেশ করো সিপিএম’ অভিযান চলছিল। তখন ‘মাওবাদী’দের মহামানব প্রমাণ চলছিল মিডিয়ায়। তৃণমূলকে ‘সামাজিক ফ্যাসিবাদী’ সিপিআই(এম) – র বিরুদ্ধে গনতান্ত্রিক শক্তি বলে চিহ্নিত করছিলেন কিষাণজীরা, নিজেদের ডকুমেন্টে। আরএসএস বলছিল, ‘দুঃশাসনের অবসানে’ মমতাই নেতা।
সেদিন সিপিআই(এম) – র কর্মীরা মরণপন লড়ছিলেন। সব প্রতিকূলতার মুখে চলছিল প্রতিরোধ।
১৪জন সেদিন শহীদ হয়েছিলেন। একরাতে। একটি গ্রামের ১৪জন – – ধরমপুরের শালবনী।
মাওবাদীরা আজ শীত ঘুমে। যখন বামপন্থীদের সরকার হবে তখন সেই ‘পঞ্চমবাহিনী’ ফের জাগবে। বিজেপির রাস্তা করে দিতে। ‘সততার প্রতীক’, সেদিনের মাওবাদীদের সহযোগীরা আজ স্রেফ বালি, কয়লা, চাকরি চোর – প্রমাণিত হয়েছেন। মিডিয়া? মালিক আর দালালদের কথা ছাড়ুন। সেদিন যাঁরা খবরের খোঁজ করত, করতে করতে সিপিআই(এম) – বিরোধী খবর করেছেন, তাঁরাও আজ একা রাতে, শুধু সাংবাদিকতার স্বার্থে ‘এই জমানা বদল’ – র দিন গুনছে।
দিন আসছে।
লালগড়ের যে অফিস পুড়ছিল সেদিন, আজ তার মেঝেয় শতরঞ্চি। লোক সেখানে – – মহিলা, পুরুষ। অস্ত্র কাঁধে দুদিনের যুগি ‘বাইট দিয়েছিল’ যে ধরমপুরে, তাঁর খোঁজ নেই। কিন্তু গরিবের ঝান্ডা, শালকুর ঝান্ডা কাঁধে নতুন মানুষ তৈরি। নমিনেশন দিচ্ছে ধরমপুর। বৈতা, রামগড় সর্বত্র সেই ছবি। সেই বানী – – আমাদের অন্তিম সনেট লেখে এমন মুরোদ কার আছে?
বলিভিয়ার জঙ্গল থেকে ধরমপুরের শহীদ ভূমি – – – শেষ নাহি যার, শেষ কথা বলবে?
দুঃখ আছে। মৃত্যু? আছে। প্রিয়, বীর কমরেডদের হারানোর যন্ত্রণা? থাকবে। থাকবেই। তবু?
অনন্ত জাগে….. লালগড়ে। ধরমপুরে। বিস্তৃত পশ্চিমাঞ্চলে প্রায় ৪০০জন শহীদের জল, জঙ্গল, জমিতে।
(ছবি–লালগড়ের ছোট ধানশোলায় পার্টির প্রচার চলছ
Source – sandalwood71



